‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছে নানা ঝামেলা। তবে এবার এক মহিলা প্রতিযোগীর সঙ্গে কথা বলার ধরন নিয়ে সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়লেন ক্যাপ্টেন ভরত কল। উইকেন্ডের ‘দাদার দরবার’-এ সেই ঘটনার প্রসঙ্গ উঠতেই ভরতের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। শুধু ভরত নন, সেই সময় নীরব থাকা অন্য প্রতিযোগীদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত মূল ঘর এবং ডাগআউটের দায়িত্ব নিয়ে। তনুশ্রী-সহ কয়েক জনকে মূল ঘরের বাইরে পাঠানো হয়েছিল। এরপর তনুশ্রী জানান, তিনি যেহেতু মূল ঘরে নেই, তাই সেখানকার কাজ করবেন কি না তা নিয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে। এই বিষয়টি নিয়েই তাঁর সঙ্গে ভরতের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। অভিযোগ, তনুশ্রীকে বাথরুম পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি কথা বলার সময় এমন কিছু মন্তব্য করেন ভরত, যাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই আচরণ নিয়েই ‘দাদার দরবারে’ সরব হন সৌরভ। ভরতকে উদ্দেশ করে তিনি মনে করিয়ে দেন, তাঁর নিজেরও একটি মেয়ে রয়েছে, তনুশ্রীরও মেয়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন মহিলার সঙ্গে এই ধরনের ভাষায় কথা বলা কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। সৌরভের মতে, এই ধরনের ঘটনা দর্শকদের কাছে কী বার্তা দিচ্ছে, সেটাও ভাবা প্রয়োজন। তাঁর কড়া মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়েন ভরত।
তবে সৌরভের প্রশ্ন শুধু ভরতকে ঘিরে ছিল না। ঘটনার সময় কেন কেউ সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করলেন না, তা নিয়েও তিনি জানতে চান। বিশেষ করে মনামী ঘোষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মনামী জানান, সেই মুহূর্তে পরিস্থিতির গুরুত্ব পুরোপুরি বুঝতে পারেননি, পরে অবশ্য ভরতকে তাঁর ভাষা নিয়ে আপত্তির কথা বলেছিলেন। সৃজলাও জানান, পরে তিনি ভরতকে বুঝিয়েছিলেন যে ওইভাবে কথা বলা উচিত হয়নি।
এদিকে তনুশ্রী জানিয়েছেন, শুরু থেকে ভরতের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত কোনও রাগ ছিল না। ভালোভাবে কথা বললে তিনি নির্দেশ মেনেই কাজ করতে রাজি ছিলেন। কিন্তু অপমানজনক আচরণ তিনি মেনে নেবেন না বলেও স্পষ্ট করেন। তাঁর দাবি, ঝামেলার সময় কেউ পাশে দাঁড়াননি, পরে অবশ্য অনেকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত ‘দাদার দরবারে’ নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চান ভরত।
