জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“মা খুব আধুনিক মনের মানুষ ছিলেন, তবুও কখনওই চাইতেন না আমি অভিনয় করি!” সুচিত্রা সেনের অজানা নিয়ম, রাগ আর মেয়েকে আগলে রাখার স্মৃতি ভাগ করলেন মুনমুন সেন! আম্মা কীভাবে নিজেই নিজের শাড়ি-গয়না ডিজাইন করতেন, গল্প বললেন রাইমাও?

দেবীপক্ষের শুরুতেই অন্যরকম মাতৃবন্দনার সাক্ষী হল সুচিত্রা সেনের পরিবার। নতুন পোশাকে নয়, বরং প্রয়াত মহানায়িকার ব্যবহার করা শাড়ি এবং গয়না পরেই পুজোর সাজে দেখা দিলেন মুনমুন সেন ও রাইমা সেন। মায়ের স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়েই এবারের পুজোর প্রস্তুতি তাঁদের। সুচিত্রা সেনের বালিগঞ্জের পুরনো বাড়ির জায়গায় এখন তৈরি হয়েছে বড় অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স। সেই পরিবারের বর্তমান বাসস্থানের দেওয়ালজুড়ে এখনও রয়েছে অভিনেত্রীর বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য ছবি। পুরনো আসবাব এবং স্মৃতির নানা জিনিসের মধ্যেই যেন আজও পরিবারের কাছে জীবন্ত হয়ে রয়েছেন তিনি। পুজোর আগে সেই স্মৃতিকেই নতুন করে ছুঁয়ে দেখার আয়োজন করেছেন মেয়ে ও নাতনি।

সুচিত্রা সেন জীবনের শেষদিকে সিনেমার জগতের থেকে নিজেকে অনেকটাই সরিয়ে নিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্য এবং অল্প কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মানুষ ছাড়া বাইরের কারও সঙ্গে খুব একটা যোগাযোগ রাখতেন না তিনি। মুনমুনের কথায়, মা কখনওই চাননি তিনি সিনেমায় অভিনয় করুন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, চলচ্চিত্র জগতে নানা ধরনের মানুষ রয়েছেন। এমনকী নিজে নিয়মিত শুটিং করলেও মেয়েকে সঙ্গে করে শুটিং দেখতে নিয়ে যেতেন না সুচিত্রা। বাড়ির ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত নিয়ম মেনে চলা মানুষ। অতিথি এলে বিশেষভাবে ট্রেতে চা পরিবেশন করা থেকে শুরু করে সংসারের প্রতিটি বিষয় নিয়ে তাঁর নিজস্ব নিয়ম ছিল। মুনমুন জানিয়েছেন, ব্যস্ততার মধ্যেও ফোন করে বাড়ির সবকিছু ঠিকঠাক চলছে কি না, মা খোঁজ নিতেন।

পুজোর সঙ্গেও সুচিত্রা সেনের সম্পর্ক ছিল গভীর। মুনমুন জানিয়েছেন, তাঁর মা নিজে বিসর্জন পর্যন্ত যেতেন এবং নিয়ম মেনে বেশ ধুমধাম করেই পুজো করতেন। সাধারণ সময়ে খুব বেশি সাজগোজ করতেন না মহানায়িকা। টাঙাইলের শাড়ি এবং সুতির ব্লাউজ ছিল তাঁর পছন্দের পোশাক। তবে পুজোর কয়েকটি দিন নতুন পোশাক পরে নিয়ম মেনে সমস্ত আচার পালন করতেন। মুনমুন আরও জানিয়েছেন, তাঁর মা আধুনিক মানসিকতার মানুষ ছিলেন এবং নাতনি রাইমা ও রিয়ার প্রতিও তাঁর যথেষ্ট টান ছিল। বিশেষ করে রাইমার সঙ্গে সুচিত্রার অনেকটা সময় কাটত। নাতনির সঙ্গে গল্প করা, তাঁর সাজপোশাক নিয়ে ভাবা, এমনকি পরিবারের ছোটখাটো বিষয়েও নজর রাখা ছিল তাঁর স্বভাবের অংশ।

এবার সেই সুচিত্রারই শাড়ি পরে সাজলেন মুনমুন। মায়ের ব্যবহার করা নীল শাড়িতে তাঁকে দেখা যায়। অন্যদিকে রাইমা পরেছিলেন তাঁর দিদিমার একটি শিফন শাড়ি। সেই শাড়িতে সুচিত্রা নিজেই আলাদা করে বেনারসি পাড় বসিয়েছিলেন। শুধু শাড়ি নয়, রাইমার কানে ছিল সুচিত্রার নকশা করা জড়োয়ার দুলও। রাইমা জানিয়েছেন, তাঁর আম্মা অনেক সময় নিজের শাড়ি নিজের মতো করে তৈরি করতেন এবং গয়নাও নিজেই ডিজাইন করতেন। পার্টি বা প্রিমিয়ারে যাওয়ার সময় সেই বিশেষ শাড়ি ও গয়নাগুলিই পরতেন তিনি। ফলে এবারের সাজে শুধু পুজোর প্রস্তুতি নয়, সুচিত্রার ব্যক্তিগত রুচি এবং ফ্যাশনের স্মৃতিও ফিরে এসেছে।

সুচিত্রার স্মৃতি শুধু শাড়ি বা গয়নাতেই আটকে নেই, পরিবারের প্রতিদিনের অভ্যাসেও তার ছাপ রয়েছে। মুনমুন জানিয়েছেন, মায়ের মন ভালো করার জন্য তিনি কখনও কখনও বাড়িতে আলপনা দিতেন। বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে বেশি দেরি করে ফিরলে সুচিত্রা রেগে যেতেন বলেও স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। এখনও মুনমুন খুব বেশি মায়ের গয়না পরেন না। তাঁর হাতে থাকা কয়েকগাছা সূক্ষ্ম নকশার সোনার চুড়িই নিয়মিত ব্যবহার করেন। সেই গয়নাগুলির মধ্যেও সুচিত্রার রুচির ছাপ রয়েছে। বাড়ির প্রতিটি ঘর, ছবি, আসবাব এবং ব্যবহৃত জিনিস যেন পরিবারের কাছে তাঁর জীবনের নানা অধ্যায়ের স্মৃতি হয়ে রয়েছে।

পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনার সময় তাই সেন পরিবারে এবারের মাতৃবন্দনার ধরনও আলাদা। নতুন পোশাক বেছে নেওয়ার বদলে সুচিত্রার ব্যবহার করা শাড়ি ও গয়না দিয়েই পুজোর সাজ সম্পূর্ণ করেছেন মুনমুন ও রাইমা। মুনমুনের ইচ্ছা ছিল, সুচিত্রার গয়না পরে মায়ের ছবির সামনে রাইমার একটি ছবি তোলা হোক। সেই ইচ্ছাতেই দিদিমার ছবির সামনে গিয়ে দাঁড়ান রাইমা। ছবিতে সত্তরের দশকের সুচিত্রা, আর সামনে তাঁরই পরা জড়োয়া দুলে সেজে নাতনি। সাজের দায়িত্বে থাকা মেকআপ শিল্পী অভিজিৎ চন্দও গয়নাগুলিকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করে অত্যন্ত সাবধানে রাইমাকে সাজিয়েছেন। এভাবেই পুজোর আবহে মায়ের স্মৃতি, তাঁর সাজ এবং তিন প্রজন্মের সম্পর্ক এক ফ্রেমে ধরা পড়েছে।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page