‘আমি কোনও ভাবেই চাই না রাজবীর উইনার হোক’, ‘উইনারের ট্রফি আমার ইন্ডাস্ট্রির লোকদের হাতেই যাক’, যাঁকে ‘ব্যালেন্স ফ্যাক্টর’ বলে নমিনেশন থেকে বাঁচিয়েছিল রাজবীর, তাঁকেই স্বজনপ্রীতির চক্করে জিততে দেখতে চান না ভরত কল? তবে কি প্রতিভার চেয়েও বড় ইন্ডাস্ট্রির পরিচয়?

বিগ বস বাংলার ঘরে রাজবীর দে-কে নিয়ে বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। একদিকে প্রতিযোগী হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে তাঁকে ঘিরে একের পর এক বিরোধ, সব মিলিয়ে শোয়ের অন্যতম চর্চিত মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি। এবার রাজবীরকে নিয়ে ভরত কলের একটি সাক্ষাৎকারের মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেখানে ভরতকে বলতে শোনা গিয়েছে, “আমি কোনো ভাবেই চাই না রাজভীর উইনার হোক।” শুধু তাই নয়, তাঁর পছন্দের বিজয়ী হিসেবে জিতু কামাল অথবা দুর্নিবারের নামও উল্লেখ করেছেন তিনি। ভরতের কথায়, “আমি চাই জিতু না হয় দুর্নিবার উইনার হোক।” এরপরেই তাঁর আরও একটি মন্তব্য আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে, “উইনারের ট্রফি আমার ইন্ডাস্ট্রির লোকদের হাতে যাক।” আর এই বক্তব্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে, বিগ বসের মতো একটি প্রতিযোগিতায় কি যোগ্যতার থেকেও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ইন্ডাস্ট্রির পরিচয়?

রাজবীরের অনুরাগীদের একাংশের বক্তব্য, ভরত কৌলের এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়েই যেন ইন্ডাস্ট্রির প্রতি পক্ষপাতিত্বের বিষয়টি আরও একবার সামনে এল। তাঁদের দাবি, রাজবীর যদি নিজের যোগ্যতায় দর্শকদের মন জয় করে থাকেন, তা হলে শুধুমাত্র তিনি ইন্ডাস্ট্রির লোক নন বলে তাঁকে বিজয়ী হিসেবে দেখতে না চাওয়ার যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য? রাজবীরের জনপ্রিয়তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে যে আলোচনা রয়েছে, তার অন্যতম কারণ তাঁর সরাসরি কথা বলা, ঝামেলায় জড়িয়ে পড়া এবং নিজের অবস্থানে অনড় থাকা। তাঁর সঙ্গে কারও মতের মিল না-ও হতে পারে, তাঁর আচরণ নিয়ে প্রশ্নও উঠতে পারে। কিন্তু সেই কারণে তাঁর প্রতিযোগী হিসেবে জেতার সম্ভাবনাকে একেবারে অস্বীকার করা যায় কি? দর্শকদের একাংশের মতে, বিগ বসের বিজয়ী নির্ধারিত হওয়া উচিত প্রতিযোগীর খেলা, পারফরম্যান্স এবং দর্শকদের ভোটের ভিত্তিতে। সেখানে তিনি কোন ইন্ডাস্ট্রির সদস্য, কার সঙ্গে তাঁর পরিচয় রয়েছে, সেই বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হলে প্রতিযোগিতার আসল উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

