‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে নিরঞ্জন মণ্ডল ও দুর্নিবার সাহার বন্ধুত্ব নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সম্প্রতি খেলার ময়দানে নিরঞ্জনের পারফরম্যান্স এবং তাঁকে সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড় হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন, নিরঞ্জন যখন দুর্নিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তখন প্রয়োজনের সময় দুর্নিবার কেন তাঁর পাশে দাঁড়ালেন না? এর আগেও অধিনায়কত্বের খেলা চলাকালীন দুজনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা গিয়েছিল। সেই সময় নিরঞ্জন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দুর্নিবারের আচরণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। অথচ এবার নিরঞ্জনের হয়ে কথা বলার সুযোগ থাকলেও দুর্নিবারকে সেভাবে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি বলেই অভিযোগ দর্শকদের। বরং জিতুর সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি সহমত হয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে। ফলে দুই প্রতিযোগীর সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নিরঞ্জনের পারফরম্যান্স বিচার করতে গিয়ে তাঁর সমর্থকদের বক্তব্য, এবারের খেলায় তিনি যথেষ্ট বুদ্ধি ও কৌশলের পরিচয় দিয়েছেন। প্রথমেই তারকা চুরি করে একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, খেলার শেষ মুহূর্তেও নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন নিরঞ্জন। শেষ পর্যায়ে একটানা গান গেয়ে যাওয়ার বিষয়টিও দর্শকদের নজর কেড়েছে। পাশাপাশি এমন একটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে লাফিয়ে এগোনোর পাশাপাশি তারের নিচ দিয়ে শরীর গলিয়ে যেতে হচ্ছিল প্রতিযোগীদের। সেই কঠিন পর্বেও নিরঞ্জন দ্রুত খেলা শেষ করেছিলেন বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি। তাঁদের মতে, একাধিক ক্ষেত্রে ভালো পারফরম্যান্স করার পরেও তাঁকে সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড় হিসেবে চিহ্নিত করা যুক্তিসংগত নয়। দুর্নিবারও তো পুরো খেলাটি দেখেছেন। তাহলে নিরঞ্জনের এই প্রচেষ্টা তাঁর চোখ এড়িয়ে গেল কী করে? এই প্রশ্নই এখন তুলছেন দর্শকদের একাংশ।
আরও পড়ুনঃ যেমন কর্ম তেমন ফল! “চারটে বই আর গান লিখে এত টাকা পাওয়া যায় না, অতি লোভী তাঁতি নষ্ট!” ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার হতেই মুখ খুললেন ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়! পুরনো ক্ষোভ উগরে দিয়ে আরও কী বললেন তিনি?
অবশ্য জিতুর পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়াটাও যে সহজ ছিল না, তা মানছেন অনেকেই। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হওয়ার আগে দুর্নিবার অন্তত নিরঞ্জনের পারফরম্যান্সের দিকগুলি তুলে ধরতে পারতেন বলে মনে করছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, ব্যক্তিগত ঝগড়া বা মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু বন্ধুত্বের জায়গা থেকে অন্যায় মনে হলে প্রতিবাদ করা উচিত। নিরঞ্জন যখন দুর্নিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তখন দুর্নিবারের কাছ থেকেও একই ধরনের সমর্থন প্রত্যাশিত ছিল। অধিনায়কত্বের খেলার সময়ও নিরঞ্জনকে দুর্নিবারের পাশে সেভাবে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল। এবারও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। যদিও দুর্নিবারের নীরবতার পিছনে তাঁর নিজস্ব যুক্তি বা ভাবনা কী ছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবু পরপর এমন ঘটনা দুই প্রতিযোগীর বন্ধুত্বের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন দেখার, আগামী দিনে তাঁদের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়।
