জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

নজরদারি আর বন্দিদশায় অতিষ্ঠ হয়ে সম্রাটের বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঝিনুকের! কিন্তু যাওয়ার আগে কোন বড় রহস্যের সমাধান করবে সে? ‘কমলা নিবাস’-এর আজকের পর্বে ঝিনুকের মোক্ষম চালে ফাঁস হবে এতদিনের গোপন সত্য?

জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) সাম্প্রতিক পর্বগুলিতে একসঙ্গে একাধিক সম্পর্কের টানাপোড়েন সামনে আসছে। বিশেষ করে ঝিনুক ও সম্রাটের সম্পর্ক এখন ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। অফিসে বসে সিসিটিভির মাধ্যমে ঝিনুকের গতিবিধি নজরে রাখছে সম্রাট। ঝিনুকের নানা কাণ্ড দেখে কখনও তার মুখে হাসি ফুটলেও, একইসঙ্গে তার রাগও বাড়ছে। ঝিনুককে নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দিতে একেবারেই রাজি নয় সে। বাড়ির বাইরে ঝিনুকের চলাফেরাতেও তার আপত্তি। এমন পরিস্থিতিতে সম্রাটের এই অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আর বন্দি জীবনের মতো পরিবেশে থাকতে থাকতে ঝিনুক এবার রীতিমতো ক্লান্ত। তাই সে জানিয়ে দিয়েছে, এই বাড়িতে আর থাকতে চায় না এবং সুযোগ পেলেই চিরতরে বেরিয়ে যাবে।

এদিকে ঝিনুকের জীবনে যখন এই অস্থিরতা চলছে, তখন সুপর্ণা নিজের পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত। আদির জন্য সে বর্তমান এমএলএর মেয়ের সঙ্গে বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে আসে। শুধু সম্বন্ধের কথা বলেই থেমে থাকেনি, মন্দিরে পরিকল্পনা করে আদির সঙ্গে সেই মেয়ের দেখাও করিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি আদির মায়ের বেশ পছন্দ হয় এবং বাড়ি ফিরে তিনি আদির বাবার কাছেও নিজের পছন্দের কথা জানান। কিন্তু মায়ের মুখে বিয়ের এই নতুন প্রস্তাবের কথা শুনে আদি বেশ অবাক হয়ে যায়। নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত অন্যদিকে এগিয়ে যাচ্ছে বুঝতে পেরে তার সামনে নতুন করে তৈরি হয় নানা প্রশ্ন।

গুহ বাড়িতেও মিঠিকে ঘিরে পরিস্থিতি খুব একটা স্বাভাবিক নয়। নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার খবর জানাজানি হতেই পল্লবীর বড় দিদি মিঠির পড়াশোনার খরচ নিয়ে কটাক্ষ করতে শুরু করে। ভালো স্কুলে পড়ানোর জন্য যে যথেষ্ট টাকা দরকার, সেই বিষয়টিকেই সামনে এনে পল্লবীকে একের পর এক কথা শোনানো হয়। মিঠির পড়াশোনার খরচ শ্রীনিবাস বাবু দেবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বড় দিদির এই কথাবার্তায় পল্লবী ভিতর থেকে কষ্ট পেলেও পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বিষয়টি যে সহজে থামবে না, তার ইঙ্গিত মিলছে কিছু ঘটনাতেও।

এদিকে মিঠিকে কেন্দ্র করে গুহ বাড়িতে আরও বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। পল্লবী স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, মিঠির জন্য কাউকে কোনও টাকা দিতে হবে না। কিন্তু ঠিক তখনই বড় মেয়ে নিজের টাকার প্রয়োজনের কথা জানিয়ে বসে। তার এই কথায় কমলা এবং শ্রীনিবাস দু’জনেই চমকে যান। অন্যদিকে আদিত্যর জীবনে ফিরে আসে পুরনো সম্পর্কের প্রসঙ্গ। আদিত্যর বাবা কৈলাশকে তাঁর পুরোনো বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করতেই আদিত্য সেই সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুরনো তিক্ততার কথা মনে করিয়ে দেয়। ফলে পরিবারের পরিস্থিতির মধ্যেই নিজের এবং পল্লবীর সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে ভাবতে শুরু করে সে।

সব মিলিয়ে ‘কমলা নিবাস’-এর আগামী পর্বে ঝিনুকের সিদ্ধান্তই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সে বুঝতে পারছে, সম্রাটের বাড়ি এবং তার জীবনের সঙ্গে এমন কিছু রহস্য জড়িয়ে রয়েছে যার উত্তর এখনও তার কাছে পরিষ্কার নয়। তাই বাড়ি ছাড়ার আগে সেই রহস্যের সমাধান করতেই মরিয়া ঝিনুক। একইসঙ্গে আদির সামনে একদিকে নতুন বিয়ের প্রস্তাব, অন্যদিকে পল্লবীর সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। মিঠিকে ঘিরে গুহ বাড়ির অর্থনৈতিক টানাপোড়েনও সেই জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। ফলে পরের পর্বে ঝিনুক কি সত্যিই রহস্যের সমাধান করতে পারবে, আর আদি কি পল্লবীর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কোনও পথ খুঁজে পাবে? সেদিকেই এখন নজর দর্শকদের।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page