প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করে আবেগঘন চিঠি লিখলেন অভিনেত্রী মৌমিতা পণ্ডিত। পুজোর আবহে রাহুলকে মনে করে নিজের মনের অনেক কথাই সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি। রাহুলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে কয়েক মাস আগে থেকেই বিতর্ক চলছে। মৃত্যুর কয়েক মাস পর মৌমিতা দাবি করেছিলেন, রাহুলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই দাবি ঘিরে ইন্ডাস্ট্রির একাংশ এবং নেটিজেনদের সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন অভিনেত্রী। এবার রাহুলের জন্মদিনে তাঁকে উদ্দেশ্য করেই নিজের অভিমান, কষ্ট এবং না বলা কথাগুলি চিঠির আকারে প্রকাশ করলেন মৌমিতা। আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজেকে তিনি সেই চিঠিতে রাহুলের ‘গৌরী’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
চিঠির শুরুতেই মৌমিতা রাহুলকে তাঁর জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে পুরনো একটি কথার প্রসঙ্গ তুলেছেন। রাহুল নাকি সমাজমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, পুজোর সময়ে তিনি বিদেশে থাকবেন, যদিও মৌমিতা জানতেন আসল ঘটনা অন্যরকম। তাঁর মুর্শিদাবাদের পাড়ায় ঘটা করে পুজো হয় এবং রাহুলও সেই কথা জানতেন বলে লিখেছেন তিনি। মৌমিতার দাবি, তিনি রাহুলকে সেখানে আসতে বলেছিলেন এবং রাহুল লক্ষ্মীপুজোয় আসার কথাও দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর আসা হয়নি তাঁর। তাই জন্মদিনে রাহুলকে মনে করে মৌমিতা লিখেছেন, “আমি ভাল নেই রাহুলদা।” তাঁর কথায়, রাহুল চলে যাওয়ার পর বহু মানুষের মুখ এবং মুখোশ তাঁর সামনে খুলে গিয়েছে।
রাহুলের মৃত্যুর পর নিজের পরিস্থিতির কথাও চিঠিতে জানিয়েছেন মৌমিতা। তিনি লিখেছেন, রাহুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও তাঁর কাছে পরিষ্কার নয়। একইসঙ্গে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা নানা মন্তব্যের কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, ভালোবাসার কথা প্রকাশ্যে বলার কারণে তাঁকে ‘বিতর্কিত’ নারী হিসেবে দেখা হয়েছে এবং ‘ফুটেজখোর’, ‘প্রচার-প্রত্যাশী’ ইত্যাদি তকমাও জুটেছে তাঁর। মৌমিতার কথায়, এমনটা হওয়ার কথা ছিল না এবং রাহুল বেঁচে থাকলে হয়তো এমন পরিস্থিতি হতে দিতেন না। নিজের কাজের প্রচারেও জায়গা না পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানিয়েছেন, এই বিতর্কের কারণে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে অনেকটাই একা মনে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ঝড়ের রাতে কাঞ্চনকে প্রথম চুমু! শ্রীময়ীর প্রেমের গল্পে লুকিয়ে কোন পুজোর স্মৃতি?
চিঠিতে রাহুলের সঙ্গে তাঁর শেষদিকের একটি বিশেষ মুহূর্তের কথাও তুলে ধরেছেন মৌমিতা। তাঁর দাবি, রাহুলের মৃত্যুর মাত্র ১৯ দিন আগে ছিল তাঁর জন্মদিন। সেদিন সকাল থেকে রাহুলের টানা শুটিং থাকলেও এক ফাঁকে বাইক নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। হাতে একটি ব্যাগ দিয়ে তাঁকে আলিঙ্গন করেছিলেন রাহুল বলেও জানিয়েছেন মৌমিতা। তাঁর কথায়, রাহুল বলেছিলেন, “ভালবাসার মানুষের জন্মদিনে একবারও দেখা না করাটা অপরাধ।” মাত্র তিন মিনিটের জন্য দেখা করতে এসেছিলেন রাহুল, সেই স্মৃতিই এখন তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে রয়েছে। তাঁদের পরিচয় বহুদিনের এবং শুটিং ফ্লোর থেকেই ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মৌমিতা আরও লিখেছেন, তাঁদের সম্পর্কের কোনও নির্দিষ্ট নাম হয়তো কখনও দেওয়া হয়নি, অথবা নিভৃতে কোনও নাম তৈরি হয়েছিল। রাহুলের মৃত্যুর দিন তাঁর মায়ের হাত ধরে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি এবং দাবি করেছেন, সংবাদমাধ্যমের নজর এড়িয়ে নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, রাহুলকে নিয়ে কোনও কাদা ছোড়াছুড়ি তিনি চাননি। বইমেলায় রাহুলের ছবি তুলে দেওয়া, তাঁকে ‘জানলা’ বই উপহার দেওয়া এবং রাহুলের সেই ছবি পোস্ট করে ‘ভালবাসা’ লেখার স্মৃতিও চিঠিতে রয়েছে। তাঁদের লক্ষ্মীপুজোর পরিকল্পনা, চিরকুট চালাচালি এবং রাহুলের দেওয়া সারপ্রাইজের কথাও মনে করেছেন মৌমিতা। শেষে রাহুলের পরিবার, সহজ, কাকিমা, দা-ভাই, প্রিয়াঙ্কা এবং তাঁর অনুরাগীদের ভালো থাকার প্রার্থনা করে নিজের চিঠি শেষ করেছেন তিনি।
