জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

টেলিভিশনের দর্শকদের জন্য দারুন সুখবর! এবার পৌরাণিক কাহিনিতে ফিরছেন অর্পণ ঘোষাল! জি বাংলার ‘সতীপীঠ কালীঘাট’-এ কোন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেতাকে?

বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ অর্পণ ঘোষাল আবারও নতুন চরিত্রে দর্শকদের সামনে আসতে চলেছেন। সম্প্রতি মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবন অবলম্বনে তৈরি হতে চলা ‘গুনগুন করে মহুয়া’ ছবিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের খবর সামনে এসেছিল। সেই ছবিতে ‘নন্দন’ চরিত্রে তাঁকে দেখা যেতে পারে বলে জানা গিয়েছিল, যদিও নির্মাতাদের তরফে তখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। এবার টেলিভিশনের পর্দাতেও নতুন ভূমিকায় অর্পণকে দেখার অপেক্ষায় দর্শকরা। জি বাংলার আসন্ন ধারাবাহিক ‘সতীপীঠ কালীঘাট’-এ একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ফিরছেন তিনি। কালীঘাটের ইতিহাস এবং সেই সময়ের নানা ঘটনা ঘিরে তৈরি হচ্ছে এই ধারাবাহিক। জি বাংলার তরফেও ধারাবাহিকটির প্রচারে কালীঘাট মন্দিরের ইতিহাসের নানা জানা অজানা দিক তুলে ধরার কথা জানানো হয়েছে।

‘সতীপীঠ কালীঘাট’-এ অর্পণ ঘোষালের চরিত্রের নাম লক্ষ্মীকান্ত রায়চৌধুরী। কালীক্ষেত্রের মাটিতেই তাঁর জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। ছোট থেকেই তিনি ছিলেন অন্যরকম মানসিকতার মানুষ। অন্ধবিশ্বাসকে সহজে মেনে নেওয়ার বদলে যুক্তি দিয়ে সবকিছু বোঝার চেষ্টা করতেন লক্ষ্মীকান্ত। রাজা বসন্ত রায়ের তত্ত্বাবধানে তিনি অস্ত্রশিক্ষায় দক্ষ হয়ে ওঠেন। পাশাপাশি আত্মারামের সান্নিধ্যে থেকে লাভ করেন শাস্ত্রজ্ঞান। অর্থাৎ তাঁর চরিত্রের মধ্যে একদিকে যেমন রয়েছে যুদ্ধবিদ্যার দক্ষতা, তেমনই রয়েছে জ্ঞান এবং যুক্তিবোধ। সময়ের সঙ্গে এই লক্ষ্মীকান্তই হয়ে ওঠেন ঐতিহাসিক সাবর্ণ রায়চৌধুরী বংশের প্রতিষ্ঠাতা। ফলে ধারাবাহিকের গল্পে তাঁর চরিত্র যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, তা বলাই যায়।

লক্ষ্মীকান্ত রায়চৌধুরীর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কালীঘাটের ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। তাঁর উদ্যোগেই কালীঘাট মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয় বলে ধারাবাহিকের চরিত্র পরিচয়ে উঠে এসেছে। কালীঘাটের ইতিহাস নিয়েও বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের ভূমিকার কথা উঠে এসেছে। আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদনে বর্তমান কালীঘাট মন্দিরের সঙ্গে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের যোগসূত্রের উল্লেখ রয়েছে। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকেই এবার ধারাবাহিকের গল্পে তুলে ধরা হবে। ফলে অর্পণের চরিত্রটি শুধু একটি কাল্পনিক পার্শ্বচরিত্র নয়, বরং কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্বের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাঁর চরিত্রের চোখ দিয়েই সেই সময়ের কালীক্ষেত্র, বিশ্বাস, শিক্ষা এবং কালীমন্দির নির্মাণের পথচলার নানা দিক সামনে আসতে পারে।

অর্পণ ঘোষালের জন্যও এই চরিত্র নিঃসন্দেহে একটি নতুন ধরনের সুযোগ। এর আগে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে দর্শক দেখেছেন, আর এবার ঐতিহাসিক পটভূমিতে তৈরি ধারাবাহিকে এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করতে চলেছেন তিনি, যার সঙ্গে বাস্তব ইতিহাসের যোগ রয়েছে। বিশেষ করে লক্ষ্মীকান্তের চরিত্রে যুক্তিবাদী মানসিকতা, অস্ত্রশিক্ষা এবং শাস্ত্রজ্ঞানের মতো একাধিক দিক থাকায় অভিনয়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা স্তর। অন্যদিকে কালীঘাটের সঙ্গে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের সম্পর্কের ইতিহাসও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান কালীঘাট মন্দিরের নির্মাণের সঙ্গে এই পরিবারের নাম ঐতিহাসিক সূত্রে উঠে এসেছে। তাই অর্পণের এই নতুন চরিত্রকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

সব মিলিয়ে ‘সতীপীঠ কালীঘাট’ নিয়ে জি বাংলার দর্শকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কালীঘাটের প্রাচীন ইতিহাস, মন্দিরকে ঘিরে নানা কাহিনি এবং সেই সময়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিকটির গল্প এগোবে। আর সেই কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবেন অর্পণ ঘোষালের লক্ষ্মীকান্ত রায়চৌধুরী। কালীক্ষেত্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া এক যুক্তিবাদী তরুণ কীভাবে ধীরে ধীরে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন, সেটিই তাঁর চরিত্রের অন্যতম আকর্ষণ। একই সঙ্গে কালীঘাট মন্দির নির্মাণের উদ্যোগের সঙ্গে তাঁর যোগ কীভাবে গল্পে দেখানো হয়, সেদিকেও থাকবে নজর। ফলে নতুন ধারাবাহিকে অর্পণের এই ঐতিহাসিক চরিত্র কতটা ছাপ ফেলতে পারে, এখন সেটাই দেখার।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page