সম্প্রতি জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিয়াল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর সেটে অর্কজ্যোতি পাল চৌধুরীর জন্মদিনে নানা আলোচনা উঠে এসেছে। অর্কজ্যোতি, যিনি সিরিয়ালে পায়েল দে’র ভাই অর্ঘ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন, তার জন্মদিনে বেশ জমজমাট আয়োজন হয়েছিল। তবে, সেই উৎসবে এক অভাবনীয় দৃশ্য দেখা যায়। সিরিয়ালের নায়ক জিতু কমল ছিলেন একেবারেই আলাদা মেজাজে। তিনি অর্কজ্যোতির জন্মদিনের কেক মুখে না নিয়ে শুধু সৌজন্যবশত কেক তুলে দেন অর্কের মুখে। তার পাশেই ছিলেন অর্কের স্ত্রী দেবশ্রী। তবে, জিতুর মনোভাব দেখে সেটে উপস্থিত সবার চোখে পড়েছিল এক অস্বস্তিকর পরিবেশ।
যদিও সিরিয়ালের শুটিংয়ের পরিবেশ সাধারণত একতাবদ্ধ থাকে, এবার সেটের পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন ছিল। পায়েল দে এবং শিরিন, যাদের মধ্যে সম্পর্ক বেশ খারাপ হয়ে গেছে জিতুর সঙ্গে, তারা একদিকে এবং জিতু একা অন্যদিকে ছিলেন। বিশেষ করে শিরিনের অবস্থান এখন স্পষ্ট—তিনি জিতুর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন এবং তার করা অভিযোগগুলো সমর্থন করছেন। পায়েল দে, যিনি তার সোশ্যাল মিডিয়াতে জিতুকে ‘অহংকারী’ এবং ‘অসভ্য’ বলে কটাক্ষ করেছেন, সেই মন্তব্যে শুধু তিনি নয়, অর্কজ্যোতি ও শিরিনও সমর্থন জানিয়েছেন। আর এর পর থেকেই পরিবেশ ছিল উত্তপ্ত এবং শট দেওয়ার জন্যও কেউ কারও সাথে সঙ্গ দিতে চাইছিল না।
পায়েল দে জিতুর বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ তুলেছেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে, জিতু ছবির শুটিংয়ের সময় রাহুলের ছবি ধুলোয় ফেলে রেখে এসেছিলেন। তার মতে, সেটে যখন রাহুলের ছবি পড়ে ছিল, তখন যীশু সেনগুপ্ত এবং ইন্দ্রাশিস রায় সেই ছবিগুলো ভালো করে তুলে ফোরামের অফিসে রেখেছিলেন। পায়েলের প্রশ্ন ছিল, “জিতু কি রাহুলের ছবি নেওয়ার কথা ভুলে গিয়েছিলেন?” এই অভিযোগ নিয়ে পায়েলের মধ্যে ক্ষোভ জমে উঠেছিল, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকে দেওয়া হয়। পায়েল, যিনি রাহুলের বোনের মতো, এমন অমর্যাদা মেনে নিতে পারেননি, তার অভিযোগে যে তীব্রতা ছিল তা এখন সেটে ছড়িয়ে পড়েছে।
অর্কজ্যোতির জন্মদিনে একে অপরের থেকে দূরে থাকার এই ঘটনা এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সেটে কলাকুশলীদের মধ্যে দুটি শিবির তৈরি হয়ে গেছে। একদিকে পায়েল দে, শিরিন, এবং অর্কজ্যোতি রয়েছেন, অন্যদিকে একা রয়েছেন জিতু। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, মন্তব্য এবং বিতর্কের মধ্যে এমন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে যে, সেটের পরিবেশে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঝগড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়ে আসা খুবই দুঃখজনক, কারণ এর প্রভাব সরাসরি শুটিংয়ের পরিবেশে পড়ছে।
আরও পড়ুনঃ খুশির জোয়ার বিনোদন জগতে! দীপিকার পর, দ্বিতীয়বার মা হতে চলেছেন পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়! ইউটিউব ভ্লগে সুখবর ভাগ করে কী জানালেন অভিনেত্রী?
এখন প্রশ্ন উঠছে, জিতু কি সত্যিই দোষী নাকি তাকে পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করা হচ্ছে? একদিকে যখন পায়েল দে এবং তার সহযোগীরা জিতুর বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন, তখন অন্যদিকে তার দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিতর্ক থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা চুপচাপ থাকা নিয়ে অনেকে ভাবছেন। আপাতত, জিতু-শিরিন-পায়েল-অর্কজ্যোতির মধ্যে সৃষ্ট এই অশান্তি কবে সমাধান হবে, সেটি এখনো অজানা। তবে, যতটুকু স্পষ্ট, ততটুকু বলা যায় যে, এই মান-অভিমানের পালা মিটতে আরো অনেক সময় লাগবে।
