অভিনেত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন দর্শকদের মন জয় করার পর এবার পরিচালক হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করেছেন চৈতি ঘোষাল (Chaiti Ghoshal)। তাঁর প্রথম পরিচালিত ছবি ‘নেভারমাইন্ড’ মুক্তির আগেই নানান কারণে চর্চায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে নিজের ছেলে অমর্ত্য রায়কে (Amartya Ray) ছবির মুখ্য চরিত্রে নেওয়া নিয়ে স্বজনপোষণের অভিযোগও উঠেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই বিতর্কের জবাব দিয়েছেন চৈতি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ছেলেকে তিনি শুধু মা হিসেবে নয়, একজন নির্মাতা হিসেবেও বিচার করেছেন। তাঁর দাবি, অমর্ত্যের জায়গায় যদি অন্য কোনও বড় প্রযোজনা সংস্থা বা খ্যাতনামা পরিচালকও এই চরিত্রের জন্য শিল্পী খুঁজতেন, তাহলেও অমর্ত্যই নির্বাচিত হতো। কারণ এই চরিত্রের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, দক্ষতা এবং মানসিকতা তার মধ্যেই রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
চৈতি জানান, অমর্ত্যকে শুধুমাত্র তাঁর ছেলে বলেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। অভিনয় ও পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে তৈরি করেছে সে। দেশের অন্যতম স্বনামধন্য চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা নিয়ে পড়াশোনা করেছে, তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছে এবং সেই কাজ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, মুম্বইয়ে গিয়েও একাধিক অডিশন দিয়ে বড় প্রযোজনার ছবিতে কাজের সুযোগ পেয়েছে। তাই তাঁর মতে, অমর্ত্যের এই জায়গায় পৌঁছানোর পিছনে রয়েছে নিজের পরিশ্রম এবং প্রস্তুতি। এই কারণেই তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছেন, “স্বজনপোষণ নয়, আমার জায়গায় যে কোনও বড় পরিচালক হলেও অমর্ত্যকেই নায়ক হিসেবে নিতেন।”
সাক্ষাৎকারে অমর্ত্যও এই প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর কথায়, মা পরিচালক বলেই তিনি কোনও বাড়তি সুবিধা পাননি। বরং এই ছবিতে কাজ করার সময় তাঁকে আরও বেশি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। কারণ, দর্শক প্রথমেই তাঁকে পরিচালকের ছেলে হিসেবেই বিচার করবেন। সেই কারণেই নিজের অভিনয়, প্রস্তুতি এবং কাজের প্রতি শতভাগ মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। অমর্ত্য জানান, কোনও শিল্পীকেই শুধু পরিচয়ের জোরে দীর্ঘদিন টিকে থাকা সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত দর্শক কাজটাই দেখেন, আর সেই পরীক্ষায় পাশ করার জন্যই তিনি নিজেকে প্রতিনিয়ত তৈরি করে চলেছেন।
প্রথম ছবি পরিচালনা নিয়ে চৈতি ঘোষালও নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, পরিচালকের দায়িত্ব অভিনেত্রীর দায়িত্বের থেকে অনেক বড়। একটি ছবির প্রতিটি বিভাগ, প্রতিটি শিল্পী এবং পুরো কাজের ভার পরিচালকের কাঁধেই থাকে। তাই এই ছবিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মধ্যে আলাদা উত্তেজনা এবং দুশ্চিন্তা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, মা হিসেবে নয়, পরিচালক হিসেবেই অমর্ত্যকে কাজের সময় দেখেছেন। কোথাও ভুল হলে সেটাও ধরিয়ে দিয়েছেন। কারণ তাঁর বিশ্বাস, একজন শিল্পীকে এগিয়ে যেতে হলে প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রমাণ করতেই হয়। পরিচয় নয়, যোগ্যতাই শেষ পর্যন্ত একজনের আসল পরিচয় হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুনঃ অবশেষে অপেক্ষার অবসান! চার হাত এক হওয়ার কাউন্টডাউন শুরু! টলিপাড়ার এই জনপ্রিয় জুটি জানিয়ে দিলেন কবে বসতে চলেছেন বিয়ের পিঁড়িতে?
ছবির নাম ‘নেভারমাইন্ড’ নিয়েও কথা বলেছেন মা ও ছেলে। তাঁদের মতে, জীবনে সাফল্য যেমন আসে, তেমনই ব্যর্থতাও আসে। কোনও একটি ঘটনা বা সমালোচনায় থেমে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভাবনাই এই ছবির নামের মধ্যেও লুকিয়ে রয়েছে। চৈতি মনে করেন, জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতা মানুষকে নতুন কিছু শেখায়। তাই সমালোচনা বা বিতর্ককে ভয় না পেয়ে কাজের মাধ্যমেই তার উত্তর দেওয়া উচিত। অমর্ত্যও একই বিশ্বাসে আস্থা রাখেন। তাঁদের আশা, দর্শক সব বিতর্ক সরিয়ে রেখে ছবি এবং অভিনয় দেখেই নিজেদের মতামত জানাবেন।
