একসময় টেলিভিশনের পর্দায় নিয়মিত মুখ ছিলেন অনামিকা চক্রবর্তী। একের পর এক ধারাবাহিকে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের কাছে ছিল খুব পরিচিত এবং প্রিয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদল এসেছে কাজের ব্যস্ততায়। বর্তমানে তাঁকে আগের মতো ধারাবাহিকে দেখা যায় না। অন্যদিকে তাঁর স্বামী উদয় এখন লিড চরিত্রে কাজ করছেন নিয়মিত। এই বৈপরীত্যের মধ্যেই অনামিকার একটি আবেগঘন সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ভক্তদের মনে কৌতূহল তৈরি করেছে।
সম্প্রতি অনামিকা কয়েকটি ছবি শেয়ার করেন যেখানে তাঁকে ঝর্ণার ধারে নীল রঙের শার্ট পরে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রকৃতির মাঝে তাঁর উপস্থিতি যেন শান্ত এবং স্বচ্ছ এক অনুভূতি তৈরি করে। ছবিতে হাসি থাকলেও ক্যাপশনে ছিল গভীর আত্মকথন। তিনি লিখেছেন জীবনের প্রতিটি পর্যায় তাঁকে নতুনভাবে তৈরি করেছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন সব অভিজ্ঞতার পিছনে একটি উদ্দেশ্য লুকিয়ে থাকে যা মানুষকে ভিতর থেকে শক্ত করে তোলে।
নিজের লেখায় অনামিকা জীবনের সঙ্গে সিনেমার তুলনা টেনে বলেন তিনি সচেতনভাবে নিজের চরিত্রে অভিনয় করে চলেছেন। তবে সেই অভিনয়ের মাঝেও তিনি ভুলতে চান না যে নিজের জীবনের পরিচালক তিনিই। অন্য কারও হাতে নিজের নিয়ন্ত্রণ তুলে দিতে চান না তিনি। বহু বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি বুঝেছেন মানুষ সবসময় একরকম নয়। তাই এখন তিনি বেশি সচেতন এবং নিজের সীমারেখা নিজেই ঠিক করে নিতে শিখেছেন।
অভিনেত্রী আরও জানান তিনি অনেক মানুষকে চেনেন কিন্তু সবাই তাঁর আপন নয়। প্রয়োজনের সময় যারা কাছে আসে তাদের জন্য তিনি আর নিজেকে উন্মুক্ত রাখেন না। সম্পর্কের দরজা অনেক আগেই বন্ধ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। চাওয়া এবং প্রয়োজনের সূক্ষ্ম পার্থক্য বুঝতে পারার মধ্যেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন মানসিক স্বস্তি। এই উপলব্ধি তাঁকে আরও আত্মনির্ভর এবং দৃঢ় করে তুলেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
আরও পড়ুনঃ মাইলফলক ছুঁয়েই বিদায়! ৭০০ পর্বের আনন্দের মাঝেই মনখারাপ, শেষের পথে ‘আনন্দী’? স্টুডিয়োপাড়ায় জোর জল্পনা, বড় বদল আসতে পারে জি বাংলার স্লটে! কবে শেষ হচ্ছে অন্বেষা-ঋত্বিক জুটির গল্প?
পোস্টের শেষাংশে স্বামী উদয়ের প্রসঙ্গ তুলে অনামিকা বলেন স্বাধীনতা ছাড়া ভালবাসা কখনও পূর্ণ হতে পারে না। ভালবাসা আর নির্ভরশীলতার মধ্যে যে সূক্ষ্ম সীমারেখা রয়েছে সেটি বুঝতে পারাই আসল শিক্ষা। তিনি স্বীকার করেন উদয়ের উপস্থিতি তাঁকে কৃতজ্ঞ করে তবে এখন তাঁর জীবন আরও শান্ত। নিজের সত্তাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে তিনি যেন এক পরিণত আত্মবিশ্বাসের পথে এগিয়ে চলেছেন।
