বিগ বস বাংলায় দ্বিতীয় এলিমিনেশনেই ঘটে গেল চমক। রবিবার রাতে শো থেকে বিদায় নিতে হল অভিনেত্রী ও ইনফ্লুয়েন্সার জয়িতা চট্টোপাধ্যায়কে। এবারই প্রথম দর্শকদের ভোটে কোনও প্রতিযোগী বিগ বসের ঘর থেকে বাদ পড়লেন। এর আগে অনিন্দ্য শো থেকে বেরিয়ে গেলেও সেটি ছিল নির্মাতাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু জয়িতার ক্ষেত্রে কম ভোট পাওয়াই তাঁর বিদায়ের কারণ হয়েছে। মাত্র ১৫ দিন বিগ বসের ঘরে থাকার পরই এমনভাবে বেরিয়ে যেতে হবে, তা সম্ভবত ভাবেননি জয়িতা। তাঁর আকস্মিক এলিমিনেশনের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
রবিবারের এলিমিনেশন পর্বে সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যখন নিরাপদ প্রতিযোগীদের নাম ঘোষণা করছিলেন, তখনই তৈরি হয় উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত বাদ পড়া প্রতিযোগী হিসেবে জয়িতার নাম ঘোষণা হতেই বিগ বসের ঘরে নেমে আসে মুহূর্তের নীরবতা। নিজের নাম শুনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি জয়িতা। সৌরভের সামনে দাঁড়িয়ে চোখে জল নিয়েই তিনি জানান, এত অল্প সময়ের মধ্যে তাঁকে যে ঘর ছাড়তে হবে, সেটা তিনি সত্যিই ভাবেননি। তবে মন খারাপ হলেও শেষ পর্যন্ত নিজেকে সামলে নেন অভিনেত্রী। বেরিয়ে যাওয়ার আগে বিগ বসের বোর্ডে সকলের উদ্দেশে ক্ষমা চেয়ে একটি বার্তাও লিখে যান তিনি। সেখানে তাঁর বক্তব্যের অর্থ ছিল, তাঁর কোনও ভুল হয়ে থাকলে যেন সবাই তাঁকে ক্ষমা করে এবং তিনি ঘরের সকলকেই ভালোবাসেন।
বিগ বসের ঘর থেকে বেরোনোর পরই জয়িতার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে একটি বিশেষ পোস্ট প্রকাশ্যে আসে। সেই পোস্টে সরাসরি ‘কর্মফল’ প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়, যা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পোস্টটির বক্তব্য ছিল, জয়িতার ভালো এবং দয়ালু স্বভাবের যারা সুযোগ নিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে একদিন নিজেদের কাজের ফল পেতে হবে। ঘরের মধ্যে যারা তাঁর সঙ্গে বারবার খারাপ ব্যবহার করেছেন এবং তাঁর ভালো উদ্দেশ্য বুঝতে চাননি, তাঁদেরও সেই হিসাবের বাইরে রাখা হয়নি। জয়িতার এলিমিনেশন যে হতে চলেছে, তার আভাস অবশ্য রবিবার বিকেল থেকেই মিলছিল। শনিবারের পর্বে দীপেন্দু নিরাপদ হয়ে যাওয়ার পর বটম থ্রিতে ছিলেন অ্যালেক্স, দুর্নিবার এবং জয়িতা। এরপর নতুন প্রোমো প্রকাশ্যে আসতেই দর্শকদের একাংশের ধারণা আরও জোরালো হয় যে এবার জয়িতার বিদায় হতে পারে।
জয়িতার এলিমিনেশন প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তাঁর অনুরাগী এবং দর্শকদের একাংশ। অনেকের প্রশ্ন, বিগ বসের ঘরে থাকা বেশ কয়েকজন নিষ্ক্রিয় প্রতিযোগীকে রেখে জয়িতাকেই কেন বাদ দেওয়া হল। দর্শকদের একাংশের মতে, মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যেই জয়িতা যথেষ্ট কনটেন্ট দিয়েছেন এবং নিজের জন্য আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন। দুর্নিবার সাহা এবং সায়ক চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর সোজাসাপ্টা বাদানুবাদও দর্শকদের নজর কেড়েছিল। শুধু তাই নয়, রাজবীর ঘরে আসার পর জয়িতা ও রাজবীরকে ঘিরে তৈরি হওয়া রোম্যান্টিক সমীকরণও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছিল। এর সঙ্গে নন্দিনীর প্রবেশে সেই সম্পর্কের ত্রিকোণ সমীকরণ আরও জমে উঠেছিল বলে মনে করছিলেন অনেকে। তাই এই পর্যায়ে জয়িতার বিদায় মেনে নিতে পারছেন না তাঁর অনুরাগীদের একাংশ।
আরও পড়ুনঃ ভ’য় পাচ্ছেন নাকি? জিতু পা রাখতেই রাজবীরের মেজাজ গরম! বিগ বসের ঘরে প্রথম দিনেই জমাটি টক্কর
এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় মূল প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি বিগ বসের ঘরের সমীকরণ এবং ভোটের খেলায় জয়িতা অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেন? অনেক নেটিজেনের বক্তব্য, যে প্রতিযোগীরা বিশেষ কোনও কনটেন্ট দিচ্ছেন না, তাঁদের সরিয়ে জয়িতাকে আরও কিছুদিন সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। তাঁদের মতে, জয়িতা ঘরে নিজের উপস্থিতি তৈরি করেছিলেন এবং নানা ঘটনার মাধ্যমে দর্শকদের মনোযোগও ধরে রেখেছিলেন। তাই তাঁর আচমকা বিদায়কে একাংশ পক্ষপাতিত্ব হিসেবেই দেখছেন। অন্যদিকে জয়িতার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই বিগ বস বাংলায় আসতে চলেছেন নতুন ওয়াইল্ড কার্ড প্রতিযোগী জিতু কমল। তাঁর প্রবেশে শোয়ের সমীকরণ অনেকটাই বদলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে জয়িতার বিদায় নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং নেটপাড়ার ক্ষোভ আগামী দিনে শোয়ের উপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
