টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সমাজ মাধ্যমে চর্চা নতুন নয়। বিশেষ করে পর্দায় যাঁদের সবসময় শাড়ি বা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে দেখা যায়, তাঁদের বাস্তব জীবনের পোশাক নিয়ে প্রায়ই নানা মন্তব্য উঠে আসে। অনেক সময় সেই মন্তব্য প্রশংসার হলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা সমালোচনা বা ট্রোলের আকার নেয়। সম্প্রতি এমনই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অনামিকা চক্রবর্তী। নিজের পোশাক নিয়ে একাধিক কটাক্ষের জবাব তিনি স্পষ্ট ভাষায় দিয়েছেন, যা নিয়ে এখন সমাজ মাধ্যমে জোর আলোচনা চলছে।
কিছুদিন আগে স্বামী উদয়প্রতাপ সিংয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে মন্দারমণিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন অনামিকা। সমুদ্রের ধারে ওয়ান পিস পোশাকে কয়েকটি ছবি ও একটি রিল শেয়ার করার পর থেকেই মন্তব্যের বন্যা বয়ে যায়। অনেকেই লেখেন, তাঁকে নাকি ছোট পোশাকে দেখতে ভালো লাগে না। এই মন্তব্যগুলির জবাবে অভিনেত্রী নিজের সমাজ মাধ্যমের পোস্টে লেখেন, “রিসেন্টলি আমার একটা রিলে কিছু মানুষকে দেখলাম কমেন্ট করতে যে তারা নাকি আমাকে ছোট পোশাকে দেখতে অভ্যস্ত নয়। তাহলে আজ থেকেই অভ্যেস করে নিন। আর যদি না করতে পারেন, তাহলে নিজেদের মাথা ঘামিয়ে, সময় নষ্ট করে কমেন্ট করতে থাকুন। আমার কিন্তু তাতে কিছুই যায় আসে না। আপনারা ৪টে বাজে কথা বলবেন, আমি ১০টা ছোট পোশাক পরে ছবি দেব। এই চক্রটা সারাজীবন চলতেই থাকবে।”
এরপর নিজের বক্তব্য আরও স্পষ্ট করে অনামিকা জানান, “কিছু মানুষ আনফলো করবেন, আবার কিছু নতুন মানুষ ফলোও করবেন। এটাই তো সোশ্যাল মিডিয়ার নিয়ম। তাই যার যেটা করার, নিশ্চিন্তে করুন। কিন্তু অভ্যেসটা করে নিন। আর যদি সেটাও না হয়, তাহলে ‘নট ইন্টারেস্টেড’ বলে একটা অপশন তো আছেই নির্দ্বিধায় সেটাই বেছে নিন। দুজনেরই ভালো হবে। একটু ডিক্লাটারও হয়ে যাবে।” অভিনেত্রীর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই অনেক অনুরাগী তাঁর পাশে দাঁড়ান। তাঁদের মতে, একজন শিল্পী কী পোশাক পরবেন, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় এবং তা নিয়ে অযথা সমালোচনা করা উচিত নয়।
তবে বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি। এক মহিলা মন্তব্য করে লেখেন, “কথায় আছে ‘আপ রুচি খানা আর পর রুচি পহেন না’, মানে নিজের খুশিতে খাও আর অন্যেরা তোমাকে কী পরলে ভালো লাগছে সেরকম জামাকাপড় পর, সাজসজ্জা কর। যতদিন এই প্রবাদ বাক্য মানুষ মেনে চলেছে ততদিন পর্যন্ত পুরুষ-নারী উভয়ের সৌন্দর্য সভ্যতা দুটোই বজায় ছিলো, আর এখন বিশেষ করে মেয়েরা বলে নিজের টাকায় জামা কাপড় কিনে পরব, তাই সেটা পরব না কি পরব না সেটা আমার ব্যাপার, অর্ধেকও পরতে পারি, তাই এখন সমাজ প্রায় অর্ধ উলঙ্গ হয়ে গিয়েছে…” এই মন্তব্যেরও সরাসরি জবাব দেন অনামিকা। তিনি লেখেন, “আপনি হিপোক্রিসি করবেন না, প্লিজ। আমি দেখলাম আপনি স্লিভলেস ব্লাউজ পরে আছেন। আমার একটা পা দেখা গিয়েছে বলে সমস্যা? দিদি, জ্ঞান তখনই দেবেন, যখন সেটা নিজেও মেনে চলবেন। যাই হোক! সমাজে আরও অনেক খারাপ কাজ হচ্ছে, সেগুলোর দিকে ফোকাস করুন।”
আরও পড়ুনঃ আচমকাই গুরুত’র অসু’স্থ বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচার! কেমন রয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেতার শরীর?
অনামিকার এই স্পষ্ট অবস্থানকে সমর্থন করেছেন তাঁর বহু অনুরাগী। তাঁদের বক্তব্য, সমাজ মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য সবসময়ই থাকবে, তবে সেগুলিকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের মতো জীবন কাটানোই সবচেয়ে ভালো। অনেকেই অভিনেত্রীকে অনুরোধ করেছেন ভবিষ্যতেও যেন তিনি নিজের পছন্দমতো পোশাক পরেন এবং অযাচিত সমালোচনাকে গুরুত্ব না দেন। অন্যদিকে অনামিকার এই জবাব ঘিরে সমাজ মাধ্যমে নতুন করে শুরু হয়েছে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পোশাক নির্বাচন এবং নীতি পুলিশিং নিয়ে আলোচনা।
