বিগ বস বাংলার ‘দাদার দরবারে’ রবিবারের পর্বে আচমকাই আবেগঘন হয়ে ওঠেন দুর্নিবার সাহা। বিশেষ অতিথি হিসেবে সেদিন মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে দেখেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি দুর্নিবার। সকলের সামনে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় তাঁকে। প্রসেনজিৎকে দেখে দুর্নিবারের এই আবেগ দেখে দর্শকদের একাংশও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। কারণ, দুর্নিবারের স্ত্রী মোহর চট্টোপাধ্যায় প্রসেনজিতের আপ্ত সহায়ক। সেই সূত্রে অভিনেতার সঙ্গে দুর্নিবারের পারিবারিক ঘনিষ্ঠতাও রয়েছে। একটি প্রতিবেদনে এমনও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুর্নিবার প্রসেনজিৎকে অনেকটা নিজের পরিবারের মানুষের মতোই দেখেন। ফলে এতদিন পর তাঁকে সামনে দেখে আবেগ সামলাতে না পারার সম্ভাবনাই প্রথমে সামনে আসে।
তবে দুর্নিবারের কান্নাকে ঘিরে এবার সম্পূর্ণ অন্য ব্যাখ্যা দিচ্ছেন দর্শকদের একাংশ। একজনের দাবি, এই কান্নার মধ্যে নাকি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রতি তীব্র কটাক্ষও লুকিয়ে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দাদাকে দুর্নিবার নাকি কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। কারণ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় রাজবীরের প্রশংসা করেছিলেন বলেই তাঁর মনে হিংসা এবং ইগো তৈরি হয়েছিল বলে ওই দর্শকের দাবি। এমনকী সেই কারণেই নাকি সৌরভকে একপ্রকার বয়কটের হুংকারও দিয়েছিলেন দুর্নিবার। ওই দর্শকের আরও দাবি, দুর্নিবারের ধারণা হয়ে গিয়েছিল, এবার হয়তো সৌরভের পরিবর্তে প্রসেনজিৎই নতুন হোস্ট হতে পারেন। আর সেই সম্ভাবনাতেই তাঁর এই কান্নার পিছনে অন্য আনন্দ কাজ করছিল বলে মনে করছেন ওই ব্যক্তি। যদিও এগুলি দর্শকের নিজস্ব ব্যাখ্যা, এমন কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি যে দুর্নিবার সত্যিই সৌরভকে সরানোর আনন্দে কেঁদেছিলেন।
ওই দর্শক আরও লিখেছেন, “এই কান্নাটা আসলে সৌরভ গাঙ্গুলির প্রতি তীব্র কটাক্ষেরই বহিঃপ্রকাশ। দাদাকে সে নিতে পারছিল না। কারণ, দাদা রাজভীরের প্রশংসা করেছিলেন, কি পরিমান হিংসুটে, ইগোর একটা প্রকাশ, সেই কারণেই দাদাকে একপ্রকার বয়কটের হুংকার দিয়েছিল।” এরপরই তাঁর দাবি, “ওর ধারণা হয়ে গিয়েছিল, বোম্বাদা বুঝি এবার নতুন হোস্ট! সেই আনন্দ থেকেই এই কান্না।” একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একজন মানুষের মানসিকতা বুঝতে গেলে শুধু তাঁর চোখের জল দেখলেই কি সবটা বোঝা যায়? এই দর্শকের মতে, দুর্নিবারের কথার সঙ্গে রাজবীরের কথাও পাশাপাশি রাখা উচিত। কারণ রাজবীর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি আর ভাঙচুর করবেন না, শুধুমাত্র সৌরভ যেন কষ্ট না পান সেই কারণেই। এমনকী সৌরভ যেন আবার শোয়ে ফিরে আসেন, সেই অনুরোধও রাজবীর করেছেন বলে দাবি ওই দর্শকের।
এখানেই দুই প্রতিযোগীর মানসিকতার পার্থক্য দেখতে পাচ্ছেন ওই দর্শক। তাঁর বক্তব্য, একজনের আনন্দ নাকি দাদাকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনায়, আর অন্যজন নিজের ভুল শুধরে দাদাকে কষ্ট না দেওয়ার কথা ভাবছেন। তাই শুধু কান্না দেখে কাউকে বিচার না করে সেই কান্নার পিছনের মানসিকতাটাও দেখা দরকার বলে তাঁর মত। অন্যদিকে দ্বিতীয় এক দর্শক আবার দুর্নিবারের কান্নার সম্পূর্ণ আলাদা কারণ তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, দুর্নিবারের স্ত্রী মোহর হলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক। ফলে ব্যাকস্টেজে প্রসেনজিতের উপস্থিতির সঙ্গে দুর্নিবারের পারিবারিক যোগাযোগের বিষয়টিও জড়িত ছিল। শুধু তাই নয়, যে ছবির প্রচারে প্রসেনজিৎ বিগ বসে এসেছিলেন, সেই ছবির ‘যাত্রা শুভ হোক’ গানটির কণ্ঠশিল্পীও দুর্নিবার। ফলে অভিনেতাকে সামনে দেখে তাঁর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার পেছনে ব্যক্তিগত এবং পেশাগত দুই ধরনের যোগসূত্রই থাকতে পারে।
প্রসঙ্গত, রবিবারের বিশেষ পর্বে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় ‘দাদার দরবারে’ অতিথি হিসেবে এসেছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। নিজের আসন্ন ছবি ‘ডাক্তার কাকু’র প্রচারেও তিনি অংশ নেন এবং প্রতিযোগীদের সঙ্গে টাস্ক করেন। প্রতিযোগীদের কাজ নিয়ে খুশি না হয়ে তাঁদের বেশ কিছু প্রশ্নও করেন অভিনেতা। পাশাপাশি তাঁদের জন্য মিষ্টি দই নিয়ে এসেছিলেন তিনি। প্রসেনজিৎ চলে যাওয়ার পর সৌরভ আবার প্রতিযোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিরঞ্জন মণ্ডলের সাহসিকতার প্রশংসাও করেন। এদিকে এই সপ্তাহে দুর্নিবার, ভরত কল এবং নন্দিনী দত্তের মধ্যে কাউকেই এলিমিনেট করা হয়নি। ফলে আবেগ, অতিথির আগমন এবং প্রতিযোগীদের নিয়ে সৌরভের বিচার, সব মিলিয়ে জমজমাট ছিল পর্বটি। আর প্রসেনজিৎকে দেখে দুর্নিবারের কান্না এখন নতুন করে দর্শকদের মধ্যে শুরু করেছে ভিন্ন ব্যাখ্যা এবং তর্ক।
