জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“আবার ফিরে এলো সেই পুরনো ভিলেনের রূপে শিরিন!” “শেষ পর্যন্ত রায়ানকে নিজের করে পাওয়ার লোভটা সামলাতে পারল না আর!” পারুল বেঁচে থাকলে কোনওদিনও এমনটা ভাবত না? পারুলের মৃ’ত্যুর ২০ বছর পর রায়ানের জীবনে জায়গা করে নেওয়ার ইচ্ছা শিরিনের, পার্বতীকে ঘিরে নতুন বিপদে কোন পথে এগোবে ‘পার্বতী’র গল্প?

জি বাংলার ধারাবাহিক ‘পরিণীতা’র গল্পে আবারও শিরিনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন চর্চা। পারুলের মৃত্যুর পর রায়ান ও তার সন্তানকে একাই বড় করেছে, আর এই দীর্ঘ সময়ে শিরিনও তাদের আগলে রেখেছে। রায়ান এবং মনিকে সামলাতে সামলাতে তাঁর মনে রায়ানের জন্য পুরনো টান আবার জেগে উঠেছে। দর্শকের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে, এত বছর ধরে পাশে থাকতে থাকতে শিরিনের মনে ফের রায়ানকে নিজের করে পাওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়েছে। তবে পারুল বেঁচে থাকলে শিরিন কখনও এই কথা ভাবত না বলেই মনে করছে দর্শক। কারণ রায়ানের জীবনে পারুলের জায়গা যে কতটা বিশেষ, তা শিরিন নিজেও জানে। কিন্তু পারুল আর নেই, আর সেখান থেকেই শিরিনের এতদিনের মায়া ও অধিকারবোধ নতুন করে সমস্যার কারণ হয়ে উঠছে।

দর্শকের মতে, রায়ানের জীবনে অন্য কোনও নারী জায়গা করে নেবে, এই বিষয়টিই শিরিন মেনে নিতে পারছে না। পারুলের অনুপস্থিতিতে রায়ান যদি নতুন করে কাউকে নিজের জীবনে জায়গা দেন, সেটাই যেন শিরিনের পুরনো অনুভূতিগুলোকে আরও উসকে দিচ্ছে। ফলে এত বছর ধরে রায়ান ও মনির পাশে থাকা মানুষটিই আবার ধীরে ধীরে পুরনো খলনায়িকার রূপে ফিরে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। অন্যদিকে ধারাবাহিকে পার্বতীর আগমনেও গল্পে তৈরি হয়েছে বড় রহস্য। পার্বতী দেখতে অবিকল পারুলের মতো হলেও সে নিজেকে পারুল বলে পরিচয় দেয় না। রায়ানও পার্বতীকে দেখে প্রথমে অবাক হয়ে যায় এবং পরে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। এই নতুন সম্পর্ক রায়ানের জীবনে কী পরিবর্তন আনবে, তা নিয়েই এখন দর্শকদের কৌতূহল তুঙ্গে।

এর মধ্যেই পার্বতীকে ঘিরে বিপদ আরও বাড়তে শুরু করেছে ধারাবাহিকে। সাম্প্রতিক পর্বগুলিতে দেখা গিয়েছে, পার্বতীকে একদল লোক অপহরণ করে এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে রায়ান। পার্বতীকে খুঁজে বের করতে রায়ান অর্ণবের সাহায্য নেয় এবং পরে নিজেই তাকে উদ্ধার করতে ছুটে যায়। এমনকি পার্বতীকে ঘিরে পুলিশের তৎপরতাও শুরু হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে রায়ানের উপরেও। ১৬ অক্টোবরের পর্বের বিবরণ অনুযায়ী, শিরিনকে পারুলের ছবির সামনে নিজের মনের কথা বলতে দেখা যায় এবং একই সময়ে রায়ানকে গ্রেফতার করতে পুলিশ হাজির হয়। অর্থাৎ একদিকে শিরিনের পুরনো অনুভূতি ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে, অন্যদিকে পার্বতীকে ঘিরে আইনি ঝামেলাও ক্রমশ জটিল হচ্ছে। এই দুই দিকের টানাপোড়েনে ‘পরিণীতা’র গল্প কোন দিকে যাবে, সেটাই এখন দেখার।

দর্শকের প্রতিক্রিয়ায় মূলত শিরিনের পরিবর্তন নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে। এতদিন রায়ান ও মনিকে আগলে রাখা শিরিনের মধ্যে যে পুরনো অধিকারবোধ আবার জেগে উঠেছে, সেটাকেই অনেকে তাঁর ভুল পথে এগিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে দেখছেন। পারুল থাকলে রায়ানকে পাওয়ার কথা তিনি ভাবতেন না, কিন্তু পারুলের মৃত্যুর পর সেই বাধা আর নেই। তাই রায়ানের জীবনে পার্বতীর মতো অন্য কোনও নারী চলে আসার সম্ভাবনাও শিরিনের মনে অস্বস্তি তৈরি করছে বলে মনে করছেন দর্শক। অন্যদিকে পার্বতীর সঙ্গে রায়ানের সম্পর্ক নিয়ে আগেই দর্শকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কেউ জানতে চাইছেন, পার্বতী কি সত্যিই রায়ান ও পারুলের হারিয়ে যাওয়া সন্তান, নাকি তাঁর সঙ্গে পারুলের অন্য কোনও যোগ রয়েছে। আবার কেউ পার্বতীকে পারুলের নতুন জন্মের সম্ভাবনার সঙ্গেও মিলিয়ে দেখছেন, ফলে গল্পের রহস্য আরও বেড়েছে।

সব মিলিয়ে শিরিনের পুরনো রূপে ফিরে আসা এবং পার্বতীকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিপদ ‘পরিণীতা’র গল্পে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। একসময় পারুলকে সরিয়ে রায়ানের জীবনে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করেছিল শিরিন, আর এখন পারুল না থাকলেও তাঁর পুরনো অনুভূতিই যেন তাঁকে আবার সেই পথের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে পার্বতীকে কেন্দ্র করে রায়ানও একের পর এক সমস্যার মধ্যে জড়িয়ে পড়ছে। পার্বতীকে উদ্ধার করা থেকে শুরু করে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসা, প্রতিটি ঘটনাই রায়ানের জীবনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। এরই মধ্যে পুলিশের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তাই শিরিন কি শেষ পর্যন্ত নিজের মনের কথা সামলাতে পারবে, নাকি আবারও রায়ান ও পার্বতীর জীবনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে, সেটাই এখন দেখার। এই টানাপোড়েনের পরিণতি জানতে দর্শকদের চোখ রাখতে হবে জি বাংলার ‘পরিণীতা’য় রাত ৮টায়।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page