জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“হিরোইন হতে চাইনি, অভিনেত্রী হতে চেয়েছি…কথা বলতেও দু’বার ভাবতে হয়!” পরপর চরিত্র বদলে ফের পর্দায় অদিতি ঘোষ! ‘রোশনাই’-তে নায়কের বোন, ‘পরিণীতা’য় রাজন্যা হয়ে দর্শকের মন জিতে এবার ‘সতীপীঠ কালীঘাট’-এ নতুন সফর! ভারী গয়না-বেনারসির আড়ালে কতটা কঠিন ছিল নতুন চরিত্রে নিজেকে ভাঙা? এটিই প্রথম নয়, এর আগেও কোন আধ্যাত্মিক ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি?

অভিনয় জগতে অনেকেই ছোট্ট চরিত্র, পার্শ্বচরিত্র কিংবা কয়েকদিনের ট্র্যাক দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। তারপর ধীরে ধীরে নিজেদের অভিনয়, পর্দার উপস্থিতি এবং চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকের মনে জায়গা করে নেন। সেই পথেই একের পর এক চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরছেন অভিনেত্রী অদিতি ঘোষ। ‘রোশনাই’-তে নায়কের (শন বন্দ্যোপাধ্যায়) বোনের চরিত্রের ব্যাপক জনপ্রিয়তার পর ‘পরিণীতা’-য় রাজন্যা হয়ে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। এবার জি বাংলার সদ্য শুরু হওয়া ‘সতীপীঠ কালীঘাট’ ধারাবাহিকে সম্পূর্ণ অন্য অবতারে ফিরেছেন অদিতি। এখানে তিনি জিয়া গঙ্গোপাধ্যায় অর্থাৎ অভিনেতা ইন্দ্রজিৎ মজুমদারের অনস্ক্রিন বোনের চরিত্রে অভিনয় করছেন। বাস্তবতার জগৎ থেকে একেবারে পৌরাণিক আখ্যান, এই রূপান্তর কতটা প্রভাব ফেলল তার মানে? কতটা তাঁর চরিত্র প্রভাব ফেলতে পারবে দর্শকদের মনে? সম্প্রতি টলি টেলস নিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানালেন তাঁর অভিজ্ঞতা।

প্রশ্ন: পৌরাণিক চরিত্রে সুযোগ পেয়ে কেমন লাগছে? ‘সতীপীঠ কালীঘাট’-এর মতো পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক আবহের ধারাবাহিকে কাজের সুযোগ পেয়ে প্রথম প্রতিক্রিয়া কী ছিল, এই প্রশ্নের উত্তরে অদিতি জানান, পৌরাণিক ধারায় তাঁর কাজ এই প্রথম নয়। বরং তাঁর অভিনয়জীবনের শুরুই হয়েছিল পৌরাণিক কাহিনির হাত ধরে। জি বাংলার ‘জয় বাবা লোকনাথ’ ধারাবাহিকে প্রায় ১০ দিনের একটি ট্র্যাকে অভিনয় করেই পথচলা শুরু করেছিলেন তিনি। তবে তখন এতটাই ছোট ছিলেন যে বর্তমানে সেই কাজের জন্য তাঁকে অনেকেই চিনতে পারেন না। এরপর একাধিক প্রজেক্টে কাজ করার পাশাপাশি ওয়েব সিরিজ ‘শাখা প্রশাখা ২’-তেও অভিনয় করেছেন। তাই দীর্ঘদিন পর আবার পৌরাণিক চরিত্রে ফেরার সুযোগ পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই তিনি খুশি। অদিতির কথায়, তিনি কখনও চুপচাপ বসে থাকতে পছন্দ করেন না। শুটিং না থাকলেও সহ-অভিনেতা বা বন্ধুদের সঙ্গে রিল, কনটেন্ট, ফটোশুট কিংবা বিভিন্ন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

প্রশ্ন: রাজন্যার থেকে কতটা আলাদা নতুন চরিত্র? ‘পরিণীতা’-র রাজন্যা চরিত্রটি অদিতির কেরিয়ারে অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র। সেই চরিত্রের জন্য দর্শকের ভালোবাসা, উপহার এমনকী ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে আসার অভিজ্ঞতাও হয়েছে তাঁর। কিন্তু ‘সতীপীঠ কালীঘাট’-এর চরিত্রটি সম্পূর্ণ আলাদা। অভিনেত্রীর কথায়, নতুন চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিতে তাঁর বেশ কিছুটা সময় লেগেছে। কারণ এই চরিত্রের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরা হচ্ছে অতীত সময়ের এক নারীর পরাধীন জীবনযাপন। পর্দার আড়ালে থাকা, নিজের ইচ্ছামতো কথা বলতে না পারা এবং সেই সময়কার নারীদের সামাজিক অবস্থানকে অনুভব করেই চরিত্রের মধ্যে ঢুকতে হয়েছে তাঁকে। এমনকী কথা বলার আগেও দু’বার ভাবতে হচ্ছে, এমনটাই জানিয়েছেন অদিতি।

