বাবা কিংবদন্তি শিল্পী, তাঁর গান আজও মুগ্ধ করে কয়েক প্রজন্মকে। সেই পরিচয়ের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে অগণিত প্রত্যাশা, তুলনা আর সাফল্যের কঠিন পরীক্ষা। এমন এক পরিবারের সন্তান হয়েও নিজের প্রতিভায় আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন গায়ক অমিত কুমার। তিনি কিশোরকুমারের ছেলে, তবে তাঁর পরিচয় শুধু এই একটি সম্পর্কের মধ্যে আটকে নেই। হিন্দি ছবির একাধিক জনপ্রিয় গানে নিজের কণ্ঠের জাদু ছড়িয়েছেন অমিত। তাঁর সঙ্গীতজীবনের পথচলায় রয়েছে নানা অভিজ্ঞতা, সাফল্য এবং নিজের জায়গা তৈরি করার গল্প।
১৯৫২ সালের ৩ জুলাই জন্ম অমিতের। তাঁর মা রুমা গুহঠাকুরতাও ছিলেন পরিচিত গায়িকা ও অভিনেত্রী। ফলে ছোট থেকেই সঙ্গীত ও অভিনয়ের পরিবেশে বড় হয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। শৈশবে কলকাতার দুর্গাপুজোর অনুষ্ঠানে গান গাইতেন অমিত। উত্তমকুমারের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তাঁর গান শুনে দর্শকদের প্রশংসা কিশোরকুমারের নজর কাড়ে। এরপরই ছেলেকে বম্বেতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ছোটবেলায় বাবার পরিচালিত ‘দূর গগন কি ছাঁও মে’ এবং ‘দূর কা রাহি’ ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন অমিত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গানের জগতেই নিজের পরিচিতি আরও মজবুত করেন তিনি।
অমিতের কেরিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ১৯৮১ সালে। ‘লাভ স্টোরি’ ছবির ‘ইয়াদ আ রহি হ্যায়’ গানটি তাঁকে বিশেষ জনপ্রিয়তা এনে দেয়। এই গানের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পান তিনি। এরপর ‘এক দো তিন’, ‘তিরছি টোপিওয়ালে’ এবং ‘ক্যায়সা লাগতা হ্যায়’-এর মতো গান শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নেয়। তাঁর কণ্ঠে যেমন ছিল নিজস্বতা, তেমনই ছিল সুরের সঙ্গে আবেগ মিশিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা। ফলে কিংবদন্তি বাবার পরিচয় থাকা সত্ত্বেও অমিত নিজের কণ্ঠের জোরেই শ্রোতাদের কাছে আলাদা হয়ে উঠতে পেরেছেন।
কিশোরকুমারের বিশাল জনপ্রিয়তার কারণে তাঁর ছেলের সঙ্গে বাবার তুলনা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অমিতের সঙ্গীতজীবনের গল্প বুঝিয়ে দেয়, উত্তরাধিকার পাওয়া আর নিজের পরিচয় তৈরি করা এক বিষয় নয়। বাবার গান ও সঙ্গীতের ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়েও নিজের পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। নিয়মিত চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার ব্যস্ততা আগের তুলনায় কমলেও সঙ্গীত থেকে দূরে সরে যাননি অমিত। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কনসার্টের মাধ্যমে এখনও শ্রোতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পুজোয় হারি’য়েছেন প্রিয় মানুষকে, চোরবাগান কান্ডে অত্যন্ত ম’র্মাহত তিনি! এই বছর জৌলুসহীন চৈতি ঘোষালের লক্ষ্মীপুজো
কিশোরকুমারের মতো কিংবদন্তি শিল্পীর সন্তান হওয়া যেমন গর্বের, তেমনই সেই পরিচয়ের বাইরে নিজের জায়গা তৈরি করাও বড় চ্যালেঞ্জ। অমিত কুমারের জীবন সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়। বাবার নাম তাঁকে পরিচিতির দরজা খুলে দিতে সাহায্য করলেও, দীর্ঘদিন ধরে শ্রোতাদের মনে জায়গা ধরে রাখতে প্রয়োজন হয়েছে নিজের প্রতিভা ও কণ্ঠের। তাই অমিতের পরিচয় শুধু কিশোরকুমারের উত্তরসূরি হিসেবে নয়, বরং ভারতীয় সঙ্গীতের জগতে নিজের স্বতন্ত্র অবদান রাখা এক গায়ক হিসেবেও।
