বিগ বস বাংলার গতকালের পর্বে ফের সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিশানায় ছিলেন রাজবীর দে। রাজবীরের আচরণ নিয়ে তাঁকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেন হোস্ট, এমনকি ফাইনাল ওয়ার্নিংও দেওয়া হয়। এরপরই দর্শকদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, রাজবীরের ভুলের দিকে এতটা নজর দেওয়া হলেও অন্য প্রতিযোগীদের একই ধরনের আচরণ কেন বারবার এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জিতুর একাধিক আচরণ নিয়ে এবার সরব হয়েছেন দর্শকদের একাংশ। রাজবীরকে জিতু একসময় “মেরে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেব” বলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্য একটি ঘটনায় রাজবীরের মুখে জল ছোড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এমনকি রাজবীরকে ঘিরে জিতুর সঙ্গে একাধিকবার উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই দর্শকদের প্রশ্ন, এই ঘটনাগুলির জন্য জিতুকে কি কখনও রাজবীরের মতো করে শাসন করা হয়েছে?
রাজবীরকে উদ্দেশ্য করে জিতুর ওই হুমকির পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আরও কিছু আচরণের কথাও তুলে ধরেছেন দর্শকরা। তাঁদের দাবি, জিতু রাজবীরকে আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলেছেন এবং এক পর্যায়ে মারধরের হুমকিও দিয়েছেন। “মেরে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেব” মন্তব্যটি নিয়েও আগে থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতির পরেও জিতুর আচরণ নিয়ে সৌরভের তরফে একই রকম কড়া অবস্থান দেখা যায়নি বলেই অভিযোগ দর্শকদের। বরং রাজবীরের আচরণ নিয়ে হোস্টের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে জিতুই একসময় সৌরভকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন, “তুমি কি অ্যাগ্রেশনকে সাপোর্ট করছো?” সেই ঘটনার পর সৌরভ স্পষ্ট করেছিলেন যে তিনি অসম্মান বা পরিবারের প্রসঙ্গ টেনে কথা বলাকে সমর্থন করেন না। তবু দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন, জিতুর নিজের আচরণগুলির ক্ষেত্রে কেন একই মাপকাঠি দেখা যাচ্ছে না?
শুধু জিতু নয়, রাজবীরকে ঘিরে ঘরের একাধিক ঘটনার কথাও তুলে ধরছেন দর্শকরা। কেউ মনে করিয়ে দিয়েছেন, রাজবীরকে “খেতে পাস না, খেতে এসেছিস, গরিব” বলে কটাক্ষ করা হয়েছিল। কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, তনুশ্রী রাজবীরের দুধ ফেলে দেওয়ার সময় হোস্ট কোথায় ছিলেন। সোনামণি রাজবীরকে ধাক্কা মেরেছিলেন বলেও দর্শকদের একাংশ দাবি করছেন। সৃজলার সঙ্গে রাজবীরের একাধিক ঝামেলায় গালাগালি ও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগও উঠেছে। দুর্নিবার রাজবীরকে “গুন্ডা” ও “জানোয়ার” বলেছিলেন বলেও দর্শকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন। এমনকি নিরঞ্জন ও সৌরভের রাজবীরকে কীভাবে বের করা যায় তা নিয়ে পরিকল্পনার অভিযোগ এবং অনুষ্কার রাজবীরের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলার প্রসঙ্গও সামনে আনা হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, এত ঘটনার পরেও কেন বারবার আলোচনার কেন্দ্রে শুধু রাজবীরের ভুলই আসছে?
দর্শকদের একাংশ বিশেষভাবে জিতুর ঘটনাগুলির সঙ্গে রাজবীরের আচরণের তুলনা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, রাজবীর কাউকে ধাক্কা মারেননি, কারও গায়ে জল ছোড়েননি এবং কারও পরিবার নিয়ে গালাগালি করেননি। তবে রাজবীরও যে ভুল করেননি, এমনটা তাঁরা বলছেন না। বিশেষ করে খাবার ফেলে দেওয়ার ঘটনাকে ভুল বলে মেনে নিচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের দাবি, রাজবীর অনেক সময় মুখে এমন কিছু বলেছেন যার পালটা হিসেবেই তাঁর সঙ্গে তর্ক হয়েছে। অন্যদিকে অন্য প্রতিযোগীদের কিছু আচরণ সরাসরি কাজের মাধ্যমে ঘটলেও তাঁদের ক্ষেত্রে নরমভাবে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ দর্শকদের। এই পার্থক্য থেকেই উঠছে পক্ষপাতিত্বের প্রশ্ন। তাঁদের সরাসরি প্রশ্ন, রাজবীর আউটসাইডার বলেই কি তাঁর জন্য নিয়মের মাপকাঠি আলাদা?
আরও পড়ুনঃ নবম সপ্তাহেই বিগ বসের ঘর ছাড়ছেন তনুশ্রী রায় দাস? ভোটের অঙ্কে পিছিয়েও কীভাবে টিকে গেলেন সোনা-ভরত কলরা? পরের বার বেরোচ্ছেন কি তবে রাজবীর?
এই বিতর্কের মধ্যেই দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, জিতু এতগুলি বিতর্কে জড়ালেও সৌরভ কেন তাঁকে রাজবীরের মতো করে শাসন করছেন না। তাঁদের বক্তব্য, জিতুর হুমকি, রাজবীরের মুখে জল ছোড়া এবং অন্যান্য উত্তপ্ত আচরণ নিয়েও সমানভাবে প্রশ্ন তোলা উচিত ছিল। বরং তাঁদের মনে হচ্ছে, হোস্টের নজর বারবার রাজবীরের দিকেই যাচ্ছে। এমনকি আগে জিতু সৌরভের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে রাজবীরের আচরণ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং তনুশ্রীও তাঁর বক্তব্যে সায় দিয়েছিলেন। এবার সেই পুরনো বিতর্কের সঙ্গে নতুন করে জুড়েছে গতকালের ফাইনাল ওয়ার্নিংয়ের প্রসঙ্গ। ফলে দর্শকদের একাংশের দাবি, রাজবীরের ভুল যেমন বিচার করা হচ্ছে তেমনই জিতু-সহ অন্য প্রতিযোগীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রয়োগ করা হবে কি না, এখন সেই প্রশ্নই তুলছেন দর্শকরা।
