গতকালের বিগ বস বাংলার পর্বে ‘অপারেশন ব্যাটলগ্রাউন্ড’ ঘিরে জমে উঠেছিল খেলা। চিফ কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন জিতু কামাল। তাঁর নেতৃত্বে একের পর এক কঠিন ফিটনেস টাস্কে অংশ নেন প্রতিযোগীরা। দর্শকদের একাংশের মতে, জিতু দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই পুরো খেলাটাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যান। রাজবীরের হাত দিয়ে দুটো ডিম নষ্ট করানোর ঘটনাও নজর কেড়েছে। চ্যানেলের তরফে ইতিমধ্যেই সেই ঘটনাকে ‘খুনসুটি’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এরপর পুরো দলকে পিটি করানো থেকে শুরু করে ‘জেল ভরো মিশন’, একের পর এক কঠিন টাস্ক করিয়েছেন জিতু। তবে এত কিছুর পরেও দর্শকদের একাংশের অভিযোগ, দায়িত্বশীল চিফ কমান্ডারের পাশাপাশি নিজের ‘ভিলেন’ সত্তাটাও যেন সামনে আনতে চেয়েছেন তিনি।
বিশেষ করে সৃজলাকে টেনে খেলানো এবং অন্য দলের স্টার চুরি করার ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। তনুশ্রীর সঙ্গে জিতুর তর্কও পর্বের অন্যতম চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে। সেই ঝামেলার পর তনুশ্রীকে অন্যায্য পেনাল্টি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ দর্শকদের একাংশের। এক দর্শকের প্রতিক্রিয়ায় জিতুকে কার্যত ‘বিগ ব্যাড ইভিল ভিলেন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, ফাইনালের ভিলেন হিসেবে জিতুর মতো আর কাউকে দেখা যাচ্ছে না। জিতুর খেলায় কৌশল থাকলেও তাঁর আচরণ নিয়ে যে দর্শকদের মধ্যে বিরক্তি তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট। বিশেষ করে টাস্কের মাঝখানে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ঢুকে পড়া নিয়েই বেশি আপত্তি উঠেছে। তবে অন্যদিকে, জিতুর নেতৃত্বে টাস্কগুলো যে যথেষ্ট কঠিন ছিল, সেই বিষয়টিও দর্শকদের আলোচনায় এসেছে। ফলে জিতুর গেমপ্ল্যান নিয়ে প্রশংসা ও সমালোচনা দুইই দেখা গেলেও আপাতত নিন্দার পাল্লাই ভারী।
অন্যদিকে এই পর্বে রাজবীর দে-র পারফরম্যান্সের প্রশংসায় পঞ্চমুখ দর্শকদের একাংশ। বিশেষ করে সাইড স্কোয়াট থেকে শুরু করে পরপর একাধিক টাস্কে তাঁর পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে। কঠিন শারীরিক টাস্কেও রাজবীরকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লড়তে দেখা গিয়েছে। নিরঞ্জনের হার্ডল রেসও দর্শকদের নজর কেড়েছে। কবাডি খেলতে গিয়ে দুর্নিবার চোট পান বলেও উঠে এসেছে আলোচনায়। একই খেলায় সৌরভেরও চোট লাগে। এমন কঠিন ফিটনেস টাস্কে যাঁরা নমিনেটেড, তাঁদের নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল বলেই মনে করছেন দর্শকদের একাংশ। তবে এত কিছুর মধ্যেও নন্দিনীর উপস্থিতি কার্যত চোখেই পড়েনি বলে অভিযোগ উঠেছে। শুরুতে রাজবীরের সঙ্গে তাঁর মিল করানোর একটি মুহূর্ত ছাড়া নন্দিনীকে খুব বেশি সক্রিয় দেখা যায়নি বলেই দর্শক প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে।
এদিকে সৃজলার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দর্শকদের একাংশ। জিতুর কিছু আচরণকে তিনি কার্যত প্রশ্রয় দিয়েছেন বলেই মনে করছেন কেউ কেউ। বিশেষ করে জিতুর সঙ্গে তাঁর টাস্কের সময়কার সমীকরণ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। কেন সৃজলা সেই পরিস্থিতিতে জিতুর বিরোধিতা করলেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। উল্টোদিকে তনুশ্রীকে অনেক বেশি সক্রিয় ভাবে লড়াই করতে দেখা গিয়েছে বলে দর্শকদের দাবি। টাস্কে তাঁর চেষ্টা এবং পারফরম্যান্সের পরেও যদি এই সপ্তাহে তিনি বাদ পড়েন, তা হলে সেটি অন্যায্য হবে বলেই মনে করছেন একাংশ। তবে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের হাতে সিদ্ধান্ত থাকে না, কারণ প্রতিযোগীর ভাগ্য নির্ধারণে চ্যানেলের সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ। তাই তনুশ্রীর পারফরম্যান্সের পরেও তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এদিকে জিতুর আচরণ ঘিরে ক্ষোভ যত বাড়ছে, ততই তাঁর গেমপ্ল্যান নিয়ে আলোচনা তীব্র হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার গান শুনে জেগে যায়, শোভনের গান শুনে ঘুমিয়ে পড়ে!’ মাতৃত্বের নতুন অভিজ্ঞতায় অকপট সোহিনী
সব মিলিয়ে ‘অপারেশন ব্যাটলগ্রাউন্ড’-এর পর্বে জিতু কামালকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। চিফ কমান্ডার হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব যেমন নজর কেড়েছে, তেমনই তাঁর কিছু সিদ্ধান্ত দর্শকদের একাংশের বিরক্তির কারণ হয়েছে। রাজবীর ও দুর্নিবারের মতো প্রতিযোগীদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও নিজেদের সামলে খেলা চালিয়ে যেতে হয়েছে। দর্শকদের মতে, তাঁদের আপাতত জিতুর কৌশল এবং সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েই এগোতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাজবীরের সঙ্গে জিতুর সমীকরণ আগামী পর্বগুলিতে কোন দিকে যায়, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে তনুশ্রীর নমিনেশন এবং সৃজলার গেমপ্ল্যানও এখন আলোচনার কেন্দ্রে। জিতুর ‘ভিলেন’ ইমেজ কি তাঁর গেমকে আরও শক্তিশালী করবে, নাকি দর্শকের বিরূপ প্রতিক্রিয়াই তাঁর জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে, সেটাই এখন দেখার। তবে গতকালের পর্বের পর একটা বিষয় স্পষ্ট, জিতুকে ঘিরে বিগ বসের বাড়ির উত্তাপ আরও বাড়ছে। আর দর্শকদের একাংশের চোখে আপাতত সেই উত্তাপের মূল কারণ জিতুরই আগ্রাসী গেমপ্ল্যান।
