এবারের নমিনেশন প্রক্রিয়ায় সৃজলা গুহর সঙ্গে সঠিক আচরণ করা হয়নি, এমনটাই অভিযোগ বিগ বস বাংলার দর্শকদের। প্রতিযোগীদের নাম বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিগ বসের সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। বিশেষ করে মনামী ঘোষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সৃজলাকে নমিনেশনে রাখা হলেও নন্দিনী দত্ত তাঁকে বাঁচানোর পরেও কেন তিনি নিরাপদ হলেন না, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দর্শকরা। তাঁদের বক্তব্য, একই প্রতিযোগীকে ঘিরে দু’বার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার হিসাব স্পষ্ট হওয়া দরকার। সব মিলিয়ে নমিনেশন পর্বের নিয়ম এবং তার প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে বিগ বসের ঘরে।
সাম্প্রতিক পর্বে বিগ বস বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে মনামী ঘোষকে নমিনেশন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন। সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে মনামী কয়েকজন প্রতিযোগীর নাম বেছে নেন, যার মধ্যে ছিলেন সৃজলাও। মনামীর যুক্তি ছিল, তাঁদের মধ্যে এখনও তেমন ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়নি এবং আগের একটি কাজেও সৃজলার কথা ও কাজের মধ্যে মিল পাননি তিনি। মনামীর এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হন সৃজলা। তাঁর বক্তব্য ছিল, মনামীর জন্য তিনি খেলেছিলেন, অথচ সেই মনামীই তাঁকে নমিনেশনের মুখে ঠেলে দিলেন। অন্যদিকে, নন্দিনীও প্রথমে সৃজলাকে নমিনেট করার কথা ভাবলেও পরে তাঁর চোটের কথা বিবেচনা করে তাঁকে নিরাপদ রাখেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে একই প্রতিযোগীকে নিয়ে দুই ধরনের সিদ্ধান্ত সামনে আসায় দর্শকদের একাংশের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এক দর্শকের বক্তব্য, “যেখানে সবার নাম একবার করে আসল, সেখানে সৃজলার নাম দু’বার কেন? মনামী যেমন নমিনেট করেছে, তেমনই নন্দিনীও সৃজলাকে নিরাপদ করেছে। তাহলে মনামীর নমিনেশনের ভিত্তিতে সৃজলাকে নমিনেট করা হবে কেন? নন্দিনী সৃজলাকে বাঁচানোর পরেও সে নিরাপদ নয় কেন?” ওই দর্শকের মতে, নিয়মের হিসাব ধরলে রণিতা দাস বা জীতু কমলের নামও এই তালিকায় থাকার কথা ছিল। সেই জায়গায় সৃজলাকে কেন বারবার নমিনেশনের মুখে পড়তে হচ্ছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর সন্দেহ, দর্শকদের ভোটে রণিতা জিততে পারবেন না বলে কি সৃজলাকে বিপদে ফেলা হচ্ছে? যদিও এটি সম্পূর্ণভাবেই ওই দর্শকের ব্যক্তিগত ধারণা, এর সমর্থনে কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। তবুও এই প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, নমিনেশন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে দর্শকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
শুধু নমিনেশনের হিসাব নয়, সৃজলাকে ঘিরে বিগ বসের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই দর্শক। তাঁর অভিযোগ, সৃজলাকে প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যেন বারবার এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে তাঁকে বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে মনামীর সিদ্ধান্ত এবং নন্দিনীর তাঁকে নিরাপদ রাখার সিদ্ধান্তের পরেও সৃজলার নমিনেটেড হওয়া নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। তাঁর মতে, কোনও প্রতিযোগীকে নমিনেট করার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তাঁকে নিরাপদ করার সিদ্ধান্তও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত। যদি নন্দিনী সৃজলাকে বাঁচিয়ে থাকেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব কীভাবে নমিনেশনের তালিকায় পড়ল, তা পরিষ্কার হওয়া দরকার। অন্যদিকে, মনামী নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিলেও সৃজলা যে তাতে আঘাত পেয়েছেন, তা পর্বেই স্পষ্ট হয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত মনোমালিন্য, প্রতিযোগীদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং নমিনেশনের নিয়ম, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দুর্নিবার খাবার নষ্ট করেও নমিনেশনে নয়, নিরঞ্জনের বার্নার কাণ্ডেও শাস্তি নেই! রাজবীর-তনুশ্রীকে বাড়ি পাঠাতেই কি সৌরভ-রণিতার মুখে বারবার সেই খাবার অপচয়ের যুক্তি? ‘নিজেদের গেমপ্ল্যান নেই, চামচাগিরি করতে এসেছে’ ক’টাক্ষ দর্শকদের!
এদিকে ওই দর্শকের বক্তব্য, “নাকি রণিতা ভোট হলে জিতবে না, তাই সৃজলাকেই বিপদে ফেলা হলো?” তাঁর এই প্রশ্ন ঘিরেও আলোচনা শুরু হয়েছে বিগ বসের অনুরাগীদের মধ্যে। যদিও রণিতা বা জীতুকে বাঁচানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সৃজলাকে নমিনেট করা হয়েছে, এমন কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি। তবুও দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, নমিনেশনের নিয়ম আরও পরিষ্কার হলে এই ধরনের প্রশ্ন উঠত না। তাঁদের দাবি, কোনও প্রতিযোগীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো বা খারাপ হওয়ার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পুরো প্রক্রিয়াটি যেন একই নিয়মে চলে। সৃজলাকে ঘিরে এবারের নমিনেশন বিতর্ক তাই শুধু একজন প্রতিযোগীর নিরাপত্তার প্রশ্নে আটকে নেই, বরং বিগ বসের সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। এখন দেখার, আগামী পর্বে এই বিতর্কের কোনও ব্যাখ্যা মেলে কি না এবং দর্শকদের ভোটে সৃজলা শেষ পর্যন্ত নিরাপদ থাকতে পারেন কি না।
