নতুন বছরের শুরুতেই ‘পরিণীতা’ (Parineeta) ধারাবাহিক ঘিরে এক অদ্ভুত আবেগ ছড়িয়ে পড়েছে দর্শকদের মধ্যে! কারণ, এই এদিন অভিনেতা সুব্রত গুহ রায় তাঁর সমাজ মাধ্যমের পাতায় একটি সাদা-কালো ছবি ভাগ করে এমন এক বার্তা দিয়েছেন, যা দেখে অনেকেই চমকে গেছেন! ছবিতে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ‘দ্রোণ মুখোপাধ্যায়’ (Dron Mukherjee), যিনি ধারাবাহিকে গোপাল চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করেছেন। লেখার ভাষা ছিল শান্ত, কিন্তু তার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল বিদায়ের ইঙ্গিতের মতো কিছু অনুভূতি!
ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন সুব্রত, তা স্পষ্ট না হলেও পোস্টটি ঘিরে কৌতূহল তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রসঙ্গত, দ্রোণ মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় জীবনটা বেশ চড়াই উতরাই পেরিয়েছে। একসময় ‘কার কাছে কই মনের কথা’ ধারাবাহিকে পরাগ চরিত্রের জন্য তাঁকে দর্শকের বিরক্তির মুখে পড়তে হয়েছিল। সেই নেতিবাচক ছাপ অনেক অভিনেতার ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন থেকে যায়। কিন্তু দ্রোণকে ‘পরিণীতা’র গোপাল চরিত্রে দেখে অনেকেই বুঝেছেন, সঠিক চরিত্র পেলে তিনি কতটা সংযত আর সংবেদনশীল অভিনয় করতে পারেন।
গ্রামের মানুষের সরলতা, স্ত্রীর প্রতি টান আর সহজ কথাবার্তার ভঙ্গি, মিলিয়ে গোপাল হয়ে উঠেছিল একেবারে আপন একজন। এই চরিত্রের জন্যই সম্প্রতি একটি টেলিভিশন অ্যাওয়ার্ডে সেরা পার্শ্বচরিত্র বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিলেন দ্রোণ। যদিও শেষ পর্যন্ত পুরস্কার তাঁর হাতে আসেনি, তবু মনোনয়নটুকুই অনেকের চোখে বড় স্বীকৃতি। সেই সময়েই সুব্রত গুহ রায় প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, ফল ঘোষণার মুহূর্তে তিনি নিজেও মনখারাপ করেছিলেন সহশিল্পীর জন্য। তাঁর মতে, গোপাল এমন এক চরিত্র যা দর্শক বারবার দেখতে চেয়েছে, আর পুরস্কার না পাওয়া মানেই সেই কাজের মূল্য কমে যায়।
ঠিক এই আবহেই সুব্রতের সাম্প্রতিক পোস্ট ঘিরে আলোচনা আরও বেড়েছে। তিনি লিখেছেন, “গোপাল আর দাদুর এটাই শেষ ছবি…তবে জীবন তো থেমে থেকে না… দ্রোনকে ভুলবো কি করে…ভালো থাকিস ভাই, সৃষ্টিতে থাকিস”, কথাগুলো পড়ে অনেকেরই মনে হয়েছে, হয়তো গোপাল চরিত্রের যাত্রা শেষের পথে। আবার কেউ কেউ ভাবছেন, দ্রোণ কি আদৌ ধারাবাহিক ছাড়ছেন? পোস্টে সরাসরি এমন কিছু বলা না থাকায় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তবে দর্শকদের কথায়, যে চরিত্রকে এতটা আপন করে নিয়েছে, তার সম্ভাব্য বিদায় মেনে নেওয়া সহজ নয়।
আরও পড়ুনঃ আনন্দের পার্টিতে হঠাৎ বদলে গেল ঋষির জীবনের সব হিসেব! ফাঁস ভয়ংকর সত্য, স্ক্রিনে খু’নের ভিডিও দেখে ভেঙে পড়ল উজি! যাকে মা’য়ের মতো আগলে রাখল, সেই ঋষির হাতেই দাদার মৃ’ত্যু! ‘জোয়ার ভাঁটা’য় আবেগের চরম ধাক্কা!
দ্রোণ অবশ্য বরাবরই বলে এসেছেন, পুরস্কারের চেয়েও দর্শকের ভালোবাসা তাঁর কাছে বড়। গোপাল হয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারাটাই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। হয়তো এই মুহূর্তে অনিশ্চয়তা আছে, কিন্তু টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে সহশিল্পীদের এমন মানবিক সম্পর্ক আর পারস্পরিক সম্মানই ভবিষ্যতের পথ দেখায়। সুব্রত গুহ রায়ের লেখার মধ্যেও সেই আশার কথাই ধরা পড়েছে যে জীবন থেমে থাকে না, কাজের মধ্যেই আবার দেখা হয়। গোপাল থাকুক বা না থাকুক, দ্রোণের অভিনয়যাত্রা যে এখানেই শেষ নয়, তা বিশ্বাস করেন দর্শকরাও।
