আলিয়া ভাটের এতগুলো চরিত্র থাকা সত্ত্বেও, ‘গরিবের আলিয়া ভাট’ তকমা পাওয়া নন্দিনীকে কেন গাঙ্গুবাইয়ের মতো যৌ’নকর্মীর চরিত্রের জন্যই মনে ধরলো সৌরভ গাঙ্গুলীর? দাদাকে সচেতন হতে বলছে নেটপাড়া

বিগ বস বাংলার সাম্প্রতিক ‘দাদার দরবার’ পর্বে নন্দিনীকে নিয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। প্রতি সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও এক বিশেষ ব্যক্তি ‘বিগ বম’ দিতে এসেছিলেন বিগ বসের ঘরে। সেই ব্যক্তিই নন্দিনীকে বিগবম দেওয়ার পর সঞ্চালক সৌরভ তাঁর কাছে জানতে চান, নন্দিনীকে তিনি চেনেন কি না। নন্দিনীকে কেমন লাগে, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি তাঁকে ‘গরিবের আলিয়া ভাট’ বলে উল্লেখ করেন। এরপর সেই মন্তব্য নিয়েই নন্দিনীর সঙ্গে মজার ছলে কথা বলতে শুরু করেন সৌরভ। সৌরভ বলেন, এই ট্যাগ নন্দিনীর কপালে আজীবনের জন্য লেগে গেল। এরপর পালটা মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, তাঁর মতে ‘গরিবের নন্দিনী’ হলেন বলিউডের আলিয়া ভাট। কিন্তু এরপরই আলিয়ার অভিনীত ‘গাঙ্গুবাই’ চরিত্রের প্রসঙ্গ টেনে আনায় বিষয়টি অন্য মাত্রা পায়।

সৌরভ এরপর নন্দিনীকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেন, তিনি কোনওদিন গাঙ্গুবাইয়ের মতো হতে পারবেন কি না। এই মন্তব্যের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে সমালোচনা। নেটিজেনদের একাংশের প্রশ্ন, নন্দিনীকে প্রশংসা বা মজার ছলে তুলনা করতে গিয়ে এমন একটি চরিত্রের নামই কেন বেছে নেওয়া হল। আলিয়া ভাটের অভিনীত ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’ নিঃসন্দেহে তাঁর অন্যতম আলোচিত ও উল্লেখযোগ্য চরিত্র। তবে সেই চরিত্রের সঙ্গে যৌ*নকর্মী এবং কামাঠিপুরার এক প্রভাবশালী ব্রথেল ম্যাডামের জীবনের প্রসঙ্গ জড়িয়ে রয়েছে। আলিয়া নিজেও চরিত্রটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাঁকে যৌনকর্মীর চরিত্র হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ফলে নন্দিনীকে ‘গাঙ্গুবাইয়ের মতো’ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আনা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের মতে, আলিয়ার আরও বহু জনপ্রিয় চরিত্রের মধ্যে থেকে এই নির্দিষ্ট চরিত্রটিই কেন বেছে নেওয়া হল, সেটাই এখন আলোচনার বিষয়।

বিশেষ করে নন্দিনীকে প্রথমে ‘গরিবের আলিয়া ভাট’ বলা এবং পরে তাঁর সঙ্গে গাঙ্গুবাইয়ের তুলনা টানার বিষয়টি একসঙ্গে দেখছেন নেটিজেনরা। তাঁদের একাংশের বক্তব্য, ‘গরিবের আলিয়া ভাট’ কথাটি হয়তো নিছক মজা বা প্রশংসা হিসেবেই বলা হয়েছিল। কিন্তু তার পরেই গাঙ্গুবাইয়ের প্রসঙ্গ আসায় সেই কথার অর্থ অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। কারণ ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’ ছবিতে আলিয়া যে চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, তার জীবনের সঙ্গে কামাঠিপুরার যৌনপল্লির ইতিহাস সরাসরি যুক্ত। বাস্তবের গাঙ্গুবাই যৌনকর্মীদের অধিকার নিয়েও সরব ছিলেন এবং কামাঠিপুরায় তাঁদের জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য কাজ করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ চরিত্রটি শুধু যৌনকর্মীর পরিচয়ে আটকে নেই, তার সঙ্গে সংগ্রাম, ক্ষমতায় উঠে আসা এবং যৌনকর্মীদের অধিকার নিয়ে লড়াইয়ের বিষয়ও জড়িয়ে আছে। তবু সামাজিক মাধ্যমে সমালোচকদের প্রশ্ন, এই সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট মাথায় রেখেই কি নন্দিনীকে সেই চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। নাকি অনুষ্ঠান চলাকালীন নিছক মজার ছলেই কথাটি বলা হয়েছিল, তা নিয়েই এখন দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মতভেদ।

