জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

৭ বছরের অপেক্ষার অবসান! প্রথম সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণা পেরিয়ে মা হলেন সুস্মিতা রায়, আবেগঘন পোস্টে জানালেন জীবনের সবচেয়ে বড় সুখবর!

অভিনেত্রী ও উদ্যোক্তা সুস্মিতা রায়ের জীবনে এল এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, অসংখ্য মানসিক লড়াই এবং না পাওয়ার কষ্টের পর অবশেষে মাতৃত্বের স্বাদ পেলেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতেই ব্যবসায়িক সঙ্গী শুভাশিস দে-র সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সুস্মিতা। সেই সময় তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে বিতর্ক হলেও, সবকিছুকে পিছনে ফেলে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন এই দম্পতি। এবার সেই পথচলার সবচেয়ে বড় সুখবর নিজেই জানালেন অভিনেত্রী। সমাজমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি জানান, তাঁদের পরিবারে এসেছে নতুন সদস্য। মুহূর্তের মধ্যেই সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে অনুরাগীদের মধ্যে।

সুস্মিতা নিজের পোস্টে হাসপাতালের একটি ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে রয়েছেন তিনি। তাঁর হাতের উপর রয়েছে স্বামী শুভাশিস দে-র হাত, আর সেই দু’জনের হাতের উপর রাখা রয়েছে সদ্যোজাত সন্তানের ছোট্ট হাত। এই ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছেন, “মা হলাম। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ যে স্বপ্নটা থেমে গিয়েছিল, আজ যেন তারই নতুন করে শুরু। দীর্ঘ সাত বছরের অপেক্ষা, লড়াই, অগণিত কষ্ট আর না পাওয়ার যন্ত্রণার পর আজ আমি মাতৃত্বের স্বাদ পেলাম।” তিনি আরও জানান, এই লড়াই কোনও শারীরিক সমস্যার বিরুদ্ধে ছিল না। বরং সময়, পরিস্থিতি এবং জীবনের নানা অদৃশ্য বাধার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পর অবশেষে এই আনন্দের মুহূর্ত এসেছে।

অভিনেত্রী আরও লিখেছেন, প্রথম সন্তানকে হারানোর সেই গভীর যন্ত্রণা আজও তাঁর মনে রয়ে গেছে। তাই এবার পুরো পথচলাটা তিনি সবার কাছ থেকে আড়ালেই রাখতে চেয়েছিলেন। তাঁর কথায়, আগেরবার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। কিন্তু এবার তিনি ঠিক করেছিলেন, সন্তানের জন্মের দিনেই সবাইকে এই সুখবর জানাবেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “সব শুভশক্তির আশীর্বাদে, সব কু নজর আর অভিশাপকে হারিয়ে, সন্তানের আগমনের দিনেই সবাইকে সুখবরটা জানাব।” এই কয়েকটি কথাতেই ধরা পড়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের মানসিক লড়াই, হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন ফিরে পাওয়ার আনন্দ এবং নতুন জীবনের প্রতি অগাধ বিশ্বাস।

নিজের এই কঠিন পথচলায় স্বামী শুভাশিস দে-র অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন সুস্মিতা। তিনি লিখেছেন, যখন অনেকেই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন, এমনকি অনেকেই চাননি তিনি মা হন, তখন শুভাশিসই তাঁর পাশে অটলভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অভিনেত্রীর ভাষায়, “যখন আমি ভেবেছিলাম হয়তো এই জীবনে আর কোনোদিন মা ডাকা সোনার সৌভাগ্য আমার হবে না, তখন ও আমার স্বপ্নটাকে নিজের স্বপ্ন করে আগলে রেখেছে, ভরসা দিয়েছে, লড়াই করার শক্তি দিয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি আরও লেখেন, শুভাশিসকে আলাদা করে ধন্যবাদ জানাবেন না, কারণ তিনি শুধু তাঁর জীবনসঙ্গী নন, তাঁদের সন্তানের বাবাও। এই যাত্রায় তাঁর ভালোবাসা, ভরসা এবং সমর্থনই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।

সবশেষে সুস্মিতা তাঁদের নতুন জীবনের জন্য সকলের আশীর্বাদ চেয়েছেন এবং যাঁরা এতদিন শুভকামনা ও ভালোবাসায় পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে এত বড় সুখবর জানালেও তিনি কোথাও উল্লেখ করেননি তাঁদের কোল আলো করে ছেলে এসেছে, নাকি মেয়ে। যদিও সমাজমাধ্যমে অনেক অনুরাগীর অনুমান, তাঁদের কন্যাসন্তান হয়েছে। তবে সেই বিষয়ে এখনও অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই শুভেচ্ছার বন্যায় ভরে যায় কমেন্ট বক্স। অনুরাগী থেকে সহকর্মী, সকলেই নবজাতকের সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন। দীর্ঘ সাত বছরের অপেক্ষার পর এই সুখবর সুস্মিতা ও শুভাশিসের জীবনে এক নতুন সূচনার সাক্ষী হয়ে রইল।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page