একজনের জীবনের লড়াই যখন পর্দায় উঠে আসে, তখন দর্শকের কাছে তা হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণার গল্প। কিন্তু যে মানুষটির জীবন নিয়ে তৈরি সেই ছবি, তাঁর চোখে যদি গল্পের অনেকটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়? মুক্তির ১২ বছর পর এমনই এক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চায় উঠে এল বলিউডের এক জনপ্রিয় বায়োপিক। ছবিতে অভিনয় করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অথচ সেই ছবির পর্দায় নিজের জীবনের আসল লড়াই কতটা জায়গা পেয়েছিল, তা নিয়েই এবার মুখ খুললেন খোদ মেরি কম।
২০১৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘মেরি কম’। ওমং কুমার পরিচালিত এই ছবিতে কিংবদন্তি বক্সারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। মণিপুরের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক বক্সিংয়ের মঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করার কাহিনি ছিল ছবির মূল আকর্ষণ। খেলাধুলোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন, মাতৃত্ব এবং কেরিয়ারে ফিরে আসার লড়াইও উঠে এসেছিল চিত্রনাট্যে। প্রিয়াঙ্কার অভিনয় প্রশংসা পেলেও, ছবিটি যে তাঁর জীবনের সম্পূর্ণ প্রতিচ্ছবি নয়, তা স্পষ্ট করে দিলেন মেরি কম।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মেরি জানান, ছবিতে তাঁর জীবনের সংগ্রাম ও পরিশ্রমের মাত্র ১০ শতাংশ তুলে ধরা হয়েছে বলে তাঁর মনে হয়েছে। তাঁর কথায়, বায়োপিকের কিছু অংশ বাস্তবের সঙ্গে মেলেনি। নিজের জীবনের প্রকৃত লড়াই বুঝতে হলে তাঁর আত্মজীবনী ‘আনব্রেকেবল’ পড়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, রুপোলি পর্দায় যে কাহিনি দর্শক দেখেছেন, তার বাইরেও রয়েছে বহু অধ্যায়, কঠিন অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত সংগ্রাম, যা ছবিতে ধরা পড়েনি বলেই মনে করেন এই বক্সার।
আরও পড়ুনঃ ১৯৪৫-এর পর কী হয়েছিল নেতাজির? সেই রহস্যের উত্তর দিতে আসছে ‘দ্য বোস ফাইলস!’ অবশেষে পর্দা ফাঁস হবে নেতাজি অন্তর্ধা’নের?
তবে এই ছবির দ্বিতীয় পর্ব তৈরির পক্ষেও নন মেরি কম। তাঁর মতে, ছবিতে এবং আত্মজীবনীতে তাঁর কেরিয়ার ও জীবনযাত্রার কথা ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে। তাই নতুন করে সিক্যুয়েল তৈরির প্রয়োজন দেখছেন না তিনি। একসময় যে বায়োপিক তাঁর জীবনের গল্পকে বহু মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল, বারো বছর পর সেই ছবির সীমাবদ্ধতা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন তারই নায়িকা। প্রিয়াঙ্কার অভিনীত ছবিটি নিয়ে মেরি কমের এই মন্তব্যের পর ফের আলোচনায় উঠে এল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, বাস্তবের জীবনের লড়াই কি আদৌ পুরোপুরি ধরা সম্ভব সিনেমার পর্দায়?
