বিগ বস বাংলার রাজনৈতিক টাস্ককে ঘিরে রাজবীর দে এবং সৃজলা গুহর ঝামেলা নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। টাস্ক চলাকালীন পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে নিরঞ্জন সৃজলাকে কোলে তুলে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। এরপরই সৃজলার আগের শারীরিক সমস্যা নিয়ে নানান প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন দর্শকদের একাংশ। কারও প্রশ্ন, পায়ে লিগামেন্টে ব্যথা থাকলে কীভাবে তিনি নিয়মিত হিল পরে বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন? আবার কেউ পেটে চোট লাগার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেছেন, নিরঞ্জন কোলে তুলে নেওয়ার সময় তাঁর ব্যথা হল না কেন। এই নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ লিখেছেন, “তোমার চালাকি এবার সবাই ধরে ফেলেছে!” আরও একজনের মন্তব্য, “সামান্য মুচকে গেলেই জুতো পরতে পারি না, এর পায়ে নাকি এত ব্যথা তাও হিল পরে দাপিয়ে বেড়ায় কীভাবে?”
সৃজলার পায়ের চোট নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাঁর আগের ওভারির সমস্যার কথাও টেনে এনেছেন দর্শকরা। অবশ্য সৃজলার শরীরে ঠিক কী ধরনের চোট হয়েছিল বা সেই মুহূর্তে তাঁর কতটা ব্যথা ছিল, তা নিয়ে কোনও চিকিৎসাগত তথ্য সামনে আসেনি। সম্প্রতি টাস্ক চলাকালীন ঘোড়া থেকে পড়ে সৃজলা আহত হয়েছিলেন এবং পরে তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাই হিল পরা বা কোলে ওঠার ঘটনাকে দেখে তাঁর চোটের সত্যতা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। তবু দর্শকদের একাংশের এই প্রশ্ন ঘিরে সৃজলার ‘ভিকটিম কার্ড’ প্রসঙ্গ ফের সামনে এসেছে। এই আবহেই বিগ বস বাংলার প্রাক্তন বিজয়ী তথা অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য নতুন করে নজর কেড়েছে।
তিনি সৃজলার নাম না করেই লিখেছেন, “পা ভাঙা নিয়ে কিন্তু সবাই খেলতে পারে না!” এই মন্তব্যের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৃজলার পরিস্থিতির তুলনা টানা হয়েছে বলে মনে করছেন নেটিজেনদের একাংশ। কারণ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে আহত হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পায়ে চোট পান এবং পরে হুইলচেয়ারে প্রচার করেছিলেন। সেই সময় তাঁর আঘাত কীভাবে হয়েছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং বিজেপির পক্ষ থেকে সহানুভূতি পাওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টে ওই চোটকে হামলার ফল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। মমতা অবশ্য সেই সময় দাবি করেছিলেন, তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর পায়ে গুরুতর চোট লেগেছিল।
এই পুরনো রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে সৃজলার বর্তমান পরিস্থিতিকে মিলিয়েই জয়জিতের মন্তব্যের অন্তর্নিহিত অর্থ খুঁজছেন দর্শকদের একাংশ। অর্থাৎ, চোটকে সামনে রেখে সহানুভূতি পাওয়ার যে রাজনৈতিক বিতর্ক একসময় তৈরি হয়েছিল, সেই একই ধরনের আচরণের সঙ্গে সৃজলার পরিস্থিতির তুলনা করা হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। তবে জয়জিৎ তাঁর মন্তব্যে সৃজলার নাম উল্লেখ করেননি এবং তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও নেননি। ফলে তাঁর বক্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে কমেন্ট বক্সে অনেকেই দুজনের মধ্যে তুলনা টেনে নিজেদের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। একজন লিখেছেন, “পিসির সঙ্গে সৃজলার কি মিল, ভেবেই অবাক হচ্ছি!” অন্য একজন আবার আরও সরাসরি লিখেছেন, “দিদিই তো অনুপ্রেরণা!”
আরও পড়ুনঃ ‘দু’টো ছবি হিট করলেই সব বাউন্সার!’ ‘বয়স্কদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে, আবার বাউন্সার নিয়ে ঘোরে!’ টলিপাড়ার সংস্কৃতি নিয়ে বি’স্ফোরক অম্বরীশ! নিশা’নায় কারা?
এদিকে পুরো ঘটনাকে ঘিরে দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও একেবারে দুই ভাগে দেখা যাচ্ছে। কেউ সৃজলার শারীরিক সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁর পাশে থাকার কথা বলছেন, আবার কেউ তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য এবং আচরণের মধ্যে অসঙ্গতি খুঁজছেন। এক দর্শক লিখেছেন, “এতদিন অন্যায় হয়েছে ভেবে সমর্থন করেছিলাম, আজকের পর আর নয়।” আরও এক দর্শক ব্যঙ্গ করে বলেছেন, “এবার ওর তথাকথিত অনুরাগীরা বলবে, ডাক্তার ওকে হিল পরতে বলেছে তাহলে পা তাড়াতাড়ি সুস্থ হবে!” অন্যদিকে সৃজলার সমর্থকদের সম্ভাব্য যুক্তি নিয়েও চলছে পাল্টা কটাক্ষ। তবে সৃজলার চোট কতটা গুরুতর ছিল, তাঁর হিল পরার পিছনে চিকিৎসকের কোনও অনুমতি ছিল কি না, কিংবা নিরঞ্জনের কোলে ওঠার সময় তিনি ব্যথা পেয়েছিলেন কি না, তার কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই। ফলে আপাতত সৃজলার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দর্শকদের প্রশ্ন, জয়জিতের নাম না করে করা মন্তব্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে টানা তুলনা নিয়েই বিতর্ক চলছে।
