সোনামণি-রণিতাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা না করে অনুষ্কা ও জয়িতাকে ধরে রাখলে বিগ বস বাংলার জনপ্রিয়তা পৌঁছত অন্য উচ্চতায়! চ্যানেলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন দর্শকদের, আপনারাও কি একমত?

প্রায় এক দশকের বিরতির পর ছোটপর্দায় ফিরেছে ‘বিগ বস বাংলা’। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় স্টার জলসার এই রিয়্যালিটি শো ঘিরে শুরু থেকেই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। একদিকে টেলিভিশনের পরিচিত মুখ, অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে সাজানো হয়েছিল প্রতিযোগীদের তালিকা। কিন্তু সময় যত এগিয়েছে, ততই প্রতিযোগীদের নির্বাচন, মনোনয়ন এবং এলিমিনেশন নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। বিশেষ করে দর্শকদের ভোটে পছন্দের প্রতিযোগীরা বাদ পড়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, শোয়ের নির্মাতারা কি সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন? সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে উঠে এসেছে এমনই একটি দর্শক প্রতিক্রিয়া। সেখানে দাবি করা হয়েছে, সোনামণি সাহা এবং রণিতাকে টিকিয়ে রাখার বদলে অনুষ্কা ঘোষ ও জয়িতা চট্টোপাধ্যায়কে আরও কিছু দিন প্রতিযোগিতায় রাখলে অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তা অন্য মাত্রায় পৌঁছতে পারত। এই মন্তব্য ঘিরে ফের চর্চায় বিগ বস বাংলার প্রতিযোগী নির্বাচন ও এলিমিনেশন প্রক্রিয়া।

দর্শকের ওই মন্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছেন অনুষ্কা ঘোষ। এমটিভি স্প্লিটসভিলার মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া অনুষ্কা বিগ বস বাংলায় ওয়াইল্ড কার্ড প্রতিযোগী হিসেবে প্রবেশ করেছিলেন। ঘরে ঢোকার পর থেকেই তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, আত্মবিশ্বাস এবং অন্য প্রতিযোগীদের খেলা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য নজর কেড়েছিল। ঘরের অনেক প্রতিযোগীকেই নিষ্ক্রিয় বলে মনে করেছিলেন তিনি। রাজবীর দে-কে নিজের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চিহ্নিত করেও আলোচনায় এসেছিলেন অনুষ্কা। তাঁর প্রবেশের পর ঘরের পুরনো সমীকরণ বদলানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বেশিদিন প্রতিযোগিতায় থাকতে পারেননি তিনি। ১১ অক্টোবরের এলিমিনেশনে দর্শকদের ভোটে ঝিলম গুপ্তের কাছে হেরে শো থেকে বিদায় নিতে হয় তাঁকে। বিদায়ের পর অনুষ্কা জানিয়েছিলেন, তিনি যখন ঘরে ঢুকেছিলেন, তত দিনে খেলার অর্ধেকটা এগিয়ে গিয়েছিল। তবু নিজের দিক থেকে ১০০ শতাংশের বেশি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। অনুষ্কার এই দ্রুত বিদায় নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন একাংশের দর্শক। তাঁদের মতে, তাঁর মতো স্পষ্টবক্তা প্রতিযোগী আরও কিছু দিন ঘরে থাকলে একাধিক নতুন দ্বন্দ্ব ও আকর্ষণীয় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত।

অন্যদিকে, জয়িতা চট্টোপাধ্যায়ও বিগ বস বাংলার অন্যতম আলোচিত প্রতিযোগী ছিলেন। অভিনেত্রী, সঞ্চালক এবং ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিত জয়িতা মুম্বইয়ে থাকেন। ‘ক্লাস অফ ২০২০’-এর মতো ওয়েব সিরিজের কাজের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পরিচিতি রয়েছে। বিগ বসের ঘরে প্রবেশের পর ফল পরিষ্কার করা নিয়ে নিরঞ্জন মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরে সৃজলা গুহ এবং মনামী ঘোষের সঙ্গেও বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। মনোনয়ন পর্বেও জয়িতাকে নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। একাধিক প্রতিযোগী তাঁকে ডাগআউটে পাঠানোর পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেপ্টেম্বর মাসে দর্শকদের ভোটে শো থেকে বাদ পড়েন তিনি। জয়িতাকে ঘিরে ঘরের ভিতরে যে মতবিরোধ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা দর্শকদের আলোচনাতেও জায়গা করে নিয়েছিল। ফলে তাঁর অনুরাগীদের একাংশ মনে করেন, জয়িতা আরও কিছু দিন ঘরে থাকলে প্রতিযোগীদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং খেলার সমীকরণে নতুন মোড় আসতে পারত। সেই কারণেই অনুষ্কার সঙ্গে জয়িতার নামও উঠে এসেছে সাম্প্রতিক দর্শক প্রতিক্রিয়ায়।

এবার আসা যাক সোনামণি সাহা এবং রণিতার প্রসঙ্গে। বিগ বস বাংলার পরিচিত মুখ সোনামণি শুরু থেকেই প্রতিযোগিতায় নিজের জায়গা ধরে রাখার কথা জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, রণিতা দাসের প্রবেশ নতুন প্রতিযোগী হিসেবে ঘরের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে সোনামণিকে একাধিক বার মনোনয়নের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। ২৫ অক্টোবরের পর্বে ভরত কল, তনুশ্রী রায় দাস এবং সোনামণির মধ্যে একজনের বিদায় নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ভরত কল শো থেকে বাদ পড়েন, ফলে সোনামণি আরও এক সপ্তাহের জন্য প্রতিযোগিতায় থেকে যান। এই ফলের পরেই কিছু দর্শকের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, একই ভাবে অন্য প্রতিযোগীদের ক্ষেত্রে কি যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছিল? যদিও কোনও প্রতিযোগীকে চ্যানেল ইচ্ছাকৃত ভাবে টিকিয়ে রাখছে, এমন দাবি প্রমাণিত নয়, তবু এলিমিনেশনের ফল নিয়ে দর্শকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাঁদের একাংশের বক্তব্য, জনপ্রিয়তা ও খেলার উত্তেজনা ধরে রাখতে হলে প্রতিযোগীদের বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, বিগ বস বাংলার সাম্প্রতিক এলিমিনেশন ঘিরে দর্শকদের মতামত যে একরকম নয়, তা স্পষ্ট। কেউ সোনামণির খেলা সমর্থন করছেন, কেউ আবার অনুষ্কা ও জয়িতার মতো বিতর্কে জড়ানো প্রতিযোগীদের আরও বেশি দিন ঘরে দেখতে চেয়েছিলেন। কারণ, এই ধরনের রিয়্যালিটি শোয়ে শুধু জনপ্রিয় মুখ থাকলেই হয় না, প্রতিযোগীদের মধ্যে মতবিরোধ, ব্যক্তিত্বের সংঘাত এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিও দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সেই জায়গা থেকেই ওই দর্শকের মন্তব্য, সোনামণি ও রণিতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য মরিয়া না হয়ে অনুষ্কা ও জয়িতাকে ধরে রাখলে শোয়ের ক্রেজ অন্য উচ্চতায় পৌঁছতে পারত। তবে এটি দর্শকের ব্যক্তিগত মতামত, চ্যানেলের সিদ্ধান্তের পিছনে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি। এখন দেখার, আগামী পর্বগুলিতে প্রতিযোগীদের খেলা কী নতুন মোড় নেয় এবং দর্শকদের এই অসন্তোষ অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তার আলোচনায় কতটা প্রভাব ফেলে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page