জি বাংলার ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta) ধারাবাহিকের সাম্প্রতিক পর্বের গল্প নিয়েই এবার শুরু হয়েছে দর্শকদের মজার আলোচনা। তপন (ঋষির দাদুর) খুনের ঘটনা ঘিরে গল্পে তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য।
পার্কের কাছে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে তদন্তের প্রসঙ্গ। কিন্তু সেই তদন্তে পুলিশের অন্য কোনও বিভাগের আধিকারিককে তেমনভাবে দেখা না যাওয়াতেই প্রশ্ন তুলেছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের চোখে, বিশেষ অনুমতি থাকলেও উজির উপস্থিতি নিয়ে এতটাই জোর দেওয়া হয়েছে যে মনে হচ্ছে পুরো তদন্তের দায়িত্ব যেন তাঁর একার। ফলে গুরুতর খুনের মামলাতেও উজির এই একক উপস্থিতি দর্শকদের কাছে বেশ হাস্যকর লেগেছে। এই নিয়েই ধারাবাহিকের গল্পকে ব্যঙ্গ করে নানা মন্তব্য ভেসে উঠেছে।
দর্শকদের মতে, উজির হাতে যেন একসঙ্গে তদন্তের সব দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। ফোন খোঁজা থেকে শুরু করে ঘটনাস্থলে পৌঁছনো, সবকিছুতেই তাঁকেই সামনে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে তপন দাদুর ফোন এখনও উদ্ধার না হলেও সেই নম্বর থেকেই সামনে এসেছে নতুন রহস্য। জানা গিয়েছে, তপন দাদু নিজের হারানো যৌবন ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন। সেই সুযোগ নিয়েই একটি সংস্থা তাঁকে নতুন করে যৌবন ফিরে পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিল। এই ঘটনার সঙ্গে তপন দাদুর মৃত্যুর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে কৌতূহল। তবে দর্শকদের অনুমান, যৌবন ফিরিয়ে দেওয়ার সেই প্রতারণার সঙ্গে খুনের ঘটনা সরাসরি যুক্ত নাও হতে পারে।
গল্পে আরও একটি নতুন সংযোগ সামনে আসতেই রহস্য যেন আরও বেড়েছে। শুভেন্দুর মেয়ে বিদেশ থেকে কলকাতায় ফিরে এসেছে ঠিক এই ঘটনার সময়েই। ফলে তাঁর আগমন এবং তপন দাদুর মৃত্যুর মধ্যে কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। অন্যদিকে এই ঘটনার সূত্র ধরে নিশার হাতেও এসে গিয়েছে নতুন একটি বিষয়।সেই পরিবারের সদস্যরাও চাইছে, নিশা যেন তাঁদের পাশে দাঁড়ায়। ফলে খুনের তদন্তের পাশাপাশি পারিবারিক সমীকরণও গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী দিনে এই সমস্ত ঘটনা কীভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেটাই এখন দেখার।
তবে গল্পের এই তদন্ত পর্ব নিয়েই সবচেয়ে বেশি মজা করছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, খুনের মতো গুরুতর ঘটনায় যেখানে একাধিক বিভাগের পুলিশের উপস্থিতি স্বাভাবিক, সেখানে উজিই যেন সব দায়িত্ব সামলে নিচ্ছেন। তদন্তের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন আধিকারিকের বদলে একই চরিত্রকে বারবার সামনে আনার বিষয়টিকে তাঁরা ব্যঙ্গ করছেন। কারও মতে, ধারাবাহিকের গল্পে উজি যেন একাই পুরো পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব নিয়ে ফেলেছেন। তাই তদন্তে কে কোন বিভাগের, সেই হিসাবও যেন আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। উজি শেষ পর্যন্ত রহস্যের সমাধান করতে পারলেই যেন দর্শকদের দায়িত্ব শেষ। এই ধরনের মন্তব্যেই স্পষ্ট, গল্পের এই অংশ দর্শকদের একাংশের কাছে যেমন কৌতূহলের, তেমনই হাসিঠাট্টারও কারণ হয়ে উঠেছে।
এখন অবশ্য আসল প্রশ্ন, তপন দাদুর মৃত্যুর পিছনে প্রকৃত রহস্যটা কী? যে সংস্থা তাঁকে হারানো যৌবন ফিরিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিল, তাদের সঙ্গে কি এই খুনের কোনও যোগ রয়েছে? নাকি পুরো ঘটনাটির পিছনে রয়েছে আরও অন্য কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী? শুভেন্দুর মেয়ের কলকাতায় ফেরার সময়ের সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক আছে কি না, সেটাও বড় প্রশ্ন। তার সঙ্গে নিশার নতুন করে জড়িয়ে পড়া ঘটনাটিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেও নজর থাকবে। আর সবশেষে, উজি কি সত্যিই একাই এই রহস্যের জট খুলতে পারবে? নাকি তদন্ত যত এগোবে, ততই সামনে আসবে আরও বড় কোনও রহস্য?
