জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“মা চাইতো না আমি অভিনয় করি!” “আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিলাম না, নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ চালাতেই…” মাইক্রোবায়োলজি পড়তে এসে ‘পরিণীতা’র পারুল হয়ে ওঠার অপ্রত্যাশিত যাত্রার গল্প শোনালেন ঈশানী! আত্মবিশ্বাসেই ঘরে ঘরে দর্শকের মন জিতছেন তিনি!

আজ বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় যাঁকে সবাই ‘পারুল’ নামে চেনে, সেই ঈশানী চট্টোপাধ্যায়ের (Ishani Chatterjee) পথচলা কিন্তু একেবারেই পরিকল্পিত ছিল না। দুর্গাপুরের মেয়ে হয়ে, প্রথমে কলকাতায় এসেছিলেন পড়াশোনার জন্য। তখন লক্ষ্য ছিল অন্য পেশা, অন্য জীবন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থেকে সরে এসে মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়া শুরু করেছিলেন তিনি। অভিনয় তখনও জীবনের কেন্দ্রবিন্দু নয়, বরং বাস্তবের প্রয়োজনেই মাঝেমধ্যে মডেলিং করতেন, যাতে নিজের খরচ কিছুটা সামলানো যায়।

বাড়ির পরিস্থিতি খুব স্বচ্ছল না হওয়ায় মা সাহায্য করলেও, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছে ছিল তাঁর। অভিনয়ে আসার দরজা খুলেছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিতভাবে! তিনি কখনওই খুব বেশি সক্রিয় ছিলেন না সামাজিক মাধ্যমে, কাজের ছবিও নিয়মিত শেয়ার করতেন না। একদিন হঠাৎ করে একটি মডেলিংয়ের ছবি পোস্ট করার পরই নাকি বদলে যায় পরিস্থিতি! সেই ছবির নীচে মন্তব্যে আসে জি বাংলার তরফে যোগাযোগের ইঙ্গিত। যা প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি ঈশানী।

পরে যখন সত্যিই মুখ্য চরিত্রের প্রস্তাব আসে, তখন অবাক হয়ে গিয়েছিলেন তিনি নিজেই! কীভাবে এগোবেন, বুঝে উঠতে সময় লেগেছিল। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, “সেই সময় বিষয়টাকে মিথ্যে বলে মনে হয়েছিল। আমাকে এমন কিছু ভাল দেখতেও না আর অভিনয় কোনদিনও শিখিনি। তবুও গেলাম, কথাবার্তা হলো এবং মুখ্য চরিত্রের প্রস্তাব পেলাম। এক মুহূর্তও ভাবিনি, হ্যা করে দিয়েছি!” এই সিদ্ধান্তের জায়গাতেই সবচেয়ে বড় টানাপড়েন ছিল তাঁর পরিবার! অভিনেত্রীর মা প্রথমে চাইতেন না মেয়ে অভিনয়ের জগতে যাক।

পড়াশোনা থমকে যাওয়ার আশঙ্কা, অনিশ্চিত পেশার ভাবনা মিলিয়ে দুশ্চিন্তা ছিলই। তবু শেষ পর্যন্ত মেয়ের ইচ্ছের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াননি তিনি। ভাগ্যের টানে যে দরজা খুলেছে, সেটা বন্ধ করে দেওয়ার সাহস হয়নি মায়েরও! আজ ঈশানীর কথায় সেই সমর্থনের জায়গাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্তমানে ‘পরিণীতা’ ধারাবাহিকে পারুল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি এখন ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ। কিন্তু এই জায়গায় পৌঁছোনোর পথে কটাক্ষও কম শুনতে হয়নি। প্রসঙ্গত, গায়ের রং নিয়ে মন্তব্য, চেহারা নিয়ে সংশয়, সবই তীর হয়ে এসেছে তাঁর দিকে।

শুরুতে এসব কথা মনকে নাড়িয়ে দিত, নিজের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতেন তিনি। তবে, সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলেছেন। নিজের চেহারা বা রঙ নিয়ে লজ্জা নয়, বরং গর্ব করার জায়গাতেই দাঁড়াতে শিখেছেন! ঈশানীর পড়াশোনা এখনও শেষ হয়নি, সেটাও তাঁর মাথায় আছে। প্রথম কাজটাকে মন দিয়ে শেষ করে তারপর আবার পড়ার ফিরতে চান তিনি। তবু এই মুহূর্তে তাঁর জীবন যেন প্রমাণ দিচ্ছে, সব পথ আগে থেকে ঠিক করা থাকে না। মা না চাইলে কী হত, সে প্রশ্নের উত্তর হয়তো নেই। কিন্তু যেটুকু স্পষ্ট যে ভাগ্য, সুযোগ আর সাহস একসঙ্গে এলে জীবন অনেক সময় নিজের মতো করেই গল্প লিখে নেয়।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page