প্রশ্ন: ভারী গয়না, বেনারসি কতটা কঠিন শুটিং করা? সাবেকি সাজ, ভারী গয়না, নথ এবং বেনারসির লুক নিঃসন্দেহে চরিত্রটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। তবে এই লুক ক্যারি করা মোটেই সহজ নয় বলে জানিয়েছেন অদিতি। বিশেষ করে আউটডোর শুটিংয়ের সময় এত ভারী পোশাক ও গয়না পরে কাজ করা যথেষ্ট কষ্টকর। তবে সেই কষ্টকে তিনি কাজের অংশ হিসেবেই দেখছেন। অভিনেত্রীর বক্তব্য, গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডকে বাইরে থেকে যতটা চাকচিক্যময় মনে হয়, বাস্তবে তার পিছনে যথেষ্ট পরিশ্রম রয়েছে। কিন্তু অভিনয়কে ভালোবেসেই এই পেশায় এসেছেন, তাই পরিশ্রমকে তিনি সেভাবেই গ্রহণ করছেন।

প্রশ্ন: পরিণীতার পর তেমন গ্যাপ না নিয়েই আবার নতুন ধারাবাহিকে ফেরা। দর্শক তোমাকে রাজন্যা বা আরণ্যকের বোন হিসেবেই বেশি চেনে। এবার নতুন রূপে দর্শক তোমাকে কীভাবে নেবে বলে মনে হয়? কোনও প্রেসার ফিল করছো? নতুন ধারাবাহিকে ফেরার ক্ষেত্রে কোনও চাপ অনুভব করছেন কি না, সেই প্রশ্নে অদিতির উত্তর বেশ ইতিবাচক। তাঁর বিশ্বাস, দর্শক আগেও তাঁকে ভালোবাসা দিয়েছেন, আগামী দিনেও দেবেন। অতীতে একাধিক অডিশন দেওয়ার পর সুযোগ হাতছাড়া হয়ে মন খারাপ হলেও এখন তিনি মনে করেন, “ভগবান যা করে ভালোর জন্যই করে।” আর সেই কারণেই কাজের মধ্যে থাকতে চান তিনি। ধারাবাহিকের শুটিং না থাকলেও কনটেন্ট শুট, ফটোশুট কিংবা ব্র্যান্ড শুট নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তিনি কোনও গ্যাপ নিতে চান না। ভালো কাজ আসার হলে কাজের মধ্যেই থেকেও তা আসবে, এই বিশ্বাসেই এগিয়ে চলেছেন অভিনেত্রী।

প্রশ্ন: ইন্দ্রজিৎ মজুমদারের সঙ্গে আগে থেকেই আলাপ ছিল, এই সেটেই প্রথম বন্ডিং হলো? আর ভবিষ্যতে কোন ধরনের চরিত্রে নিজেকে দেখতে চাও, এই পৌরাণিক ধারার পর কি লিড রোলে দেখার ইচ্ছে আছে? ইন্দ্রজিৎ মজুমদারের সঙ্গে অদিতির পরিচয় অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সাল থেকেই তাঁদের পরিচয়, স্টার জলসার ‘বৌমা একঘর’ ধারাবাহিকে অভিনেত্রী নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করাকালীন তার ভাসুরের চরিত্রে ছিলেন অভিনেতা। এমনকী ‘পরিণীতা’-র সময়ও ইন্দ্রজিৎ তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন যেখানে অফিসের সিইও ছিলেন তিনি। অদিতি জানান, সেই সময় তিনি একেবারেই নতুন ছিলেন এবং ক্যামেরার সামনে কাজ করার ক্ষেত্রে ইন্দ্রজিৎ তাঁকে যথেষ্ট সাহায্য করেছিলেন। শুধু তাঁকেই নয়, নতুনদের প্রত্যেককেই ইন্দ্রজিৎ সাহায্য করেন বলেও প্রশংসা করেছেন অভিনেত্রী।

তাই এবার ‘সতীপীঠ কালীঘাট’-এ অনস্ক্রিন ভাই-বোন হিসেবে তাঁদের সম্পর্ক আরও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভবিষ্যতে লিড চরিত্রে দেখা যাওয়ার ইচ্ছে আছে কি না, সেই প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অদিতি। তাঁর দাবি, তিনি কখনও শুধুমাত্র ‘হিরোইন’ হওয়ার পিছনে ছোটেননি; বরং নিজেকে একজন অভিনেত্রী হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। প্রথম দিকে দুটি লিড প্রজেক্টের জন্য নির্বাচিত হলেও দুর্ভাগ্যবশত সেগুলি শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায়। তবে তাতে হতাশ নন তিনি। তাঁর কাছে চরিত্র ছোট না বড়, সেটাই মূল বিষয় নয় ভালো প্রজেক্টে কাজ করাটাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যতে ভালো লিড চরিত্রের সুযোগ এলে অবশ্যই করবেন, তবে সেই দায়িত্ব সামলানোর মতো পরিশ্রম করতে পারবেন কি না, সেটাও নিজেকে প্রশ্ন করেন বলে জানিয়েছেন অদিতি। সব মিলিয়ে, রাজন্যা থেকে এবার ‘সতীপীঠ কালীঘাট’-এর একেবারে ভিন্ন সময়ের, ভিন্ন মানসিকতার নারী চরিত্র অদিতি ঘোষের এই প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে তাঁর অভিনয়জীবনের আরও একটি নতুন অধ্যায়। দর্শকের ভালোবাসাকে সঙ্গী করেই চরিত্র থেকে চরিত্রে নিজেকে ভাঙতে এবং নতুনভাবে গড়তে চান তিনি। টলি টেলস-এর তরফে নেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের কাজ, নতুন চরিত্র, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে এভাবেই খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page