জি বাংলার ‘কমলা নিবাস’-এর (kamala Nibas) সাম্প্রতিক পর্বে আদিত্য ও রোহিনীর সম্পর্কেও নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। রোহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আদিত্যকে সে ভালো বন্ধু হিসেবেই দেখে, কিন্তু সেই জায়গা থেকে তাকে স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই এই বিয়েতে তারও সম্মতি নেই। অন্যদিকে আদিত্যও নিজের মনের কথা সেভাবে প্রকাশ করতে পারছে না। ফলে দু’জনেরই অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পরিবার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটাই মেনে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
দর্শকদের একাংশের কাছে এই বিষয়টিই বেশ অবাক করার মতো লাগছে। তাঁদের মতে, দু’জন মানুষ যখন নিজেরাই জানে যে তারা এই বিয়ে চায় না, তখন অন্তত নিজেদের পরিবারের সামনে সেটা পরিষ্কার করে বলা উচিত। কিন্তু আদিত্য এবং রোহিনী দু’জনেই যেন মুখ বন্ধ করে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে। কেউই দৃঢ়ভাবে বলছে না যে এই বিয়ে তারা করতে চায় না। ফলে দর্শকদের মধ্যে এমন মজার মন্তব্যও দেখা যাচ্ছে যে, দু’জনের মনের কথা এক হলেও মুখে শুধু ‘আচ্ছা’! পরিবার যা বলছে, সেটাই যেন শেষ কথা।
তবে রোহিনীর বর্তমান বক্তব্য নিয়েই দর্শকদের মধ্যে আরও একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন সে আদিত্যকে শুধুই বন্ধু হিসেবে দেখছে এবং সেই কারণেই তাকে বিয়ে করতে রাজি নয়। কিন্তু দর্শকদের প্রশ্ন, যদি কোনওভাবে এই বিয়েটা শেষ পর্যন্ত না হয়, তাহলে কি পরবর্তীতে রোহিনীর মন বদলাবে? কারণ ধারাবাহিকের গল্পে সম্পর্কের সমীকরণ যেভাবে বারবার পাল্টাচ্ছে, তাতে অনেকে মনে করছেন আজ যে মানুষটিকে শুধু বন্ধু বলা হচ্ছে, কাল তাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য রোহিনী অন্যরকম কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এমনকি কিছু দর্শক বেশ তীব্রভাবেই ভবিষ্যতের গল্প নিয়ে নিজেদের আশঙ্কা জানাচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, রোহিনী যদি পরবর্তীতে আদিত্যকে স্বামী হিসেবে পেতে চায়, তাহলে সেই চাওয়া পূরণ করতে গিয়ে সে অত্যন্ত ভুল বা নিন্দনীয় কোনও পথ বেছে নেবে না তো? সম্রাটের মতো চরম পর্যায়ের কোনও কাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার কথাও কেউ কেউ তুলছেন। যদিও এখনই রোহিনীর ভবিষ্যৎ আচরণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না, তবু তার বর্তমান সিদ্ধান্ত এবং পরিস্থিতি দর্শকদের মনে এমন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
আরও পড়ুনঃ ৪৭ বছরের সঙ্গ ছিন্ন, চিরবিদায় নিয়েছেন ‘মা মাসি কিচেন’-এর মেসোমশাই! কী কারণে প্রয়াত হলেন সবার প্রিয় মেসোমশাই? জানালেন সুমিতা বসু
অন্যদিকে আদিত্য-রোহিনীর বিয়ে নিয়ে পরিবারের চাপও গল্পকে আরও জটিল করে তুলেছে। দু’জনের ব্যক্তিগত ইচ্ছার সঙ্গে পরিবারের প্রত্যাশার সংঘাত থাকলেও তারা এখনও সেই সংঘাতের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে না। ফলে দর্শকদের চোখে এই জুটি এখন এমন এক পরিস্থিতিতে আটকে আছে, যেখানে বিয়ে দু’জনেই চাইছে না, অথচ মুখ খুলতেও পারছে না। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত আদিত্য ও রোহিনী নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নিতে পারে কি না, নাকি পরিবারের চাপে এমন একটি সম্পর্কেই জড়িয়ে পড়বে যার শুরুটাই অনিচ্ছা দিয়ে।
