আজ সকালে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে ‘এরাও মানুষ’ ছবির সেট ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন অভিনেতা জিতু কামাল। এমনকী তিনি নাকি পরিচালকের পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন বলেও দাবি ওঠে। এই বিতর্ক নিয়ে পরে নিজেই মুখ খোলেন অভিনেতা। জিতু জানান, শুরু থেকেই ছবির শুটিংয়ে তারিখ নিয়ে সমস্যা চলছিল। নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়ার পর হঠাৎ দুদিন আগে আবার তা বদলে দেওয়া হত, আর এই ঘটনা একবার নয়, পাঁচ ছয়বার ঘটেছে। এতে তিনি অন্য কাজও করতে পারেননি এবং দীর্ঘ সময় বাড়িতে বসে থাকতে হয়েছে।
অভিনেতার কথায়, তিনি অন্য প্রযোজনা সংস্থার কাছেও দায়বদ্ধ ছিলেন। কিন্তু শুটিংয়ের অনিশ্চয়তার কারণে সেই কাজও ঠিকমতো করতে পারেননি। তিনি জানান, শুটিং ইউনিট থেকে প্রায়ই পিকআপ বা কল টাইম ঠিকমতো দেওয়া হত না। যেমন একদিন তাকে সাড়ে আটটার কল টাইম দেওয়া হলেও গাড়ি দেরিতে আসায় তিনি সেটে পৌঁছান সকাল ৯টায়। এই ধরনের অসংগঠিত ব্যবস্থার কারণেই কাজের পরিবেশ ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছিল বলে দাবি তার।
জিতু আরও অভিযোগ করেন, শুটিংয়ের শেষ দিন অর্থাৎ ১৬ মার্চ হঠাৎ অভিযোগ তোলা হয় যে তিনি মেকআপ করছেন না এবং সহযোগিতা করছেন না। তার মতে, ইউনিটের অনেকেই নতুন হওয়ায় শুটিং সংক্রান্ত কিছু নিয়ম তারা জানেন না। অভিনেতার দাবি, শুটিং শেষ হয়ে গেলে শিল্পীর অনুমতি ছাড়া তাকে বাদ দেওয়া বা তার ডাবিং অন্যভাবে করানো যায় না। কিন্তু এই বিষয়গুলো ইউনিট বুঝতে পারেনি বলেই সমস্যা বাড়ে।
এর পাশাপাশি অভিনেতা গুরুতর অভিযোগও করেন। তার দাবি, সেটে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং কেউ কেউ হাত তুলতে এগিয়ে আসে। এমনকী এক ব্যক্তি নাকি নেতামন্ত্রীদের নাম করে তাকে হুমকিও দেন। জিতু বলেন, এসব ঘটনার ভিডিও তার কাছে রয়েছে। তিনি আরও জানান, ধুলোবালির কারণে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এবং তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে ছবির প্রযোজনা সংস্থার তরফে অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “একটা বছর নষ্ট হল” অভিনয়ের চাপে স্বপ্নের ডিগ্রি অধরা! শ্যুটিং সামলাতে গিয়ে রবীন্দ্র ভারতী ছাড়লেন, তবু ‘জোয়ার ভাঁটা’র উজির মতো হার মানেননি বাস্তবের আরাত্রিকাও! নতুন করে ছন্দে ফেরার লড়াই! কোন বিষয় নিয়ে পড়ছেন অভিনেত্রী?
শুরু থেকেই জিতু ইউনিটের অনেকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। তাদের দাবি, অভিনেতা নাকি দিনে ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে চাননি এবং অতিরিক্ত সময়ের জন্য বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক দাবি করেন। আরও অভিযোগ, শুটিং শুরু করার কথা বললে তিনি নাকি পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাইতে বলেন এবং এরপর সেট ছেড়ে চলে যান। পরে নির্মাতারা তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছেন। জানা গেছে, ইতিমধ্যেই তাকে ১২ লাখের বেশি টাকা দেওয়া হয়েছে এবং ডাবিংয়ের বাকি পারিশ্রমিক নিয়েও এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
