বাংলা সিনেমার একসময়ের পরিচিত অভিনেত্রী ‘রীনা চৌধুরী’ (Rina Chowdhury) সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবন, বাবা অঞ্জন চৌধুরীর অবদান এবং টলিউডের পরিবর্তিত সংস্কৃতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল একটি প্রশ্ন, অঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরে যাঁরা একসময় সহকারী পরিচালক থেকে প্রতিষ্ঠিত পরিচালক হয়ে উঠেছিলেন, তাঁদের অনেকের ছবিতেই পরে কেন দেখা যায়নি রীনা বা তাঁর দিদি চুমকি চৌধুরীকে? এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা নতুন করে চর্চা শুরু করেছে টলিউডে। একই সঙ্গে তিনি তুলে ধরেছেন এমন এক অঞ্জন চৌধুরীর ছবি, যিনি নিজের সাফল্যের কথা না ভেবে অন্যদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে ব্যস্ত ছিলেন।
রীনা জানান, ছোটবেলা থেকেই সিনেমার পরিবেশে বড় হওয়ায় স্টুডিও তাঁর কাছে ছিল একেবারে পরিচিত জায়গা। অঞ্জন চৌধুরীর জনপ্রিয় ছবি ‘শত্রু’-তে প্রসেনজিতের বোনের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়যাত্রা শুরু হয়। সেই সময় ক্যামেরা বা শুটিং সম্পর্কে বিশেষ ধারণা ছিল না তাঁর। বাবার নির্দেশ মেনেই অভিনয় করেছিলেন। পরে ধীরে ধীরে ‘গীত সংগীত’, ‘পূজা’, ‘মেজবউ’ এবং ‘আব্বাজান’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করে দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। পাশাপাশি পড়াশোনার উপর জোর দেওয়ায় অঞ্জন চৌধুরী মেয়েদের শিক্ষাকেই আগে গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
সাক্ষাৎকারে উঠে আসে অঞ্জন চৌধুরীর সহকারীদের প্রসঙ্গ। রীনার কথায়, “আমার বাবা নিঃস্বার্থভাবে নিজের হাতে ধরে অ্যাসিস্ট্যান্টদের পরিচালনায় এনেছিলেন। পরবর্তীকালে তাদের মধ্যে অন্যতম নাম হরনাথ চক্রবর্তী। কিন্তু তারা কেন আমার দিদি বা আমাকে নিলেন না ছবিতে, সেটা জানা নেই। তবে এমনও কয়েকজন আছেন যারা বাবার অ্যাসিস্ট্যান্ট না হয়েও পরবর্তীকালে পরিচালনায় এসে প্রতিটা ছবিতে আমাদের নিয়েছেন।” তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই বিষয় নিয়ে তাঁদের কোনও প্রকাশ্য ক্ষোভ নেই। একই সঙ্গে বলেন, “আমরা কাউকে কখনও ফোন করে কাজ চাইনি। যদি কেউ নিজে ডেকে বলে, তবেই কাজ করব। আমি এমন একজন পিতার সন্তান, যেখানে মাথাটা খুব উঁচু থাকে।” তাঁর মতে, কাজের জন্য কারও কাছে অনুরোধ করার শিক্ষা তাঁরা পাননি।
বাবার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রীনা বারবার তুলে ধরেছেন তাঁর মানবিকতার কথা। অভিনেত্রীর দাবি, অনেক প্রযোজক এমনও বলতেন, “আপনি ডিরেক্টর হলে তবেই ছবি প্রযোজনা করব।” কিন্তু সেই সুযোগ নিজের কাছে না রেখে বহুবার সহকারীদের সামনে এগিয়ে দিয়েছেন অঞ্জন চৌধুরী। কখনও নিজে প্রযোজক হয়েছেন, আবার পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন নতুনদের হাতে। রীনার কথায়, “এই মানবিকতা সবাইয়ের মধ্যে থাকে না। এটা কাউকে শেখানো যায় না।” তাঁর মতে, আজকের দিনে এমন নিঃস্বার্থ মানুষ খুব কমই দেখা যায়। যাঁরা নিজের ভবিষ্যতের পাশাপাশি অন্যের ভবিষ্যৎ গড়ে দেওয়ার কথাও ভাবতেন, অঞ্জন চৌধুরী ছিলেন তাঁদেরই একজন।
আরও পড়ুনঃ প্রথম রাতেই সায়ন্তনের আসল মুখ দেখল খেয়া! ‘ইচ্ছে পুতুল’-এর ‘গিনি-রূপ’ অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি দেখিয়ে কি এবার টিআরপি তালিকায় বাজিমাত করবে ‘জোয়ার ভাঁটা’? একই ফর্মুলা এবারও খাটবে, কি মনে হয় আপনাদের?
বর্তমান টলিউড নিয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন রীনা। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ অনেক বদলেছে। আগে সম্পর্কের মূল্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বেশি ছিল, এখন অনেক ক্ষেত্রেই স্বার্থটাই বড় হয়ে দাঁড়ায়। কোনও সমস্যা বা বিতর্ক তৈরি হলে অনেকেই দূরে সরে যান, কিন্তু কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর মানুষ কমে গেছে। তবে এসব নিয়ে ব্যক্তিগত আক্ষেপ না রেখে তিনি নিজের কাজ নিয়েই এগিয়ে চলেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি গত ২৪ বছর যাত্রামঞ্চে কাজ করেছেন, পাশাপাশি বাবার অপ্রকাশিত চিত্রনাট্য নিয়েও ভবিষ্যতে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েন রীনা।
