জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

প্রথম রাতেই সায়ন্তনের আসল মুখ দেখল খেয়া! ‘ইচ্ছে পুতুল’-এর ‘গিনি-রূপ’ অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি দেখিয়ে কি এবার টিআরপি তালিকায় বাজিমাত করবে ‘জোয়ার ভাঁটা’? একই ফর্মুলা এবারও খাটবে, কি মনে হয় আপনাদের?

জি বাংলার ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta) ধারাবাহিকের গল্প এখন এমন এক মোড়ে পৌঁছেছে, যা নিয়ে দর্শকমহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে খেয়াকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিল উজি, কিন্তু ভালোবাসার মোহে পড়ে সে বারবার সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছে। শেষ পর্যন্ত সায়ন্তনের সঙ্গেই বিয়ে হয় খেয়ার। তবে বিয়ের পর থেকেই গল্পে এসেছে বড় মোড়। প্রথম রাতেই স্বামীর আচরণে চমকে যায় খেয়া এবং বুঝতে শুরু করে, যাকে এতদিন বিশ্বাস করেছে, তার আসল চরিত্র সম্পূর্ণ আলাদা! আর এই ঘটনাই দর্শকদের মনে ফিরিয়ে আনছে জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ইচ্ছে পুতুল’-এর (Icche Putul) বহুচর্চিত গিনি-রূপ অধ্যায়ের স্মৃতি।

অনেকের মতে, একই ধরনের একটি টানটান ট্র্যাক দেখিয়েই এবার বড় চমক দিতে চাইছে ‘জোয়ার ভাঁটা’। ‘ইচ্ছে পুতুল’-এর দর্শকরা জানেন, গিনি এবং রূপের সম্পর্ক শুরুতে নিখুঁত প্রেমের গল্প বলেই মনে হয়েছিল। অন্যদিকে মেঘ বারবার গিনিকে সতর্ক করার চেষ্টা করলেও সে সেই কথা বিশ্বাস করেনি। বরং মেঘের কথাকেই ভুল বলে মনে করেছিল। কারণ রূপের প্রতি তার অগাধ আস্থা ছিল। বাইরে থেকে ভদ্র, নম্র এবং যত্নশীল মনে হলেও রূপের চরিত্রের অন্ধকার দিক ধীরে ধীরে সামনে আসে। পরিবারের কাছের মানুষদের কথা না শুনে গিনি নিজের সিদ্ধান্তেই অটল ছিল। সেই কারণেই বিয়ের আগে পর্যন্ত রূপ সম্পর্কে প্রকৃত সত্য জানতে পারেনি সে।

ঠিক একইভাবে বর্তমানে খেয়াও মনে করেছিল, উজি নাকি তার সুখ সহ্য করতে পারছে না এবং অকারণেই সায়ন্তনের বিরুদ্ধে কথা বলছে। কিন্তু ‘ইচ্ছে পুতুল’-এর গল্পে বিয়ের পরেই বদলে যায় সবকিছু। রূপের নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ, অপমান, মানসিক চাপ এবং অত্যাচারের মুখোমুখি হতে হয় গিনিকে। একসময় পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হয় সে। তখনই গিনি উপলব্ধি করে, মেঘ যে সতর্কবার্তা দিয়েছিল, সেগুলো মিথ্যে ছিল না। কিন্তু সেই উপলব্ধি আসে অনেক দেরিতে। আর এখানেই ‘জোয়ার ভাঁটা’র বর্তমান ট্র্যাকের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন দর্শকরা।

কারণ বিয়ের পরের পর্বগুলোতে খেয়াও সায়ন্তনের এমন কিছু আচরণ দেখেছে, যা তাকে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। ইতিমধ্যেই সে বুঝতে শুরু করেছে, সায়ন্তন যতটা ভালো মানুষ বলে নিজেকে দেখিয়েছিল, বাস্তবে সে ততটা নয়। দর্শকদের একাংশের মতে, খেয়ার বর্তমান পরিস্থিতি গিনির অতীতের অভিজ্ঞতার সঙ্গে আশ্চর্যরকমভাবে মিলে যাচ্ছে। দু’জনেই এমন একজন মানুষকে বিশ্বাস করেছে, যে তাদের আবেগ এবং দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েছে। উজি যেমন বারবার খেয়াকে সাবধান করেছিল, তেমনই মেঘও গিনিকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু দু’ক্ষেত্রেই নায়িকারা সেই সতর্কবার্তা গুরুত্ব দেয়নি।

ফলে জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই তাদের সামনে এসেছে কঠিন বাস্তব। এখন প্রশ্ন উঠছে, খেয়ার জীবনেও কি আরও বড় ঝড় অপেক্ষা করছে? নাকি সময় থাকতে নিজের ভুল বুঝে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে সে? এই কৌতূহলই দর্শকদের ধারাবাহিকের প্রতি আরও আকৃষ্ট করে তুলছে। তবে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ‘ইচ্ছে পুতুল’-এর গিনি-রূপ ট্র্যাক একসময় টিআরপি তালিকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই অধ্যায় দর্শকদের আবেগ, রাগ, উদ্বেগ এবং সহানুভূতির মিশেলে বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

তাই এখন অনেকেই মনে করছেন, ‘জোয়ার ভাঁটা’ও হয়তো একই ধরনের আবেগঘন ও বাস্তবধর্মী ট্র্যাক দেখিয়ে দর্শকদের আরও বেশি করে টানতে চাইছে। খেয়ার জীবনে সায়ন্তনের অত্যাচারী মানসিকতার প্রভাব কতটা গভীর হবে এবং উজি শেষ পর্যন্ত তাকে রক্ষা করতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, ‘ইচ্ছে পুতুল’-এর সফল ফর্মুলা অনুসরণ করে এই নতুন ট্র্যাক কি ‘জোয়ার ভাঁটা’কে টিআরপি তালিকার শীর্ষে পৌঁছে দিতে পারবে? উত্তর মিলবে আগামী পর্বগুলিতেই।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page