জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘ওর জন্যই আর কোনওদিন মা হতে পারব না!’ নন্দিনীর সামনে বি’স্ফো’রক সৃজলা, কী ভয়’ঙ্কর কথা শোনালেন অভিনেত্রী?

‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে সৃজলা গুহ ও নন্দিনী দত্তের সম্পর্ক যে তিক্ততায় পৌঁছেছে, তা এখন আর কারও অজানা নয়। ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে গুরুতর চোট পাওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ফিরে এলেও সেই ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। বরং সময় যত গড়াচ্ছে, ততই সামনে আসছে সৃজলার সেই দুর্ঘটনার প্রভাব নিয়ে নতুন নতুন কথা। এবার এমনই এক মন্তব্য করলেন অভিনেত্রী, যা শুনে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছেন ঘরের অন্য সদস্যরা। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন এক আশঙ্কার কথা জানালেন তিনি, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর মাতৃত্বের স্বপ্নও। নন্দিনীর সঙ্গে সেই পুরনো ঘটনার পর সৃজলা কেন মনে করছেন, তাঁর জীবনে এমন বড় পরিবর্তন ঘটে যেতে পারে? সেই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

এর আগে ক্যাপ্টেন্সির টাস্ক চলাকালীন কাঠের ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন সৃজলা। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় এবং পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন অভিনেত্রী। ‘দাদার দরবার’-এ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সামনে সেই সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সৃজলা জানিয়েছিলেন, তাঁর ডান পায়ে ফার্স্ট গ্রেড ACL টিয়ার হয়েছে এবং নিয়মিত ড্রেসিং করতে হচ্ছে। পাশাপাশি শরীরের অন্য জায়গাতেও চোট রয়েছে বলে জানান তিনি। অচেনা শহরে একা হাসপাতালে কাটানো সেই পাঁচ দিন তাঁর কাছে কতটা কঠিন ছিল, তা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। এমনকী, নিজের কাছের মানুষদের কণ্ঠ শোনার জন্যও সেই সময় তিনি কতটা আকুল হয়ে উঠেছিলেন, তা জানিয়েছিলেন।

এই ঘটনার পর থেকেই সৃজলার সঙ্গে নন্দিনীর সম্পর্ক আরও জটিল হয়েছে। নন্দিনী একাধিকবার ক্ষমা চাইলেও সৃজলার ক্ষোভ পুরোপুরি কাটেনি। এমনকী নন্দিনীর মা-ও সম্প্রতি সৃজলার পরিবারের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ঘটনার পর থেকেই নন্দিনী ভালো নেই এবং পারলে সৃজলার পরিবার যেন তাঁকে ক্ষমা করে। অন্যদিকে, সৃজলা নিজের পরিবারের উদ্দেশে লেখা চিঠিতেও হাসপাতালের সেই পাঁচ দিনের কথা তুলে ধরেছিলেন। জানিয়েছিলেন, অনেকে তাঁর ব্যথাকে মিথ্যে বলে মনে করলেও তাঁর সত্যিই প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়। সেই আবেগঘন মুহূর্তে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি অভিনেত্রী।

এবার সেই চোটের প্রসঙ্গেই সামনে এল আরও গুরুতর আশঙ্কা। সৃজলার কথায়, তাঁর ওভারিতেও চোট লেগেছে এবং ভবিষ্যতে এই আঘাত তাঁর মা হওয়ার ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি ভয় পাচ্ছেন। অর্থাৎ শুধু বর্তমানের যন্ত্রণা নয়, দুর্ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও আতঙ্কিত অভিনেত্রী। তবে চিকিৎসাগতভাবে ভবিষ্যতে তিনি আদৌ মা হতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি। তাই সৃজলার বক্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত আশঙ্কা হিসেবেই দেখা উচিত, চূড়ান্ত চিকিৎসা-সত্য হিসেবে নয়। কিন্তু এমন সম্ভাবনার কথা ভাবতেই যে তিনি মানসিকভাবে কতটা ভেঙে পড়েছেন, তাঁর কথাতেই তা স্পষ্ট।

নন্দিনীর সঙ্গে ঘটনার পর থেকেই সৃজলার এই অধ্যায় ‘বিগ বস বাংলা’র অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। নন্দিনীর তরফে ক্ষমা চাওয়া, সৃজলার পরিবারের কাছে আবেদন, হাসপাতালের অভিজ্ঞতা এবং এবার ভবিষ্যৎ মাতৃত্ব নিয়ে অভিনেত্রীর আশঙ্কা, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও আবেগঘন হয়ে উঠেছে। যদিও দুর্ঘটনাটি টাস্কের সময় ঘটেছিল এবং নন্দিনীর টিমের তরফে দাবি করা হয়েছিল, তাঁকে ইচ্ছা করে আঘাত করার উদ্দেশ্য ছিল না, সৃজলার কাছে সেই মুহূর্তের শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা যে এখনও তাজা, তা তাঁর কথায় স্পষ্ট। এখন প্রশ্ন একটাই, সময়ের সঙ্গে কি এই ক্ষত মুছে যাবে? নাকি ‘বিগ বস’-এর এই ঘটনা সৃজলা ও নন্দিনীর সম্পর্কের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী দাগ রেখে যাবে?

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page