সামাজিক মাধ্যমে সমালোচকদের একটি অংশ অবশ্য বিষয়টিকে নিছক মজা হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, নন্দিনীকে নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘গরিবের আলিয়া ভাট’ ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে, যা তাঁর আর্থিক বা সামাজিক অবস্থানকে সামনে এনে করা তুলনা বলেই মনে হয়েছে তাঁদের। তারপর সেই প্রসঙ্গের সঙ্গে ‘গাঙ্গুবাই’ চরিত্রকে জুড়ে দেওয়ায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। অনেকে বলছেন, আলিয়া ভাটের এমন অনেক চরিত্র রয়েছে যেগুলি নন্দিনীর সঙ্গে তুলনা করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেত। সেক্ষেত্রে ‘গাঙ্গুবাই’ নামটিই কেন বেছে নেওয়া হল, সেটাই তাঁদের কাছে মূল প্রশ্ন। কারও কারও মতে, সঞ্চালকের কথার মধ্যে কোনও খারাপ উদ্দেশ্য না থাকলেও এমন তুলনা করার আগে শব্দ বাছাইয়ে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে একটি বাস্তব নারীর সংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা চরিত্রকে অন্য এক প্রতিযোগীর সঙ্গে হঠাৎ তুলনা করলে তার ভিন্ন অর্থ তৈরি হতে পারে। এই কারণেই সৌরভের মন্তব্যের সেই অংশটুকু নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা ক্রমশ বাড়ছে।

অন্যদিকে ‘গাঙ্গুবাই’ চরিত্রটিকে শুধুমাত্র যৌনকর্মীর পরিচয়ে দেখাও সম্পূর্ণ ছবিটিকে তুলে ধরে না। আলিয়া ভাট নিজেই জানিয়েছিলেন, এই চরিত্রের কেন্দ্রে ছিল সংগ্রাম এবং নিজের জায়গা তৈরি করার গল্প। বাস্তব গাঙ্গুবাইও কামাঠিপুরার যৌনকর্মীদের অধিকার ও তাঁদের মর্যাদা নিয়ে কথা বলেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। তবু বিগ বস বাংলার মঞ্চে নন্দিনীকে উদ্দেশ্য করে ‘তুমি কি গাঙ্গুবাইয়ের মতো হতে পারবে?’ এই প্রশ্নটাই এখন নতুন বিতর্কের কেন্দ্র। নেটিজেনদের একাংশের অভিযোগ, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জেনেশুনেই এমন একটি চরিত্রের উদাহরণ দিয়েছেন, যা নন্দিনীকে অস্বস্তিকরভাবে উপস্থাপন করতে পারে। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, পুরো কথোপকথনটি অনুষ্ঠানটির মজার অংশ হিসেবেই বলা হয়েছিল এবং সেটিকে আলাদা অর্থে দেখা হচ্ছে। তবে যে কারণেই মন্তব্যটি করা হয়ে থাকুক, নন্দিনীকে ‘গরিবের আলিয়া ভাট’ বলা থেকে ‘গাঙ্গুবাইয়ের মতো হতে পারবে?’ পর্যন্ত সৌরভের কথাগুলি এখন সামাজিক মাধ্যমে যথেষ্ট চর্চায়। আর এই মন্তব্যের মাধ্যমে সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সত্যিই মাত্রা ছাড়িয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নই এখন তুলছেন দর্শকদের একাংশ।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page