ইতিহাসের কিছু অধ্যায় সময়ের সঙ্গে পুরনো হয়ে যায়, আবার কিছু প্রশ্ন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নতুন করে আলোচনায় ফিরে আসে। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তেমনই এক অমীমাংসিত অধ্যায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান। ১৯৪৫ সালের বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর যে প্রচলিত বিবরণ রয়েছে, তা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন, বিতর্ক ও বিকল্প তত্ত্ব সামনে এসেছে। সেই রহস্যকেই ফের বড় পর্দায় তুলে ধরেছে পরিচালক রাজেশ গুপ্তর ছবি ‘দ্য বোস ফাইলস: সাচ ইয়া সাজিশ’।
ছবির গল্পে রয়েছে এক তরুণী, ভীরালির সত্য জানার আগ্রহ এবং নেতাজির অন্তর্ধান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে যাওয়া অনুসন্ধানী সাংবাদিক অনুজ গুপ্তর যাত্রা। নেতাজিকে ঘিরে থাকা নানা নথি, সাক্ষ্য এবং প্রচলিত বিবরণের বাইরে থাকা প্রশ্নের সূত্র ধরে এগোয় তাঁদের অনুসন্ধান। দুই প্রজন্মের এই কৌতূহল এক জায়গায় এসে মিশে যায়। ইতিহাসের পরিচিত বয়ানের আড়ালে অন্য কোনও তথ্য লুকিয়ে রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নই ছবির কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
পরিচালক রাজেশ গুপ্তর বক্তব্য অনুযায়ী, ছবিটি শুধুমাত্র অতীতের একটি পরিচিত ঘটনা পুনরায় তুলে ধরার চেষ্টা নয়, বরং যে প্রশ্নগুলি বহু বছর ধরে মানুষের মনে রয়ে গিয়েছে, সেগুলিকে নতুন করে আলোচনায় আনার প্রয়াস। নির্মাতাদের দাবি, বিভিন্ন গবেষণামূলক বই, ঐতিহাসিক নথি ও সাক্ষ্য থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরি হয়েছে ছবির বিষয়বস্তু। নেতাজির অন্তর্ধান ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে নতুন প্রজন্মের সামনে পৌঁছে দেওয়াও এই ছবির অন্যতম উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুনঃ আলিয়া ভাটের এতগুলো চরিত্র থাকা সত্ত্বেও, ‘গরিবের আলিয়া ভাট’ তকমা পাওয়া নন্দিনীকে কেন গাঙ্গুবাইয়ের মতো যৌ’নকর্মীর চরিত্রের জন্যই মনে ধরলো সৌরভ গাঙ্গুলীর? দাদাকে সচেতন হতে বলছে নেটপাড়া
নেতাজিকে ঘিরে থাকা রহস্য নিয়ে গবেষণা অবশ্য সিনেমার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। ভারত সরকার ২০১৫ সাল থেকে নেতাজি-সম্পর্কিত একাধিক গোপন নথি প্রকাশ্যে আনার প্রক্রিয়া শুরু করে, যা এই বিষয়ে গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি করে। তবে নথি প্রকাশ, ঐতিহাসিক অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন বিকল্প তত্ত্বের মধ্যেও তাঁর অন্তর্ধান নিয়ে সব প্রশ্নের সর্বসম্মত উত্তর মেলেনি। তাই ‘দ্য বোস ফাইলস’ আবারও সামনে আনছে সেই পুরনো কৌতূহল: ইতিহাসের স্বীকৃত বিবরণ, নাকি তার বাইরেও রয়েছে অনুসন্ধানের আরও কিছু পথ? ছবির বক্তব্যকে প্রমাণিত ইতিহাস হিসেবে ধরে নেওয়ার বদলে, তথ্য ও তত্ত্বের পার্থক্য বুঝে বিচার করাই জরুরি।