রাজবীরের সঙ্গে ভরত কলের সম্পর্কের প্রসঙ্গও এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দর্শকদের একাংশের দাবি, রাজবীর একসময় ভরতকে যথেষ্ট সম্মান করত। এমনকী, তাঁকে ব্যালান্স ফ্যাক্টর মনে করে নমিনেশন থেকে বাঁচানোর ক্ষেত্রেও রাজবীরের ভূমিকা ছিল বলে অনুরাগীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। যদিও শুরুতে রাজবীরের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল এবং নিজের আচরণের জন্য তিনি অনুতপ্তও হয়েছেন বলে তাঁর সমর্থকদের বক্তব্য। কিন্তু অতীতের সেই বিরোধ পেরিয়ে ভরতের প্রতি তাঁর সম্মান দেখানোর বিষয়টি কি একেবারেই মূল্যহীন? রাজবীরের অনুরাগীদের প্রশ্ন, যে প্রতিযোগী একসময় ভরতকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল, সেই প্রতিযোগীকেই এখন বিজয়ী হিসেবে দেখতে চান না ভরত। ব্যক্তিগত পছন্দ থাকতেই পারে, কিন্তু “উইনারের ট্রফি আমার ইন্ডাস্ট্রির লোকদের হাতে যাক” মন্তব্যটি কি প্রতিযোগিতার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য যথেষ্ট নয়? বিশেষ করে, যখন রাজবীরের জনপ্রিয়তা এবং তাঁর খেলার ধরন নিয়ে দর্শকদের মধ্যে এত আলোচনা চলছে, তখন এই বক্তব্য স্বজনপ্রীতির অভিযোগকে আরও জোরালো করছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

এদিকে রাজবীরের সমর্থকদের অভিযোগ, তাঁকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা শুধু একজন প্রতিযোগীর মন্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের দাবি, সৌরভ দাসের দীর্ঘ সময় পরে বিগ বসের ঘরে প্রবেশের পর থেকেই রাজবীরকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এমনকী, শোয়ের নির্মাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিচিত মুখের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন রাজবীরের অনুরাগীদের একাংশ। তাঁদের ধারণা, রাজবীর যাতে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হতে না পারেন, সেই লক্ষ্যেই তাঁকে বারবার বিতর্কের কেন্দ্রে আনা হচ্ছে। গত শনিবারের ঘটনাতেও রাজবীরকে দর্শকদের চোখে খারাপ প্রমাণ করার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ করছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, এরপর তাঁকে ভিলেন হিসেবে তুলে ধরে কোনও অজুহাতে প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে, অথবা বিজয়ী হওয়ার পথে বাধা তৈরি হতে পারে। যদিও এই অভিযোগগুলির পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ সামনে নেই, তবু ভরত কৌলের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর সেই সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে বলে দাবি করছেন রাজবীরের অনুরাগীরা। তাঁদের বক্তব্য, রাজবীরকে নিয়ে সমালোচনা হতেই পারে, কিন্তু তাঁকে হারানোর জন্য যদি তাঁর প্রতিভা ও জনপ্রিয়তাকে উপেক্ষা করা হয়, তা হলে তা মেনে নেওয়া কঠিন।

সব মিলিয়ে ভরত কলের এই মন্তব্য বিগ বস বাংলার বিজয়ী নির্বাচন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একজন প্রবীণ অভিনেতা হিসেবে ভরতের নিজস্ব পছন্দ থাকতেই পারে, তিনি জিতু কামাল কিংবা দুর্নিবারকে বিজয়ী হিসেবে দেখতে চাইতেই পারেন। কিন্তু সেই পছন্দের কারণ হিসেবে ইন্ডাস্ট্রির লোক হওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কি এই প্রতিযোগিতায় বাইরের মানুষের যোগ্যতার যথেষ্ট মূল্য নেই? রাজবীরের সমর্থকদের মতে, দর্শকদের ভালোবাসা এবং জনপ্রিয়তা যদি সত্যিই প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হয়, তা হলে তাঁকে শুধুমাত্র ইন্ডাস্ট্রির বাইরের মানুষ বলে পিছিয়ে রাখার চেষ্টা করা উচিত নয়। তাঁদের অভিযোগ, চ্যানেল ও শোয়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে আগে থেকেই যে প্রশ্ন ছিল, ভরতের বক্তব্যে তা আরও একবার সামনে এসেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কে বিজয়ী হবেন, তা নির্ভর করবে শোয়ের নিয়ম এবং ভোটের ফলাফলের উপরেই। এখন দেখার, এই বিতর্কের পর রাজবীরের খেলা কোন দিকে এগোয় এবং দর্শকদের সমর্থন তাঁকে শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছে দেয়।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page