বাংলার জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো বিগ বস বাংলা সিজন ৩-এ প্রতিদিনই বদলাচ্ছে খেলার সমীকরণ। কখনও ক্যাপ্টেন্সি টাস্ক, কখনও লাক্সারি বাজেট, আবার কখনও প্রতিযোগীদের নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন বিতর্ক। কে নিজের বুদ্ধিতে খেলছেন, কে অন্যের কৌশলে সাহায্য করছেন, আর কে আড়াল থেকে গেমের গতিপথ বদলে দিচ্ছেন, তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে নিরঞ্জন মণ্ডল ওরফে লাফটারসেন এবং নন্দিনী দত্তের সমীকরণ এখন চর্চার অন্যতম বিষয়। নন্দিনীর পাশে দাঁড়িয়ে নিরঞ্জন যেভাবে খেলছেন, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে দর্শকদের মধ্যে মতবিরোধ।
শোয়ের বিভিন্ন টাস্কে নিরঞ্জনকে নন্দিনীর পক্ষে কৌশল অবলম্বন করতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করছেন দর্শকদের একাংশ। বিশেষ করে লাক্সারি বাজেট ও ক্যাপ্টেন্সি টাস্ক ঘিরে তাঁদের বোঝাপড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, নিরঞ্জন ও নন্দিনী একসঙ্গে পরিকল্পনা করেই গেমের চাল চালছেন। এমনকী সৃজলার কার্ড বের করার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সামনেও প্রশ্ন উঠেছিল বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। সেখানে নন্দিনী নিরঞ্জনের সঙ্গে পরিকল্পনা করে ওই চাল চালার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে নিরঞ্জনের গেমপ্লে নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে চর্চা।
এই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে নিরঞ্জনকে কটাক্ষ করতেও ছাড়ছেন না একাংশের দর্শক। তাঁদের বক্তব্য, নন্দিনী ও রাজবীরের হয়ে খেলতে গিয়েই নিরঞ্জন নিজের খেলার স্বাধীনতা হারিয়েছেন। সেই কারণেই তাঁকে ‘ভেড়া’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, অন্য প্রতিযোগীর হয়ে বারবার কৌশল সাজানোর বদলে নিরঞ্জনের নিজের খেলায় মন দেওয়া উচিত। তবে এই সমালোচনা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে, কাউকে সমর্থন করলেই কি একজন প্রতিযোগীর খেলার যোগ্যতা কমে যায়?
অন্যদিকে, নিরঞ্জনের পাশে দাঁড়িয়েও পাল্টা যুক্তি দিচ্ছেন বহু দর্শক। তাঁদের বক্তব্য, নিরঞ্জন যদি সৃজিলা, মনামী কিংবা রনিতার হয়ে খেলতেন, তাহলে কি তাঁকে একইভাবে সমালোচনা করা হতো? নাকি তখন তাঁকেই বুদ্ধিমান ও কৌশলী প্রতিযোগী বলে প্রশংসা করা হতো? এই প্রশ্ন তুলে সমালোচকদের দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, নিরঞ্জন নিজের পছন্দের প্রতিযোগীকে সমর্থন করে কোনও অন্যায় করেননি। বরং নন্দিনীকে হারানোর জন্য যাঁরা উঠেপড়ে লেগেছেন, তাঁদের একাংশের প্রতিক্রিয়ার পিছনে ঈর্ষা কাজ করছে বলেও দাবি করছেন নিরঞ্জনের সমর্থকেরা।
আরও পড়ুনঃ “মেরে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেব, মুখে জল ছোড়ার সময় দাদা কোথায় ছিলেন?” “ধাক্কা মেরে মা-বাবা তুলে গালিগালাজের সময় দাদা কোথায় ছিলেন?” রাজবীরই কি শুধু ভুল করে? একাধিক বিতর্ক, তাও জিতুকে কেন এমন শাসন করা হচ্ছে না? রাজবীর আউটসাইডার বলেই কি নিয়ম আলাদা? সৌরভের ফাইনাল ওয়ার্নিং ঘিরে দর্শকদের ক্ষোভ, উঠল পক্ষপাতিত্বের প্রশ্ন!
সব মিলিয়ে বিগ বস বাংলার ঘরে নিরঞ্জন ও নন্দিনীর সমীকরণ এখন দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে। একদিকে নিরঞ্জনের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে তাঁর হয়ে পাল্টা সওয়াল দুই পক্ষের মতামতে জমে উঠেছে সমাজমাধ্যমের তরজা। তবে রিয়্যালিটি শোয়ের খেলায় শেষ পর্যন্ত কে কতটা নিজের বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন, সেটাই দেখার। নিরঞ্জন কি সত্যিই নন্দিনীর হয়ে খেলতে গিয়ে নিজের গেম নষ্ট করছেন, নাকি সমালোচনার আড়ালেও রয়েছে তাঁর কৌশলী চাল? উত্তর মিলবে আগামী পর্বগুলিতে।
