বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ময়না বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও রাজনৈতিক মন্তব্য ঘিরে আলোচনায় উঠে এলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস-এর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ভোটের আগে সামাজিক মাধ্যমে দলীয় সমর্থনে একাধিক পোস্ট ও ভিডিওও শেয়ার করেছিলেন তাঁরা। সেই সময় থেকেই নানা সমালোচনা ও কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে এই তারকা দম্পতিকে। বিশেষ করে ‘চটিচাটা’ মন্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ট্রোলের শিকার হন তাঁরা। তবে এত কিছুর পরেও নিজেদের অবস্থান থেকে একটুও সরে আসেননি অর্ণব ও ময়না। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজনৈতিক সমর্থন বদলানোর কোনও ইচ্ছেই তাঁদের নেই। ভালো সময়ে যেমন পাশে থেকেছেন, তেমনই খারাপ সময়েও একইভাবে থাকবেন বলেই মত তাঁদের।
অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায় বহু বছর ধরে টেলিভিশন ও সিনেমায় কাজ করেছেন এবং ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর অভিজ্ঞতা প্রায় পঁচিশ বছরের। বর্তমানে তাঁকে পর্দায় কম দেখা গেলেও সামাজিক মাধ্যমে যথেষ্ট সক্রিয় তিনি। অন্যদিকে ময়না বন্দ্যোপাধ্যায় এখন ধারাবাহিকে মা বা কাকিমার চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পাচ্ছেন। পাশাপাশি তাঁর রিল ভিডিওও নিয়মিত ভাইরাল হয়। তবে অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেও বারবার চর্চায় উঠে আসেন তাঁরা। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন একাধিক তারকা ও তৃণমূল ঘনিষ্ঠ মুখ দলবদল করছেন, তখন অর্ণব ও ময়না নিজেদের অবস্থান আগের মতোই অটুট রেখেছেন। তাঁদের কথায়, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য বিশ্বাস পাল্টানো তাঁদের স্বভাবে নেই। তাই সমালোচনা হলেও তাঁরা নিজেদের মতাদর্শ লুকিয়ে রাখতে চান না। এই কারণেই আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এই দম্পতির নাম।
সাক্ষাৎকারে কথা বলতে গিয়ে অর্ণব ও ময়না জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার কারণেই তাঁরা কাজ পাচ্ছেন। সেই প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে দম্পতি বলেন, তাঁদের যোগ্যতা ও পরিশ্রমকে অস্বীকার করা ঠিক নয়। তাঁরা বলেন, দিনের পর দিন এমন মন্তব্য শুনতে খারাপ লাগে। একসময় যাঁদের সমর্থন করা হয়েছে, ভোটে হারলেই তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত নয় বলেও মত তাঁদের। একইসঙ্গে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি হওয়া নিয়েও আপত্তি জানান তাঁরা। অর্ণব বলেন, তিনি হিন্দু এবং ‘শ্রী রাম’ বলতে তাঁর কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না। তাঁদের দাবি, রাজনীতির বাইরে থেকেও একজন মানুষ নিজের মত প্রকাশ করতেই পারেন। সেই স্বাধীনতাকেই গুরুত্ব দিতে চান তাঁরা।
এই সাক্ষাৎকারেই ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি শুধুমাত্র একজনেরই ‘চটি চেটেছেন’, অন্য কারও নয়। তাঁর এই মন্তব্যকে সমর্থন করে অর্ণবও বলেন, ‘চটিচাটারও একটা ঐতিহ্য আছে’। উদাহরণ হিসেবে তিনি ভগবান রামচন্দ্র ও ভরতের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর কথায়, ভরত যেমন রামচন্দ্রের চটি মাথায় তুলে নিয়েছিলেন, তেমনই তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছেন। এই মন্তব্যের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ তাঁদের সাহসের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কটাক্ষ করেছেন। তবে সমালোচনা বা ট্রোল কোনোটাকেই বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ এই তারকা দম্পতি। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক সমর্থন ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয় এবং সেটি বদলানোর জন্য বাইরের চাপ কাজ করবে না। তাই তাঁরা নিজেদের অবস্থানে এখনও অনড়।
আরও পড়ুনঃ “দেব প্রোডাকশন হাউজের তরফ থেকে আজ পর্যন্ত কোনও কাজের অফার পাইনি…” ছোট পর্দার শিল্পীদের বারবার সুযোগ দিলেও ‘পরান যায় জ্বলিয়া রে’-র জনপ্রিয় অরিত্র দত্ত বণিককে কেন দূরে রাখলেন দেব? পিছনে তবে কি ছিল কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য?
দলবদল প্রসঙ্গেও এদিন সরব হন অর্ণব ও ময়না। তাঁদের মতে, যাঁরা আগে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেছেন, তাঁরাই এখন পরিস্থিতি বদলাতেই বিপরীত কথা বলছেন। দম্পতির দাবি, অনেকেই এখন বলছেন ভয়ে বা কাজ হারানোর আশঙ্কায় তাঁরা কোনও দলের সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টালে আবারও একইভাবে মত বদলাবেন তাঁরাই। অর্ণব ও ময়নার মতে, এই ধরনের অবস্থান অত্যন্ত স্বার্থপর মানসিকতার পরিচয় দেয়। সরকার পরিবর্তন মানেই আদর্শ বদলে ফেলা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, মানুষ ভুল করতেই পারে, রাজনৈতিক নেতারাও তার বাইরে নন। তাই শুধুমাত্র ক্ষমতার পালাবদলের জন্য পুরনো সম্পর্ক অস্বীকার করা তাঁরা সমর্থন করেন না। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন এই টলিউড তারকা দম্পতি।
