বিগ বস বাংলার ঘরে নতুন ক্যাপ্টেন হয়েছেন দুর্নিবার সাহা। তাঁর ক্যাপ্টেন্সি ঘিরেই এবার নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন জিতু কমল। ক্যাপ্টেনের ঘরে দুর্নিবারের সঙ্গে নিরঞ্জনকে একই বিছানায় দেখে ক্ষুব্ধ হন জিতু। এর আগে তিনি একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন যে ক্যাপ্টেনের বিছানায় অন্য কেউ শুতে পারবেন না। কিন্তু সেই সতর্কতা উপেক্ষা করে দুর্নিবার ও নিরঞ্জন সেখানে শুয়ে পড়েন। এরপর জিতু বালতি করে জল এনে সেই বিছানায় ঢেলে দেন। ঘটনার পর ভরত কল, মনামী, নন্দিনী এবং রাজবীরের মতো একাধিক প্রতিযোগী জিতুর সমালোচনা করেন। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে দর্শকদের একাংশ এবার জিতুর পাশেই দাঁড়িয়েছেন।
এক দর্শকের দাবি, জিতু যা করেছেন, তা নিয়ে এত সমালোচনা করার আগে আগের ঘটনাগুলিও মনে রাখা উচিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনুষ্কা ঘোষ যখন নতুন করে ঘরে প্রবেশ করেছিলেন, তখন দুর্নিবার ও অনুষ্কা মিলে একটি পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই পরিকল্পনা ছিল সকালে ঘুম থেকে না উঠলে বিছানায় জল ঢেলে দেওয়া। তখন দুর্নিবার সেই পরিকল্পনায় যথেষ্ট সম্মতিও জানিয়েছিলেন বলে ওই দর্শকের দাবি। কিন্তু সেই সময় অন্য সদস্যদের সতর্ক করা হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর। এমনকী, অনুষ্কা ঘরে আসার আগে পর্যন্ত দুর্নিবারই নাকি প্রায় সবার শেষে ঘুম থেকে উঠতেন। অনুষ্কা আসার পর থেকেই তিনি গানের সঙ্গে সঙ্গে উঠে পড়তে শুরু করেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তাই দর্শকের প্রশ্ন, তখন যে নিয়মকে সমর্থন করা হয়েছিল, জিতু একই ধরনের অবস্থান নেওয়ায় এখন আপত্তি কেন?
ওই দর্শকের মতে, জিতু শুধু একবার নয়, একাধিকবার দুর্নিবারকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর কথা শোনা হয়নি বলেই শেষ পর্যন্ত জিতু নিজের মতো করে ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে মনে করছেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই দর্শকের মন্তব্য, “যেমন কর্ম তেমন ফল।” তাঁর মতে, ক্যাপ্টেনের ঘরে অন্য কেউ থাকতে পারবেন না, এমন নিয়ম নিয়ে এতদিন ধরে আলোচনা হয়েছে। তাই জিতুর সতর্কতার পরেও সেখানে দুজন একসঙ্গে শোওয়াকে তিনি সমর্থন করছেন না। বরং তাঁর বক্তব্য, জিতু যা করেছেন, তার জন্য তাঁকে দোষারোপ করার আগে একই নিয়ম সবার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, সেটাই দেখা উচিত। এই কারণেই দর্শক স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আগের দিনের ঘটনার পর তিনি জিতুকেই সমর্থন করবেন। তাঁর মতে, বিগ বসের ঘরে নিয়মের ক্ষেত্রে কারও জন্য একরকম আর কারও জন্য অন্যরকম বিচার হওয়া উচিত নয়।
আরও পড়ুন:
তবে শুধু দুর্নিবার এবং জিতুকে ঘিরেই থেমে থাকেনি ওই দর্শকের ক্ষোভ। রাজবীর এবং নন্দিনীকেও নিজের মন্তব্যে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজবীরকে সামনে থেকে নন্দিনী যতই সমর্থন করুন, তাঁর আচরণে নাকি অন্য ছবি দেখা যায়। এমনকী, নন্দিনীকে নিয়ে তিনি মহাভারতের গান্ধারীর উদাহরণ টেনে বলেছেন, রাজবীর তাঁকে এতটা সমর্থন করলেও নন্দিনীর চোখ যেন বাঁধা। রাজবীর কেন বারবার নন্দিনীকে ক্যাপ্টেন হতে দেননি, সেই প্রশ্নও তুলেছেন ওই দর্শক। তাঁর দাবি, এর কারণ নন্দিনী জানতেন যে ক্যাপ্টেনের ঘর অন্য কারও সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার নিয়ম নেই। তাই এতদিন রাজবীরকে ক্যাপ্টেন হতে না দেওয়ার পিছনে এই বিষয়টিও কাজ করেছে বলে তাঁর ধারণা। এখন সেই নন্দিনী এবং রাজবীরই জিতুকে দোষারোপ করছেন দেখে তাঁদের লজ্জা থাকা উচিত বলেও কড়া মন্তব্য করেছেন তিনি।
এরপর নিজের বক্তব্যে বিগ বস বাংলাকে হিন্দি বিগ বসের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতাকেও কটাক্ষ করেছেন ওই দর্শক। তাঁর প্রশ্ন, হিন্দি বিগ বসের সঙ্গে বাংলা বিগ বসের তুলনা করা হলেও ক্যাপ্টেনের ঘর নিয়ে এমন পরিস্থিতি কি কখনও দেখা গিয়েছে? তাঁর বক্তব্য, ক্যাপ্টেনের ঘরে ক্যাপ্টেন ছাড়া অন্য কেউ থাকছেন, এমন ঘটনা তিনি কখনও দেখেছেন বলে মনে করেন না। তাই জিতু বারবার সতর্ক করার পরেও দুর্নিবার ও নিরঞ্জন সেখানে একসঙ্গে শুয়ে পড়ায় তাঁর জল ঢেলে দেওয়ার ঘটনাকে সমর্থন করছেন ওই দর্শক। যদিও ঘরের একাধিক সদস্য এবং রাজবীর জিতুর এই আচরণকে ভুল বলেছেন। অন্যদিকে জিতুও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি এবং নিয়ম ভাঙা হয়েছে বলেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে তাঁর বক্তব্য। ফলে দুর্নিবারের ক্যাপ্টেন্সির শুরুতেই জিতুর সঙ্গে তাঁর বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দর্শকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে স্পষ্ট মতভেদ, কেউ জিতুর আচরণকে অন্যায় বলছেন, আবার কেউ বলছেন, “যেমন কর্ম তেমন ফল।”
