স্বজন হারানোর শোক, চোরবাগানকাণ্ডের আতঙ্ক! কেন এ বার লক্ষ্মীপুজোর জৌলুস কমালেন চৈতি ঘোষাল?
উৎসবের মরসুম এলেই চারদিকে আনন্দের আবহ। বাড়িতে বাড়িতে পুজোর প্রস্তুতি, আলপনা, ভোগ আর আত্মীয়স্বজনের আনাগোনায় জমে ওঠে উদ্যাপন। কিন্তু এ বার সেই চেনা আনন্দ যেন মন থেকে অনুভব করতে পারছেন না অভিনেত্রী চৈতি ঘোষাল। প্রতি বছর নিজের বাড়িতে ধুমধাম করে লক্ষ্মীপুজো করেন তিনি। তবে এ বার সেই পরিচিত ছবিতে বদল এসেছে। পুজোর আড়ম্বরের বদলে ঘরোয়া আয়োজনেই সন্তুষ্ট থাকতে চাইছেন অভিনেত্রী। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত?
২০১৭ সাল থেকে নিজের বাড়িতে নিয়মিত লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করে আসছেন চৈতি। প্রতিমা আনা থেকে শুরু করে আলপনা, পুজোর নিয়মকানুন এবং ভোগের ব্যবস্থা, সব কিছুতেই থাকে তাঁর বিশেষ যত্ন। এই আয়োজনে পরিবারের সদস্যদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। কিন্তু এ বার দুর্গাপুজোর ঠিক আগে পিসিকে হারিয়েছেন অভিনেত্রী। লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি ও উদ্যাপনের সঙ্গে তাঁর পিসির গভীর যোগ ছিল। তাই প্রিয় মানুষটিকে ছাড়া আগের মতো আনন্দে মেতে ওঠা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বজন হারানোর শোকই এ বার উৎসবের আনন্দে প্রথম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে শুধু ব্যক্তিগত শোক নয়, কলকাতার চোরবাগানে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনাও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে চৈতিকে। ১৭ই অক্টোবরের সেই বিপর্যয়ের খবর শোনার পর থেকেই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেন তিনি। সাজগোজ করে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে যাঁরা আর বাড়ি ফিরতে পারলেন না, তাঁদের পরিবারের কথা ভেবেই বারবার মন খারাপ হচ্ছে অভিনেত্রীর। নিজের ছেলেকে নিয়ে তিনিও তো ঠাকুর দেখতে বেরোন। সেই পরিচিত অভিজ্ঞতার সঙ্গে দুর্ঘটনার শিকার পরিবারগুলির অসহায়তার তুলনা করেই প্রশ্ন তুলেছেন চৈতি, এমন পরিস্থিতিতে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠা কি সত্যিই সম্ভব?
উৎসবের আবহে বইয়ের স্টল ভাঙচুরের ঘটনাও মেনে নিতে পারেননি অভিনেত্রী। ধর্মীয় বা পৌরাণিক বই হোক, কিংবা মার্ক্সীয় দর্শন, গল্প অথবা প্রবন্ধের বই, কোনও বইয়েরই এমন অসম্মান হওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, বই নর্দমায় পড়ে থাকা কোনও সুস্থ সংস্কৃতির পরিচয় হতে পারে না। এত নেতিবাচক ঘটনার মধ্যে একমাত্র স্বস্তির জায়গা ছিল নবমীতে অ্যাকাডেমিতে তাঁর নাটক ‘রক্তকরবী’র সফল মঞ্চায়ন। দর্শকে ভর্তি প্রেক্ষাগৃহ কিছুটা হলেও আনন্দ দিয়েছে তাঁকে।
আরও পড়ুনঃ ‘বিগ বসে আমার কাছে রাজবীরই বিজয়ী, ব্যস!’ ফাইনালের আগেই শ্রীলেখার স্পষ্ট ঘোষণা, কোন প্রতিযোগীকে দিলেন ক’ড়া বার্তা?
এর পাশাপাশি এ বার কাজের জন্য মুম্বইয়ে রয়েছেন চৈতির ছেলে অমর্ত্যও। প্রতি বছর লক্ষ্মীপুজোয় মায়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নানা কাজে সাহায্য করেন তিনি। ফলে এ বার পরিবারের সেই পরিচিত ছবিটিও অনুপস্থিত। সব মিলিয়ে তাই জাঁকজমক এড়িয়ে ঘরোয়া পরিবেশেই লক্ষ্মীপুজো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিনেত্রী। এর আগে ২০২৪ সালেও আরজি কর কাণ্ডের আবহে উৎসবের আনন্দ থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলেন তিনি। এ বারও পরিস্থিতি তাঁকে সেই পথেই হাঁটতে বাধ্য করল।
