জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘আশাজি বাবার জন্য…’, লতা-আশার সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত ধারণা কতটা সত্যি? প্রয়াত গায়িকাকে মনে করে কোন পুরনো স্মৃতি শোনালেন অন্তরা চৌধুরী?

কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সঙ্গীতমহল। তাঁর সঙ্গে বহু শিল্পীরই রয়েছে নানা স্মৃতি। সেই তালিকায় রয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার সলিল চৌধুরীর কন্যা অন্তরা চৌধুরীও। আশাজিকে ঘিরে নিজের ছোটবেলার একাধিক স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলের সম্পর্ক নিয়েও প্রচলিত কিছু ধারণার প্রসঙ্গে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন অন্তরা।

অন্তরার কথায়, তাঁর বাবা সলিল চৌধুরীর সঙ্গে লতা মঙ্গেশকরের দীর্ঘদিনের পেশাগত সম্পর্ক ছিল। তাই বাবার সুরে লতাজির বহু গান থাকলেও আশাজির কণ্ঠে কোনও গান রেকর্ড হয়নি। কিন্তু এর পিছনে দুই বোনের সম্পর্কের কোনও তিক্ততা ছিল বলে মনে করেন না অন্তরা। তাঁর দাবি, সেই সময় বিভিন্ন মিউজ়িক কোম্পানি থেকেই শিল্পী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফরমায়েশ আসত। ফলে বাবাকেও অনেক সময় সেই সিদ্ধান্ত মেনে কাজ করতে হত।

ছোটবেলা থেকেই লতা-আশার পারস্পরিক সম্পর্কের অনেকটা কাছ থেকে দেখেছেন অন্তরা। তাই তাঁর মতে, দুই বোনের মধ্যে বিবাদ নিয়ে যে ধরনের কথা প্রচলিত রয়েছে, বাস্তবে বিষয়টি সম্ভবত ততটা জটিল ছিল না। বরং আশাজির মধ্যে বাঙালি শিল্পী, সুরকার ও গীতিকারদের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা ছিল। তারই একটি বিশেষ স্মৃতি আজও অন্তরার মনে গেঁথে রয়েছে। সলিল চৌধুরীর পেশাজীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে মুম্বইয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছিল। সেখানে আশাজি এসেছিলেন বাবার জন্য একটি হিরের আংটি নিয়ে। সেই আংটিটি অন্তরার মা যত্ন করে রেখে দিয়েছিলেন।

আশাজির সঙ্গে আরও একটি ঘটনা কখনও ভুলতে পারেননি অন্তরা। ‘বিবেকানন্দ’ ছবির একটি গানের রেকর্ডিংয়ে আশাজি এসেছিলেন সলিল চৌধুরীর সুরে গান গাইতে। সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাহুল দেব বর্মণও। দু’জনের দেখা হতেই শুরু হয়েছিল হাসিঠাট্টা ও খুনসুটি। তাঁদের মধ্যে কোনও অস্বস্তি বা দূরত্বের ছাপ অন্তরার চোখে পড়েনি। বরং সেই মুহূর্ত তাঁকে শিখিয়েছিল, সম্পর্কের সমীকরণ যেমনই হোক, পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

অন্তরার স্মৃতিতে তাই আশা ভোঁসলে শুধু একজন কিংবদন্তি গায়িকা নন, একজন শ্রদ্ধাশীল ও আন্তরিক মানুষও। তাঁর কণ্ঠের জাদু যেমন অসংখ্য শ্রোতাকে মুগ্ধ করেছে, তেমনই সহকর্মীদের প্রতি তাঁর ব্যবহারও রেখে গিয়েছে আলাদা ছাপ। আশাজির চলে যাওয়ার পর সেই পুরনো মুহূর্তগুলোই বারবার মনে পড়ছে অন্তরার। সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর মতো শিল্পীর স্মৃতি যে সুরের সঙ্গে চিরকাল বেঁচে থাকবে, তা বলাই যায়।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page