রাজবীর করলে খু*নি তকমা, জিতু করলেই খুনসুটি? বিগ বসের ঘরে রাজবীরকে জলে চুবিয়ে মারার পরিকল্পনার অভিযোগ দর্শকদের! উঠল দাদার দরবারে জিতুর কড়া শাস্তির দাবি!

‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে প্রতিযোগীদের আচরণ নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে লাক্সারি বাজেট টাস্ককে ঘিরে জিতু কমলের একটি মন্তব্য সামনে আসতেই নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, রাজবীর দে-কে দীর্ঘ সময় জলে রেখে চাবি খোঁজানোর পরিকল্পনা নিয়ে জিতুর মন্তব্য যথেষ্ট আপত্তিকর। বিশেষ করে ‘যতক্ষণ না অসুস্থ হয়ে যায়’ ধরনের বক্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন, একই কাজ যদি রাজবীর করতেন, তাহলে তাঁকে কি এত সহজে ‘দুষ্টুমি’ বলে এড়িয়ে যাওয়া হত? নাকি তাঁর বিরুদ্ধে আরও বড় অভিযোগ উঠত এবং ‘খুনি’ তকমা পর্যন্ত জুড়ে দেওয়া হত? এই দ্বিমুখী বিচার নিয়েই এবার সমাজ মাধ্যমে সরব হয়েছেন অনেকে। তাঁদের বক্তব্য, প্রতিযোগিতার নামে কোনও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিচারটা সবার ক্ষেত্রেই একই হওয়া উচিত। সেই কারণেই জিতুর ক্ষেত্রে ‘খুনসুটি’ আর রাজবীরের ক্ষেত্রে কঠোর বিচার কেন, সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

রাজবীরকে নিয়ে জিতুর এই মন্তব্যের অভিযোগ সামনে আসার পর আগের একাধিক বিতর্কও ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগে রাজবীরের সঙ্গে জিতুর একাধিকবার বিবাদ হয়েছে। নারীদের উদ্দেশে করা ‘তুই একটা মেয়েছেলে’ এবং ‘পুরুষ হয়ে দেখা’র মতো মন্তব্য নিয়েও দর্শকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছিলেন। ‘গুড়িয়া’ নিয়ে খেলার প্রসঙ্গেও জিতুর কথাবার্তা ঘিরে সমাজ মাধ্যমে সমালোচনা হয়েছিল। এবার লাক্সারি বাজেট টাস্কে রাজবীরকে দীর্ঘ সময় জলে রাখার মন্তব্য সেই পুরনো বিতর্ককেই আরও উসকে দিয়েছে। দর্শকদের একাংশের বক্তব্য, রাজবীরের কোনও আচরণকে যদি ভয়ঙ্কর বা সীমা ছাড়ানো বলে দেখা হয়, তাহলে একই ধরনের অভিযোগ অন্য প্রতিযোগীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। শুধু প্রতিযোগীর পরিচয় বা দর্শকের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়ম বদলে যেতে পারে না বলেই মত তাঁদের। বিশেষ করে কোনও প্রতিযোগী অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি করার কথা বলা হলে সেটিকে কতটা হালকা ভাবে নেওয়া উচিত, সেই প্রশ্নও তুলছেন তাঁরা। এই জায়গাতেই জিতুর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

