বিনোদন জগতের তারকাদের ঝলমলে জীবনের আড়ালেও লুকিয়ে থাকে নানা দুঃখ, কষ্ট, অভিমান আর না-বলা গল্প। পর্দায় যাঁদের হাসিমুখে দেখা যায়, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের অনেক লড়াই সাধারণ মানুষের অজানাই থেকে যায়। সাফল্যের পাশাপাশি কঠিন সময়, সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা ব্যক্তিগত যন্ত্রণা সবকিছু মিলিয়েই তৈরি হয় একজন শিল্পীর জীবন। সম্প্রতি নিজের জীবন নিয়ে এমনই কিছু অজানা অনুভূতি এবং উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী মল্লিকা ব্যানার্জী।
অভিনেত্রী মল্লিকা ব্যানার্জী বরাবরই নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে চান না। তবে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। মল্লিকার কথায়, তাঁর জীবন সম্পর্কে অনেকেই অনেক কিছু জানেন। কিন্তু তাঁর জীবনের সিংহভাগটাই মানুষের অজানা। আর সেই না-বলা গল্পগুলোর নীরব সাক্ষী তাঁর বালিশ। তাঁর কথায়, কত রাতের চোখের জল সেই বালিশ মুছেছে, তা একমাত্র বালিশই জানে।
মল্লিকা মনে করেন, জীবনের প্রতিটি দুঃখকে শুধুমাত্র দুঃখ হিসেবে দেখলে চলবে না। কিছু কিছু ব্যথা মানুষকে বদলে দেয়, আরও শক্ত করে তোলে। যেমন জিম করার পর শরীরে যে ব্যথা হয়, সেটি যেমন শরীরকে গড়ে তোলার অংশ, তেমনই জীবনের কিছু কষ্টও মানুষকে শুধরে দেয়। তাঁর বিশ্বাস, কঠিন সময় না এলে হয়তো ভালো সময়ের মূল্যও বোঝা যেত না। নিজের জীবনে বারবার ঠকেছেন বলেও জানান অভিনেত্রী। তবে সেই অভিজ্ঞতাগুলিই তাঁকে আজকের মল্লিকা হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ‘আপনারও তো মেয়ে আছে!’ তনুশ্রীর সঙ্গে এমন আচরণ কেন? ভরতকে কড়া ধমক সৌরভের, প্রশ্নের মুখে অন্যরাও
জীবনের শিক্ষা প্রসঙ্গে বাবার একটি কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন মল্লিকা। ছোটবেলা থেকেই তাঁর বাবা বলতেন, রাস্তায় বেরোলে ঠকতে হবে, কিন্তু তাই বলে মানুষকে বিশ্বাস করা ছেড়ে দেওয়া যাবে না। কারণ সবাই একরকম নয়। কেউ বিপদে পড়া মানুষকে দেখেও চলে যেতে পারে, আবার কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই হতাশ হয়ে মানুষের উপর থেকে বিশ্বাস হারানো উচিত নয়। মা হওয়ার যাত্রাকেও অত্যন্ত কষ্টকর বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে সন্তানকে প্রথমবার কোলে নেওয়ার মুহূর্তে একজন মা সমস্ত দুঃখ ভুলে যান। তাঁর ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই ঘটেছে।
অন্যদিকে, মেয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও আবেগঘন কথা বলেছেন অভিনেত্রী। মল্লিকার কথায়, ছোটবেলা থেকেই তিনি মেয়ের জন্য অনেকটা বাবার মতো দায়িত্ব পালন করেছেন, আর তাঁর মা ছিলেন মেয়ের কাছে মায়ের ভূমিকার মতো। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে যেন সেই সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যায়। তাঁর মেয়ে তখন তাঁর জন্য বাবার মতো দায়িত্ব পালন করেছে। একজন বাবা যেমন মেয়ের বিয়েতে চার হাত এক করার দায়িত্ব নেন, তেমনই মেয়েও তাঁর বিয়ের ব্যবস্থা করেছে, এমনকী বিয়ের পিঁড়ি পর্যন্ত ধরেছে। মল্লিকার মতে, একজন সন্তানের কাছ থেকে এর চেয়ে বড় পাওনা আর কিছু হতে পারে না।
