বিগ বস বাংলার ঘরে সোনামণি সাহাকে ঘিরে ফের শুরু হয়েছে আলোচনা। এ বার বিগ বসের কাছ থেকে বিশেষ ক্ষমতা পাওয়ার পরেই তাঁকে নিয়ে আপত্তি তুলেছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, সোনামণি নাকি বিগ বসকে খুশি করার জন্য অতিরিক্ত ন্যাকামি করছেন। একজন দর্শক এই আচরণের সঙ্গে স্কুলের সেই সব পড়ুয়ার তুলনা করেছেন, যারা শিক্ষকের নজরে আসার জন্য অতিরিক্ত তোষামোদ করে। সোনামণির সাম্প্রতিক আচরণ দেখে তাঁরও ঠিক তেমনই মনে হয়েছে বলে দাবি ওই দর্শকের। বিশেষ করে বিগ বসের সামনে সোনামণির কথাবার্তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিরক্তি। তাঁর অভিযোগ, ঘরের অন্য সদস্যরা তাঁর কথা শোনেন না বলে সোনামণি একের পর এক অভিযোগ করতে থাকেন। সৃজলা, দুর্নিবার, নন্দিনী-সহ কয়েকজন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ঘুমিয়ে থাকেন বলেও তিনি দাবি করেছেন।
এর পরেই বিগ বসের তরফে সোনামণিকে দেওয়া হয় একটি বিশেষ ক্ষমতা। ঘোষণা করা হয়, যেহেতু সোনামণি আগে ঘরের ক্যাপ্টেন ছিলেন, তাই তাঁকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। ঘরের কোনও সদস্য নিয়ম ভাঙলে সোনামণি তা থামাতে পারবেন বলে জানানো হয়। এই ঘোষণা শুনেই দর্শকদের একাংশের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের বক্তব্য, ক্যাপ্টেনের দায়িত্বের উপরেও কি এ বার সোনামণির আলাদা ক্ষমতা তৈরি হল? একজন দর্শক তাই বিষয়টিকে ব্যঙ্গ করে বলেছেন, এটা যেন ‘ক্যাপ্টেনের উপর ক্যাপ্টেন’। এর আগে সোনামণি টাস্ক জিতে ক্যাপ্টেন হয়েছিলেন এবং দায়িত্ব পাওয়ার পর ঘরের কাজ ভাগ করাও শুরু করেছিলেন। সেই সময়েও রাজবীরের সঙ্গে কাজ ভাগ করা নিয়ে তাঁর মতবিরোধের খবর সামনে এসেছিল।
নতুন ক্ষমতা পাওয়ার পর সোনামণি সেটি কী ভাবে ব্যবহার করছেন, তা নিয়েও নজর পড়েছে দর্শকদের। অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্নিবার, নন্দিনী এবং বিশেষ করে রাজবীর তখন ঘুমোচ্ছিলেন। তখন সোনামণি তাঁদের ঘুম থেকে তুলে দেন বলে দাবি ওই দর্শকের। শুধু ঘুম থেকে তোলাই নয়, তাঁদের নিজের পাওয়া নতুন ক্ষমতার কথাও জানিয়ে দেন তিনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আরও হাসি ঠাট্টা শুরু হয়েছে। একাংশের প্রশ্ন, বিগ বসের কাছ থেকে সোনামণি এ ভাবে একের পর এক বাড়তি সুবিধা বা ক্ষমতা পেতে থাকলে অন্য প্রতিযোগীদের অবস্থান কোথায় থাকবে? বিশেষ করে রাজবীর, নন্দিনী ও দুর্নিবারের মতো প্রতিযোগীদের উপর এই ক্ষমতার প্রভাব কী হয়, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সোনামণির সমর্থকেরা তাঁর এই সক্রিয়তাকে ঘরের নিয়ম বজায় রাখার চেষ্টা হিসেবেও দেখতে পারেন। তবে আপাতত নতুন ক্ষমতাই তাঁকে ঘিরে দর্শকদের আলোচনার মূল কারণ হয়ে উঠেছে।
সোনামণিকে নিয়ে এই ধরনের আলোচনা অবশ্য বিগ বসের ঘরে নতুন নয়। এর আগেও তাঁর ক্যাপ্টেন হওয়া নিয়ে দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। ক্যাপ্টেন নির্বাচনের টাস্কে তিনি অন্যদের টেক্কা দিয়ে মুকুট দখল করেছিলেন। মুকুট হাতে পেয়েই তিনি বাথরুমে গিয়ে লুকিয়ে পড়েছিলেন এবং পরে বিগ বস তাঁকেই ক্যাপ্টেন ঘোষণা করেন। সেই পর্বে তাঁর বুদ্ধির প্রশংসাও করেছিলেন অনেকে। তবে সময়ের সঙ্গে তাঁর সিদ্ধান্ত এবং বিগ বসের কাছ থেকে পাওয়া সুবিধা নিয়েই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। বিশেষ ক্ষমতা পাওয়ার পর সোনামণির ভূমিকা যে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই ক্ষমতা তিনি কী ভাবে ব্যবহার করবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কারণ ঘরে নিয়ম ভাঙা ঠেকানোর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে নতুন কোনও সংঘাত তৈরি হয়, তা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ আইনি বিয়ের পরেও বাকি ছিল বড় চমক! শ্রুতির এক পোস্ট ঘিরে টলিপাড়ায় জোর চর্চা, স্বর্ণেন্দুর সঙ্গে কী নতুন সিদ্ধান্ত নিলেন অভিনেত্রী?
এখন দর্শকদের একাংশের কটাক্ষ, সোনামণি এ ভাবে একের পর এক ক্ষমতা পেতে থাকলে শেষ পর্যন্ত সরাসরি ফাইনালে পৌঁছে যাবেন কি না! একজন দর্শক রসিকতা করে বলেছেন, ‘ক্ষমতা পেতে পেতে ফাইনালে উঠে যাবে মনে হচ্ছে।’ অর্থাৎ তাঁর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য সোনামণির নতুন ক্ষমতা নয়, বরং বিগ বসের কাছ থেকে বারবার বিশেষ সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি। অন্যদিকে চলতি মরসুমে বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রতিযোগীই বিশেষ ক্ষমতা পেয়েছেন এবং সেই ক্ষমতা ঘরের সমীকরণ বদলে দিয়েছে। রাজবীরও এর আগে ক্যাপ্টেন্সির সুযোগ পেয়েও দুর্নিবারকে ক্যাপ্টেন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ফলে ঘরের ক্ষমতার সমীকরণ যে নিয়মিত বদলাচ্ছে, তা স্পষ্ট। এবার সোনামণির হাতে দেওয়া নতুন ক্ষমতা সেই সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই দেখার। তবে আপাতত তাঁর এই বিশেষ ক্ষমতা নিয়ে দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন এবং কটাক্ষ থামছে না। সোনামণির পরের পদক্ষেপেই হয়তো বোঝা যাবে, এই ক্ষমতা সত্যিই ঘরের নিয়ম সামলানোর জন্য, নাকি তা থেকেই তৈরি হবে নতুন কোনও বিতর্ক।
