জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) গল্পে একের পর এক রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। সম্রাটের আচরণ যত সামনে আসছে, ততই বোঝা যাচ্ছে ঝিনুককে নিজের কাছে আটকে রাখার জন্য সে স্বাভাবিকতার সীমা পেরিয়ে যাচ্ছে। গতকালের পর্বে ঝিনুককে কোথাও যেতে না দেওয়ার জন্য নিজের হাতের সঙ্গে তার হাত কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখে সম্রাট। এমন আচরণে ঝিনুক যেমন চমকে যায়, তেমনই সম্রাটের মানসিক অবস্থাও তার কাছে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, সম্রাটের আসল পরিচয় এবং অতীতের ঘটনা নিয়ে যে রহস্য তৈরি হয়েছে, সেটিও ধীরে ধীরে নতুন দিকে এগোচ্ছে।
সম্রাটের গোপন কথা জানার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছিল রাজুর সামনে। সম্রাটের ঘরে বাম খুঁজতে গিয়ে রাজু এমন কিছু পুরনো ছবি দেখতে যাচ্ছিল, যেগুলির সঙ্গে সম্রাটের ছোটবেলার গুরুত্বপূর্ণ রহস্য জড়িয়ে রয়েছে। শেষ মুহূর্তে রাজুর চোখে সেই ছবিগুলি ধরা পড়েনি ঠিকই, কিন্তু অল্পের জন্য বেঁচে যায় সম্রাট। কারণ ছবিগুলি রাজু একবার দেখে ফেললে সম্রাটের অতীত সম্পর্কে বড় কোনও সূত্র সামনে চলে আসতে পারত। এদিকে ঠাম্মিও কিন্তু চুপ করে নেই। তাঁর তীক্ষ্ণ নজর ইতিমধ্যেই সম্রাটের উদ্দেশ্য ধরে ফেলেছে। সম্রাটও বুঝে গিয়েছে যে ঠাম্মি তার ওপর নজর রাখছেন। তাই নিজের গোপন সত্য প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে এবার ঠাম্মির নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই সম্রাটকে ঘিরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সামনে আসছে। রণদের ব্যবসার মিটিং এবার হতে চলেছে সম্রাটের সঙ্গে। শ্রাবণী যে কোম্পানিটিকে বেছে নিয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত রণ কীভাবে নেয় এবং সম্রাটের সঙ্গে এই ব্যবসায়িক যোগাযোগের পর পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটাই এখন গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ব্যক্তিগত জীবনে ঝিনুককে নিয়ে সম্রাটের অস্বাভাবিক আচরণের পাশাপাশি ব্যবসার জগতেও তার সঙ্গে রণদের যোগ তৈরি হওয়ায় পরবর্তী পর্বে একাধিক চরিত্রের গল্প একই জায়গায় এসে মিশতে পারে।
অন্যদিকে জন্মাষ্টমীর আবহে পল্লবীদের বাড়িতেও অন্যরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়। জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে আদি সেখানে হাজির হলে পল্লবীর আচরণে অস্বস্তি এবং লুকোনো লজ্জা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আবার গুহ বাড়ির ভিতরে শান্তনুর মাথায় ঢুকে যায় বড়সড় ভুল চিন্তা। সে জানতে পারে, তার দাদা বাড়িতে তিন লক্ষ টাকা রেখে দিয়েছে। সেই টাকা চোখে পড়ার পর থেকেই চুরি করার পরিকল্পনা করতে শুরু করে শান্তনু। তবে গল্পের অন্যদিকে রাজু নিজের কাজের জন্য প্রশংসা পাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটায়। দোকানে প্রতারণা করতে আসা এক ব্যক্তিকে ধরে মালিকের টাকা উদ্ধার করে দেয় সে। রাজুর এমন সাহসী কাজ দেখে ওই মেয়েটির তার প্রতি আগ্রহও আরও বেড়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ ‘আশাজি বাবার জন্য…’, লতা-আশার সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত ধারণা কতটা সত্যি? প্রয়াত গায়িকাকে মনে করে কোন পুরনো স্মৃতি শোনালেন অন্তরা চৌধুরী?
এরপর দেখা যায়, জন্মাষ্টমীর পুজো চলাকালীন গুহ বাড়িতে ঘটে গেল আরও বড় ঘটনা। দাদা বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে শান্তনু সেই তিন লক্ষ টাকা সরিয়ে ফেলল! বিষয়টি জানতে পেরে সমীর প্রচণ্ড রেগে যায়। কিন্তু টাকা কে নিয়েছে, সেই আসল সত্য কি সমীর বুঝতে পারবে? অন্যদিকে সম্রাটের পুরনো ছবি নিয়ে রাজুর সন্দেহ আবার জাগবে কি না, ঠাম্মির নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে এবং রণদের সঙ্গে সম্রাটের ব্যবসায়িক মিটিং কী নতুন মোড় আনবে? সব মিলিয়ে ‘কমলা নিবাস’-এর পরের পর্বে একাধিক প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অপেক্ষা থাকছে।
