‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে প্রতিদিনই বদলাচ্ছে সম্পর্কের সমীকরণ। কখনও ঝগড়া, কখনও মান-অভিমান, আবার কখনও একে অপরের প্রতি বিশেষ যত্ন। তবে এবার আর ইঙ্গিত বা জল্পনা নয়, কার্যত নিজের মনের কথা জানিয়ে দিলেন জিতু কমল। গতকালের পর্বের একেবারে শেষদিকে সৃজলা গুহকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে দেখা গেল অভিনেতাকে। আর সেই মুহূর্ত সামনে আসতেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে দর্শক মহলে। এতদিন যে সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল, এবার কি তারই উত্তর দিলেন জিতু?
গত কয়েক দিন ধরেই জিতু ও সৃজলার ঘনিষ্ঠতা নজর কেড়েছে দর্শকদের। কখনও একসঙ্গে বসে গল্প করা, কখনও কফির আড্ডা, আবার কখনও একে অপরের সঙ্গে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা, সবেতেই যেন ধরা পড়েছে তাঁদের বিশেষ সমীকরণ। এমনকি সৃজলার জন্মদিনে ভিয়েতনাম যাওয়ার পরিকল্পনা শুনে সেখানে জিতুরও যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ নজর এড়ায়নি কারও। যদিও এই ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দু’জনের কেউই স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। বরং তাঁদের কথাবার্তা ও আচরণ ঘিরেই তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা।
তবে গত কয়েকটি পর্বে তাঁদের সম্পর্কে দেখা গিয়েছিল মান-অভিমানের পর্বও। জুতো রাখা নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর মধ্যে নন্দিনীর একটি মন্তব্যও পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। সৃজলাকে জিতুর ‘স্যাটেলাইট’ বলে কটাক্ষ করা হলে অভিনেতার নীরবতায় আরও অভিমানী হয়ে পড়েন সৃজলা। পরে তাঁকে বিছানায় শুয়ে মন খারাপ করতে দেখা যায়। সেই সময় নিজের মনের কথা বলতে গিয়ে সৃজলা বলেন, ‘দূরে চলে গেলে শান্তি পেয়ে যাবে। চাইনি ভালবেসে ফেলো।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই দর্শকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তবে কি জিতুর মনে সত্যিই বিশেষ অনুভূতি তৈরি হয়েছে?
এরপর গতকালের পর্বের শেষ মুহূর্তে যেন সেই প্রশ্নেরই উত্তর মিলল। সৃজলাকে উদ্দেশ্য করে জিতু বলেন, ‘এই আকাশ, এই বাতাস, এই পাখি, এই নদী সবাইকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি তোমাকে ভালবাসি।’ যদিও শেষের কথাটি বলার সময় মাইক চেপে ধরেছিলেন অভিনেতা। কিন্তু তাঁর এই প্রেমের প্রস্তাব দর্শকদের কান এড়ায়নি। ফলে এতদিনের সমস্ত ইঙ্গিত যেন এক মুহূর্তে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। জিতুর মুখে এমন কথা শুনে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল বেড়েছে দর্শকদের।
আরও পড়ুনঃ দুর্নিবার নিরঞ্জনের এ কেমন ভিডিও? সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হচ্ছে বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি! বিগ বসের ঘরে বারবার একই কাণ্ড, ২৪ ঘণ্টার লাইভে দুই প্রতিযোগীর অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি ও আচরণ দেখে অস্বস্তিতে দর্শকরা!
তবে জিতুর এই প্রস্তাবে সৃজলার প্রতিক্রিয়া কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি কি সত্যিই জিতুর অনুভূতিতে সাড়া দেবেন, নাকি বিগ বসের ঘরের এই ঘনিষ্ঠতা শুধুই বন্ধুত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে? অন্যদিকে, রিয়্যালিটি শোয়ের পরিবেশে তৈরি হওয়া এই সম্পর্ক কতটা বাস্তব এবং কতটা মুহূর্তের আবেগ, সেই প্রশ্নও থাকছে। রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে যখন চর্চা চলছে, তখন জিতু-সৃজলার এই নতুন অধ্যায় দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিল। এবার দেখার, আগামী পর্বে তাঁদের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়।