দর্শকদের একাংশ আরও বলছেন, আজ যদি রাজবীরের মুখ থেকে এমন কথা শোনা যেত, তাহলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্য রকম হতে পারত। তাঁদের দাবি, রাজবীরকে ঘিরে আগেও নানা মন্তব্য এবং আচরণ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। সেই তুলনায় জিতুর ক্ষেত্রে একই ধরনের অভিযোগ উঠলে সেটিকে ‘খুনসুটি’ বা মজার ছলে বলা কথা হিসেবে দেখানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন। সমাজ মাধ্যমে কেউ কেউ সরাসরি জানতে চাইছেন, ‘রাজবীর করলে খুনি, জিতু করলেই খুনসুটি কেন?’ আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, ‘দাদার দরবারে এই কাজ রাজবীর করলে কতটা শাস্তি পেত?’ দর্শকদের বক্তব্য, এক প্রতিযোগীর ক্ষেত্রে যদি আচরণের উদ্দেশ্য নিয়ে এত কঠোর প্রশ্ন ওঠে, তাহলে অন্য প্রতিযোগীর ক্ষেত্রেও একই মাপকাঠি থাকা প্রয়োজন। তবে জিতু সত্যিই রাজবীরকে শারীরিক ভাবে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এমন কথা বলেছেন, এমন নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে নেই। তাই পুরো ঘটনাটির প্রেক্ষাপট না জেনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয় বলেও মনে করছেন অনেকে। তবু মন্তব্যটি নিয়ে দর্শকদের যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই বিতর্কের মধ্যেই আবার উঠে এসেছে ‘দাদার দরবার’-এর প্রসঙ্গ। দর্শকদের একাংশের বক্তব্য, বিগ বস বাংলায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে যে ভাবে প্রতিযোগীদের আচরণ নিয়ে আলোচনা হয়, সেখানেই এবার জিতুর বিষয়টিও তোলা উচিত। তাঁদের দাবি, কোনও প্রতিযোগীর আচরণ যদি সীমা ছাড়িয়ে যায় বলে মনে হয়, তাহলে তাঁর জনপ্রিয়তা বা অবস্থান না দেখে একই ভাবে প্রশ্ন করা দরকার। রাজবীরের কোনও কাজকে কেন্দ্র করে যদি তাঁকে কঠোর ভাষায় বিচার করা হয়, তাহলে জিতুর ক্ষেত্রেও সেই একই মানদণ্ড প্রয়োগ করার দাবি উঠছে। এমনকি দর্শকদের একাংশ চাইছেন, ‘দাদার দরবারে’ জিতুর এই মন্তব্যের জন্য কড়া শাস্তির কথাও আলোচনা করা হোক। তাঁদের বক্তব্য, শুধু রাজবীর নয়, বিগ বসের ঘরে থাকা প্রত্যেক প্রতিযোগীর নিরাপত্তা এবং সম্মান সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ‘খুনসুটি’ বলে কোনও বিষয়কে এড়িয়ে যাওয়ার বদলে ঘটনাটির গুরুত্ব খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একইসঙ্গে রাজবীরের ক্ষেত্রেও কোনও অভিযোগ থাকলে তারও নিরপেক্ষ বিচার হওয়া উচিত বলে মত দর্শকদের। অর্থাৎ তাঁদের দাবি একটাই, নিয়ম যদি থাকে, তাহলে সেই নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া দরকার।

সব মিলিয়ে জিতুর মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন শুধু রাজবীর এবং জিতুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
এটি পৌঁছে গিয়েছে ‘বিগ বস বাংলা’র বিচার এবং প্রতিযোগীদের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য কি না, সেই প্রশ্নে। দর্শকদের একাংশের বক্তব্য, রাজবীর একই কাজ করলে তাঁকে হয়তো আরও ভয়ঙ্কর তকমা দেওয়া হত।
এমনকি ‘খুনি’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার মতো প্রতিক্রিয়াও আসতে পারত বলে মনে করছেন তাঁরা। সেখানে জিতুর ক্ষেত্রে বিষয়টি যদি শুধু ‘খুনসুটি’ হিসেবে দেখা হয়, তাহলে সেই পার্থক্যের কারণ কী, সেটাই তাঁদের প্রশ্ন। তাই ‘দাদার দরবারে’ জিতুর আচরণ নিয়ে কড়া প্রশ্ন এবং শাস্তির দাবি তুলেছেন দর্শকদের একাংশ। অবশ্য জিতুর বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং ঘটনার পরবর্তী অংশ সামনে না এলে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। তবু এই বিতর্ক যে দর্শকদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ এবং দ্বিমুখী বিচারের অভিযোগ তৈরি করেছে, তা স্পষ্ট।এবার ‘দাদার দরবারে’ এই বিষয়টি উঠলে জিতুকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেই নজর থাকবে দর্শকদের।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page