জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“হ্যাঁ, কাজ পেতে আমি কম্প্রোমাইজ করি, করতেই হয়!” হঠাৎ এমন স্বীকারোক্তি কেন অন্বেষা হাজরার? অভিনেত্রীর মুখে এমন মন্তব্য শুনে চমকে উঠেছে নেটপাড়া! ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার লড়াইয়ের নেপথ্যে সামনে এলো কোন অজানা সত্য?

বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ‘অন্বেষা হাজরা’ (Anwesha Hazra) আজ দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হলেও তাঁর এই জায়গায় পৌঁছানোর পথ মোটেও সহজ ছিল না। সম্প্রতি শেষ হয়েছে তাঁর ধারাবাহিক ‘আনন্দী’। এরই মাঝে এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে অভিনয় জগতের নানান অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন তিনি। অন্বেষার কথায়, আজ তিনি নিজের পরিশ্রমে স্বপ্নের বাড়ি কিনতে পেরেছেন ঠিকই, কিন্তু তার আগে দীর্ঘ সময় ভাড়া বাড়িতে থেকেছেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কেটেছে। পরিবারের সমর্থন, বিশেষ করে বাবার উৎসাহ, সেই কঠিন সময়ে তাঁকে ভেঙে পড়তে দেয়নি।

একের পর এক অডিশন দিয়েও যখন কাজ মিলত না, তখনও তিনি বিশ্বাস হারাননি। বরং নিজেকে আরও প্রস্তুত করেছেন এবং অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসাকেই শক্তি হিসেবে ধরে রেখেছেন। সাক্ষাৎকারে কাজ পাওয়ার জন্য ‘কম্প্রোমাইজ’ প্রসঙ্গ উঠতেই অন্বেষার জবাব ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেন, হ্যাঁ, তিনি কম্প্রোমাইজ করেন, কিন্তু সেই আপস নিজের আত্মসম্মান বা নীতিবোধের সঙ্গে নয়। সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে বদলানো বা কঠোর পরিশ্রম করা এক ধরনের কম্প্রোমাইজ হতে পারে, কিন্তু কাজের জন্য নিজের মর্যাদা বিসর্জন দেওয়াকে তিনি কখনও সমর্থন করেন না।

তাঁর মতে, সাফল্যের শর্টকাট খুঁজে নেওয়ার চেয়ে ধীরে এগোনো অনেক বেশি সম্মানের। তাই কোনও সুযোগের জন্য নিজের মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করার কথা তিনি কখনও ভাবেননি। অভিনয় জগতের আরও একটি বাস্তব ছবিও তুলে ধরেন অন্বেষা। তাঁর মতে, ক্যামেরার সামনে যে জগতটা ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবে তার অনেকটাই আলাদা। বিশেষ করে নতুন শিল্পী বা জুনিয়র আর্টিস্টদের অনেক সময় প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয় না। সেটে কাজের পরিবেশ সবসময় সমান থাকে না বলেও তিনি জানান। অনেক ক্ষেত্রেই বৈষম্যের শিকার হতে হয় সহ-শিল্পীদের।

একজন অভিনেত্রী হিসেবে এই বিষয়গুলো তাঁকে কষ্ট দেয় বলেই অকপটে নিজের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, ইন্ডাস্ট্রিতে প্রত্যেক শিল্পীর প্রাপ্য সম্মান পাওয়া উচিত, তিনি বড় হোন বা ছোট। নিজের সংগ্রামের দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, কোনও গডফাদার ছাড়াই তাঁকে নিজের জায়গা তৈরি করতে হয়েছে। অডিশনের পর অডিশন দিয়েও বহুবার ব্যর্থ হতে হয়েছে। কিন্তু সেই ব্যর্থতাকে কখনও শেষ বলে মেনে নেননি তিনি। বরং প্রতিটি অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও শক্ত করেছে। তাঁর বাবা সবসময় বলতেন, সৎ পথে পরিশ্রম করলে একদিন না একদিন সুযোগ আসবেই।

সেই কথাই তাঁকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আজকের অবস্থানে পৌঁছে তাই অতীতের কঠিন দিনগুলো ভুলে যাননি অন্বেষা, বরং সেই স্মৃতিই তাঁকে মাটির কাছাকাছি থাকতে শেখায়। অন্বেষার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে একটি বিষয়, শুধুমাত্র প্রতিভা নয়, ধৈর্য, সততা এবং আত্মসম্মান নিয়েও এই ইন্ডাস্ট্রিতে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। তিনি মনে করেন, কাজের জন্য নিজের ব্যক্তিত্ব বা মর্যাদা বিসর্জন দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। সঠিক সুযোগ হয়তো সময় নিয়ে আসে, কিন্তু সেটা নিজের যোগ্যতায় অর্জন করার আনন্দ আলাদা।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page