অভিনয়ের পাশাপাশি এবার আইন নিয়েও নিজের পরিচয় তৈরি করলেন শ্রীময়ী চট্টরাজ। বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলএলবি ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেছেন কাঞ্চন মল্লিকের স্ত্রী। সম্প্রতি সেই সাফল্যের ছবি সমাজ মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। শ্রীময়ীর শিক্ষাজীবন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে অনুরাগীদের মধ্যেও। জানা গিয়েছে, সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজের মাধ্যমে তিনি এই আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতেও এলএলবি কোর্সের শিক্ষার্থী হিসেবে শ্রীময়ীর নাম রয়েছে।
খুব অল্প বয়স থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত শ্রীময়ী। ডাফ হাই স্কুল ফর গার্লস থেকে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর আইন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি থিয়েটারেও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। একাধিক বাংলা ধারাবাহিকে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছে। পড়াশোনা এবং অভিনয় একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার পথটা তাঁর জন্য খুব সহজ ছিল না। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে শ্রীময়ী নিজেই জানিয়েছেন, ছোট থেকেই তাঁর আইন পড়ার ইচ্ছে ছিল। তাঁর পরিবারে দাদু ব্যারিস্টার ছিলেন, সেখান থেকেই আইন নিয়ে পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল তাঁর।
তবে পড়াশোনার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে একসময় বাধাও এসেছিল। শ্রীময়ীর কথায়, আগে জয়েন্ট পরীক্ষা দিতে হত এবং কোথায় সিট পড়বে, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে, সেই বিষয়েও অনিশ্চয়তা ছিল। বাড়ির বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করার অনুমতি তখন তাঁর বাবা দেননি। পরে কাঞ্চন মল্লিক তাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দেন। শ্রীময়ী জানিয়েছেন, বিয়ের পরও সেই পড়াশোনা থামাননি তিনি। এমনকী অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও পরীক্ষায় বসেছিলেন অভিনেত্রী। শেষ পর্যন্ত এলএলবিতে ৭৫ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে পাশ করেছেন তিনি।
আইন নিয়ে পড়াশোনার পর ভবিষ্যতে কী করতে চান, সেটাও স্পষ্ট করেছেন শ্রীময়ী। তাঁর ইচ্ছে রয়েছে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার। অভিনয় পেশা সবসময় একইরকম কাজের নিশ্চয়তা দেয় না বলেই আইনকে বিকল্প পেশা হিসেবে দেখছেন তিনি। সুযোগ পেলে কোনও সিনিয়র আইনজীবীর অধীনে প্র্যাকটিস করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। অন্যদিকে কাঞ্চন মল্লিকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা হয়েছে। প্রায় ১৫ বছর ধরে একে অপরকে চেনেন তাঁরা বলে শ্রীময়ী জানিয়েছেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কাঞ্চনের দ্বিতীয় স্ত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আইনত বিচ্ছেদ হয় এবং তার পরেই ফেব্রুয়ারিতে কাঞ্চন ও শ্রীময়ী বিয়ে করেন।
এবার সেই শ্রীময়ীর এলএলবি পাশের খবর এবং ছবি সামনে আসতেই অবশ্য অভিনন্দনের পাশাপাশি শুরু হয়েছে নানা মন্তব্য। এক নেটিজেন সরাসরি লিখেছেন, “ব্যাস, আর ডিভোর্স দিয়ে পালাতে পারবে না কাঞ্চন!” আরেকজন আরও কটাক্ষ করে লিখেছেন, “বরের বিয়ে করার নেশা আটকাতে এই বউ তাড়াতাড়ি উকিল হয়ে গেল।” অর্থাৎ শ্রীময়ীর নতুন শিক্ষাগত পরিচয়কেও কাঞ্চনের ব্যক্তিগত জীবন এবং আগের বৈবাহিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে দেখছেন নেটিজেনদের একাংশ। তাঁদের মন্তব্য ঘিরেই ফের আলোচনায় এসেছে কাঞ্চন এবং শ্রীময়ীর সম্পর্ক। যদিও শ্রীময়ীর এলএলবি ডিগ্রি সম্পূর্ণ করার বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত শিক্ষাগত সাফল্য হিসেবেই সামনে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ বিগ বসের ঘর থেকে এবার কার বি’দায়? নন্দিনী, নাকি অনুষ্কা? কে যাচ্ছেন বাড়ি? আগাম জেনে নিন
শুধু কাঞ্চনকে নিয়ে কটাক্ষ নয়, শ্রীময়ীর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। একজন নেটিজেন লিখেছেন, “বাঁকুড়াতে যে ইউনিভার্সিটি আছে সেটাই তো জানা ছিল না!” সব মিলিয়ে শ্রীময়ীর নতুন শিক্ষাগত পরিচয় প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ তাঁর সাফল্যকে প্রশংসা করছেন, আবার কেউ সেই প্রসঙ্গেও কাঞ্চন এবং তাঁদের দাম্পত্য জীবনকে টেনে আনছেন। তবে শ্রীময়ীর নিজের কথায়, অভিনয়ের অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখেই আইনকে ভবিষ্যতের একটি পেশা হিসেবে দেখতে চান তিনি। ফলে অভিনয়ের পাশাপাশি এবার আইনজীবী হওয়ার প্রস্তুতিও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন কাঞ্চন-পত্নী।
