জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

নিজেরাই বলেছিলেন ‘দুর্বল’, সেই কারণেই কি ঘরছাড়া? বিগ বস বাংলায় মিড উইক এভিকশনের কোপে দীপেন্দু বিশ্বাস! প্রতিযোগীদের ভোটে আজ টিকে গেলেন ঝিলম, তবে সপ্তাহান্তে কি পড়বেন বাদ তিনিও?

বিগ বস বাংলায় এবার ঘটতে চলেছে প্রথম মিড উইক এভিকশন। অর্থাৎ সপ্তাহের মাঝপথেই ঘর থেকে বিদায় নিতে চলেছেন এক প্রতিযোগী। মঙ্গলবারের পর্বেই এই বিশেষ এভিকশনের ইঙ্গিত মিলেছিল। দীপেন্দু বিশ্বাস এবং ঝিলম গুপ্তকে রাখা হয়েছিল এই সপ্তাহের মনোনয়নের তালিকায়। একইসঙ্গে ভোটিং লাইনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বুধবার সকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রতিযোগীদের ভোটেই এবারের মতো বিগ বসের ঘর থেকে বিদায় নিয়েছেন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস। তবে এখনও পর্যন্ত এই খবরের কোনও অফিসিয়াল সিলমোহর পড়েনি। অর্থাৎ প্রতিবেদন অনুযায়ী দীপেন্দু বেরিয়ে গেলেও বিষয়টি এখনও নিশ্চিতভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

দীপেন্দু এবং ঝিলমকে এই সপ্তাহে মনোনীত করেছিলেন স্বয়ং বিগ বস। শনিবারের ‘দাদার দরবার’ পর্বে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এমন দুজন প্রতিযোগীর নাম জানতে চেয়েছিলেন, যাঁদের খেলায় অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম। সেই সময় উঠে আসে দীপেন্দু এবং ঝিলমের নাম। আরও চমকপ্রদ বিষয় হল, দুর্বল প্রতিযোগী হিসেবে নিজেদের নামও নিজেরাই বলেছিলেন তাঁরা। এরপর সোমবার বিগ বসের তরফে দুজনকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়। সাধারণ দর্শকের ভোটে নয়, এবার এভিকশনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ঘরের অন্যান্য প্রতিযোগীদের হাতে। সেই ভোটেই দীপেন্দু বিদায় নিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফলে এবারের সপ্তাহের মাঝের এই এভিকশন নিয়ে দর্শকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

দীপেন্দু বিশ্বাসের পরিচয় অবশ্য শুধু বিগ বসের প্রতিযোগী হিসেবে নয়। নব্বইয়ের দশক থেকে ২০০০ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত ভারতীয় ঘরোয়া ফুটবলে তিনি ছিলেন পরিচিত নাম। কলকাতার তিন প্রধান ক্লাব ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান এবং মোহামেডান স্পোর্টিং, তিন দলের হয়েই খেলার নজির রয়েছে তাঁর। জাতীয় ফুটবল দলেও খেলেছেন দীপেন্দু এবং একসময় দলের অধিনায়কত্বও করেছেন। ফুটবলের মাঠ থেকে পরে তিনি পা রাখেন রাজনীতির ময়দানে। ২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে লড়াই করে জয়ী হন। এরপর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এবার সেই পরিচিত মুখই বিগ বসের ঘর থেকে বিদায়ের মুখে বলে দাবি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে দীপেন্দুর সঙ্গে মনোনীত হওয়া ঝিলম গুপ্তও শেষ পর্যন্ত অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছেন বলে খবর। যদিও তাঁকে নিয়েও ঘরের বাইরে দর্শকদের একাংশের যথেষ্ট হতাশা রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিগ বসের ঘরে ঝিলমের অংশগ্রহণ খুব একটা চোখে পড়েনি। ‘ইঁদুর’ গান বানানো এবং অন্যদের নিয়ে পরনিন্দা পরচর্চা করা ছাড়া তাঁর বিশেষ কোনও ভূমিকা দর্শকদের নজরে আসেনি বলেই অভিযোগ। বিভিন্ন টাস্কেও তাঁর অংশগ্রহণ প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে দীপেন্দুর পাশাপাশি ঝিলমের নাম মনোনয়নে থাকায় অনেকেই এভিকশনের ফলাফল নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী ঝিলম এবারের মতো টিকে গেলেও তাঁকে নিয়ে দর্শকদের অসন্তোষ কিন্তু থেকেই গিয়েছে।

এমনকী, বিগ বসের ঘরেও ঝিলমকে একাধিকবার সতর্ক করেছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর অংশগ্রহণ এবং খেলায় সক্রিয়তা নিয়ে যে প্রশ্ন রয়েছে, তা শুধু দর্শকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ঘরের মধ্যেও বিষয়টি নজরে এসেছে। অন্যদিকে দীপেন্দুর ক্ষেত্রে তাঁর কম অংশগ্রহণের বিষয়টিই মনোনয়নের অন্যতম কারণ হয়ে সামনে এসেছে। শনিবার সৌরভের প্রশ্নের উত্তরে ঘরের সদস্যদের কাছ থেকেও একই দুই নাম উঠে এসেছিল। পরে সেই দুজনকেই বিগ বস সরাসরি মনোনীত করেন। ফলে প্রতিযোগীদের ভোটে দীপেন্দুর বিদায়ের খবর সত্যি হলে, এই মিড উইক এভিকশন তাঁর জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা হতে চলেছে। যদিও অফিসিয়াল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি রিপোর্টের দাবি হিসেবেই থাকছে।

সব মিলিয়ে বিগ বস বাংলার চলতি সপ্তাহে মনোনয়ন এবং এভিকশন ঘিরে নতুন চমক তৈরি হয়েছে। প্রথমবার সপ্তাহের মাঝেই একজন প্রতিযোগীকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তে দীপেন্দু বিশ্বাসের নামই সামনে এসেছে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে। অন্যদিকে ঝিলম গুপ্ত আপাতত টিকে গিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। দীপেন্দুর দীর্ঘ ফুটবল কেরিয়ার, জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক জীবনের পর এবার বিগ বসের মঞ্চে তাঁর যাত্রাও শেষ হতে চলেছে বলে খবর। তবে এখনও পর্যন্ত নির্মাতাদের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এভিকশনের ঘোষণা করা হয়নি। তাই দীপেন্দুর বিদায়ের খবরকে আপাতত রিপোর্টের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা থাকছে দর্শকদের।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page