জি বাংলার ‘পরিণীতা’ (Parineeta) ধারাবাহিকের কলেজ ট্র্যাক নিয়ে দর্শকদের আলোচনা যেন আরও জোরালো হচ্ছে। রায়ানকে ঘিরে যে র্যাগিংয়ের ঘটনা দেখানো হয়েছিল, তা প্রকাশ্যে আসার পর একদিকে যেমন তাঁর উপর হওয়া মানসিক নির্যাতন নিয়ে দর্শকদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন, তেমনই এবার নতুন পর্বের ঘটনাকে ঘিরে উঠছে সম্পূর্ণ উল্টো প্রশ্ন। কারণ যে রায়ান কয়েক বছর আগে নিজেই র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছিল, সেই চরিত্রকেই এবার ওমকারের সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করতে দেখা যাচ্ছে। আর এখানেই ধারাবাহিকের গল্প ও চরিত্রের ধারাবাহিকতা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তুমুল মতভেদ।
দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন, কয়েক বছর আগের সেই ঘটনার ট্রমা যদি এখনও রায়ানের মনে থেকে থাকে, তাহলে সে কীভাবে অন্য একজনকে র্যাগিং করতে পারে? শুধু সাধারণ মজা নয়, ওমকারকে অত্যন্ত অপমানজনক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। তাকে আন্ডারওয়্যার পরিয়ে লিপস্টিক লাগিয়ে স্পাইডার-ম্যানের মতো সাজানোর ঘটনাটি অনেকের কাছেই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া বলেই মনে হয়েছে। ফলে সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ সরাসরি গল্পের লেখনীর যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের মতে, যে চরিত্র নিজে র্যাগিংয়ের যন্ত্রণা অনুভব করেছে, তার কাছ থেকেই এমন আচরণ দেখানো হলে চরিত্রের আগের অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান আচরণের মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন।
এই অসঙ্গতি নিয়েই দর্শকদের একাংশ বেশ হতাশ। তাঁদের বক্তব্য, ‘পরিণীতা’র অন্যতম আকর্ষণ ছিল গল্পের মধ্যে যুক্তি এবং চরিত্রের আচরণের স্বাভাবিকতা। সেই ধারাবাহিকেই এখন এমন কিছু ঘটনা দেখানো হচ্ছে, যা তাঁদের চোখে আগের গল্পের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এমনকি কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, এই র্যাগিংয়ের ট্র্যাক না এনে পারুলের প্রেগন্যান্সির গল্পটিকে আরও গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেলে কি ধারাবাহিকের মূল গল্প আরও ভালোভাবে এগোতে পারত না? অর্থাৎ আপত্তিটা শুধু রায়ানের আচরণ নিয়ে নয়, বরং এই ট্র্যাকটি গল্পে আদৌ কতটা প্রয়োজনীয় ছিল, তা নিয়েও।
তবে এই মতের সঙ্গে একমত নন এমন দর্শকরাও রয়েছেন। তাঁদের ব্যাখ্যা, রায়ানের সঙ্গে অতীতে খারাপ কিছু ঘটেছিল বলেই তার আচরণ আরও বেশি সমস্যাজনক হয়ে উঠতে পারে। কোনও মানুষ দীর্ঘদিন মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হলে সবসময় যে সে সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হবে, এমনটা বাস্তবে নাও হতে পারে। উল্টে কখনও কখনও নিজের উপর ঘটে যাওয়া অন্যায়কেই স্বাভাবিক বলে ভাবতে শুরু করে কেউ কেউ। সেই কারণেই রায়ানের কাছে হয়তো র্যাগিং ধীরে ধীরে এমন একটি বিষয় হয়ে উঠেছে, যেটাকে সে নিজের সামাজিক অবস্থান বা ‘কুল’ ভাবমূর্তি বজায় রাখার অংশ হিসেবে দেখছে।
আরও একদল দর্শক এই আচরণকে মানসিকতার অন্য একটি দিক দিয়ে ব্যাখ্যা করছেন। তাঁদের মতে, যারা নিজেরা কোনও ধরনের হেনস্থার শিকার হয়, তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরবর্তীতে একই ক্ষমতার অবস্থান তৈরি করে অন্যের উপর সেই আচরণ প্রয়োগ করতে পারে। অর্থাৎ ভুক্তভোগী থেকে ক্ষমতাবান হওয়ার পর নিজের আগের অভিজ্ঞতাকেই অন্যের ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তি করা, রায়ানের ক্ষেত্রেও তেমন কোনও মানসিক পরিবর্তন দেখানো হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। এই ব্যাখ্যায় রায়ানের আচরণকে সমর্থন করা হচ্ছে না, বরং চরিত্রটির মানসিক পরিবর্তনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ মন্দিরে আচমকাই বিশেষ এক মেয়ের সঙ্গে দেখা, বাড়ি ফিরতেই তাঁর ব্যাপারে কোন খবর শুনে চক্ষু চড়কগাছ আদিত্যর? অজান্তেই কোন বিপদের সম্মুখীন হতে চলেছে সে? পল্লবীর সঙ্গে সম্পর্ক শুরুতেই হবে ছিন্ন? ‘কমলা নিবাস’-এর আজকের ফাটাফাটি পর্ব!
ফলে ‘পরিণীতা’র বর্তমান কলেজ ট্র্যাক নিয়ে দর্শকদের মত একেবারে দুই ভাগে বিভক্ত। কেউ মনে করছেন, রায়ানের আগের ট্রমার সঙ্গে নতুন আচরণ মিলিয়ে দেখলে এটি স্পষ্ট অসঙ্গতি এবং লেখার দুর্বলতা। আবার কেউ মনে করছেন, অতীতের নির্যাতনই হয়তো রায়ানের মানসিকতাকে এমন জায়গায় নিয়ে গিয়েছে, যেখানে সে ভুলভাবে মনে করছে অন্যকে হেনস্থা করাই শক্তিশালী বা গ্রহণযোগ্য হওয়ার উপায়। শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিক এই আচরণের কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার। কারণ রায়ানকে ঘিরে এই নতুন গল্প শুধু ওমকারের সঙ্গে কী ঘটল, সেই প্রশ্নই তুলছে না, একইসঙ্গে চরিত্রটির মানসিক পরিবর্তন কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে।
