সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা টেলিভিশনের দুনিয়ায় এক অদ্ভুত পরিবর্তন চোখে পড়ছে। এক সময় সন্ধ্যা মানেই ছিল ধারাবাহিকের ভিড় এবং দর্শকের উন্মাদনা। তখন টিআরপি সহজেই দুই অঙ্ক ছুঁত। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। চলতি সপ্তাহে প্রায় সব চ্যানেলের ধারাবাহিকের নম্বর একসঙ্গে নেমে যাওয়ায় দর্শক ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিজ্ঞ পরিচালক রাজেন্দ্রপ্রসাদ দাসের মতে এর পেছনে মৌসুমি একটি বড় কারণ রয়েছে। এই সময় মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা চলতে থাকে। ফলে বহু পরিবারেই সন্ধ্যার টেলিভিশন সময় কমে যায়। পড়াশোনার চাপ বাড়লে বিনোদনের সময় স্বাভাবিকভাবেই সংকুচিত হয়। সেই প্রভাব সরাসরি সাপ্তাহিক রেটিং তালিকায় ধরা পড়ে বলে তাঁর বিশ্বাস।
তবে পরিচালক বাবু বণিক এই যুক্তিকে পুরোপুরি মানতে নারাজ। তাঁর মতে শুধুমাত্র পরীক্ষাকে দায়ী করা ঠিক নয়। বর্তমান প্রজন্ম একসঙ্গে পড়াশোনা এবং বিনোদন দুটোকেই সামলে চলে। তিনি মনে করেন চ্যানেলের মার্কেটিং কৌশল, প্রচারের ধরন এবং দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখার পদ্ধতি আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক কারণ নির্ধারণ করা তাই সহজ নয়।
পরিচালক অনুপম হরি বিষয়টিকে অন্য দৃষ্টিতে দেখছেন। তাঁর মতে দর্শকের অভ্যাস এখন অনেকটাই ডিজিটাল নির্ভর হয়ে উঠেছে। অনেকে আর নির্দিষ্ট সময় টেলিভিশনের সামনে বসেন না, বরং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সুবিধামতো সময় ধারাবাহিক দেখেন। এই দর্শকসংখ্যা প্রচলিত টিআরপি পরিমাপে সবসময় ধরা পড়ে না। ফলে বাস্তব জনপ্রিয়তা আর রেটিংয়ের ফারাক তৈরি হয়।
আরও পড়ুনঃ “সম্পর্কের দরজা বন্ধ, শুধুই অভিনয় করছি…” স্বাধীনতা ছাড়া ভালবাসা পূর্ণ হয় না! স্বামী উদয়ের প্রসঙ্গ টেনে অনামিকার আত্মকথন! ভালবাসা বনাম নির্ভরশীলতার সীমারেখায় কি দাম্পত্যে ধরছে ফাটল?
পরিচালকদের সম্মিলিত মত অনুযায়ী আরও কয়েকটি বাহ্যিক কারণও প্রভাব ফেলছে। নির্বাচনকাল, বড় খেলাধুলার প্রতিযোগিতা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ঘটনা দর্শকের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেয়। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিনোদনের ধরনও বদলাচ্ছে। তাই টিআরপি কমার পেছনে একক কারণ নয়, বরং একাধিক পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব কাজ করছে।
