টেলিপাড়ায় এখন যে কয়েকজন তরুণ মুখ নিজেদের অভিনয় দিয়ে আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ‘আরাত্রিকা মাইতি’র (Aratrika Maity) নাম নিঃসন্দেহে উঠে আসে। ‘মিঠিঝোরা’ এবং ‘জোয়ার ভাঁটা’র মতো ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছে, টিআরপি তালিকাতেও যার প্রভাব স্পষ্ট। তবে ক্যামেরার সামনে যতটা সহজ দেখায়, ক্যামেরার বাইরের লড়াইটা ততটাই কঠিন! আর এই কথাটাই যেন বারবার প্রমাণ করে চলেছেন আরাত্রিকা।
অভিনয়ের ব্যস্ততার মাঝেও তাঁর জীবনে সমান গুরুত্ব পায় পড়াশোনা। ছোট শহর ঝাড়গ্রাম থেকে কলকাতায় এসে নিজের জায়গা তৈরি করার স্বপ্ন ছিল তাঁর, আর সেই স্বপ্নের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল শিক্ষাজীবন। প্রথমে তিনি রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ড্রামা নিয়ে অনার্সে ভর্তি হন। অভিনয়ের সঙ্গে বিষয়টার একটা স্বাভাবিক যোগও ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বপ্নটাই যেন চাপে পড়ে যায় বাস্তবের কাছে!
একদিকে দিনের পর দিন শ্যুটিং, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম, দুটোকে একসঙ্গে সামলানো তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ড্রামার মতো বিষয়ে নিয়মিত উপস্থিতি খুব গুরুত্বপূর্ণ, আর সেটাই বজায় রাখতে না পারার হতাশা তাঁকে পিছু ছাড়েনি। একটা সময় এসে বাধ্য হয়েই সেই কোর্স ছেড়ে দিতে হয় তাঁকে! নিজের পছন্দের বিষয়, নিজের মতো করে গড়ে তোলা স্বপ্ন, সবকিছু হঠাৎ থেমে যাওয়ার মতো একটা অনুভূতি তৈরি হয়েছিল।
একটা বছর নষ্ট হওয়ার আক্ষেপও রয়ে গেছে তাঁর কথায়। তবে, এখানেই থেমে থাকেননি আরাত্রিকা। নতুন করে পথ খুঁজে নিয়েছেন তিনি। এখন সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি অনার্স নিয়ে পড়ছেন। শ্যুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকেই চলে পড়াশোনা, মেকআপ রুমে বসে ক্লাস করা, নোটস তৈরি করা, এইভাবেই এগিয়ে চলেছেন তিনি। কাজের চাপ যতই থাকুক, নিজের ডিগ্রি সম্পূর্ণ করার ইচ্ছেটা স্পষ্ট।
আরও পড়ুনঃ ‘ক্ষমা না চাইলে কাজ নয়’ ছোটপর্দার পর এবার বড় পর্দায়েও বিতর্কে অভিনেতা! সহ-অভিনেতা থেকে স্পটবয়, সবার সঙ্গে আচরণ নিয়ে প্রশ্ন! পায়ে ধরে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে, ছবি থেকে আউট জিতু!
ভালো ফল করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি এখন নতুন করে নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনা কম নয়। সহ-অভিনেতা অভিষেক বীর শর্মার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব ও অনস্ক্রিন রসায়ন নিয়ে নানান জল্পনা চলছে। তবে, এইসব কিছুর মাঝেও আরাত্রিকা পরিষ্কার করে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে তাঁর মূল লক্ষ্য কেরিয়ার আর পড়াশোনা। অভিনয় আর বাস্তব জীবনের ভারসাম্য বজায় রেখে, নিজের মতো করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাতেই তিনি বিশ্বাসী।
