জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) গল্প সাম্প্রতিক পর্বে একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে। একদিকে যেমন সম্রাটের আচরণ নতুন করে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে, অন্যদিকে আদিত্য ও পল্লবীর সম্পর্কেও দেখা গেছে এক ভিন্ন সমীকরণ। গল্পের প্রতিটি দৃশ্যই যেন পরবর্তী পর্বের জন্য নতুন কৌতূহল তৈরি করে দিয়েছে। রাজু ও ঝিনুককে একসঙ্গে দেখে সম্রাটের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া এদিন বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ভাই-বোনের স্বাভাবিক স্নেহের প্রকাশও সে মেনে নিতে পারছিল না।
তার চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল অস্বস্তি এবং চাপা আতঙ্ক। কারণ, এতদিনের সন্দেহ এবার প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে তার কাছে। সম্রাট বুঝে ফেলেছে, রাজুই আসলে সেই অর্জুন, যাকে ছোটবেলায় সে কুয়োর মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। বহু বছরের পুরনো সেই ঘটনার স্মৃতি যেন আবার ফিরে এসেছে তার সামনে। অতীতের সেই অপরাধ ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ই এখন সম্রাটের প্রতিটি আচরণে ফুটে উঠছে। অন্যদিকে আদিত্যকে নিয়ে পল্লবী ডাক্তারের কাছে গেলে একেবারে অন্যরকম একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পল্লবী যখন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত, তখন আদিত্য অদ্ভুত আচরণ শুরু করে। সুযোগ পেলেই সে পল্লবীর হাতে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করে। এই পুরো ঘটনাটি দেখে ডাক্তারও হাসি চেপে রাখতে না পেরে প্রশ্ন করেন, স্ত্রীয়ের হাত ধরতে এত ভয় কেন! ডাক্তারের এমন মন্তব্যে পল্লবী স্পষ্টই অস্বস্তিতে পড়ে যায়, যদিও পরিস্থিতির কারণে সে কিছুই বলে না। এরপর বাড়িতে ফিরে আদিত্যর ভাঙা হাতের কথা শুনে কমলা খুবই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ছেলের এই অবস্থা দেখে রাগের মাথায় সে অভিশাপ দেয়, যে এই ক্ষতি করেছে তারও যেন একদিন একই পরিণতি হয়।
কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে আদিত্য একেবারে উল্টো কথা বলে। সে কমলাকে শান্তভাবে জানায়, সে কখনওই চায় না যার জন্য এই ঘটনা ঘটেছে, তার কোনও ক্ষতি হোক। ঠিক সেই সময় ঘরে ঢুকে পল্লবী আদিত্যর এই কথাগুলো শুনে ফেলে। সে কিছু না বললেও তার নীরবতা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। কমলাও তখন পল্লবীকে বুঝিয়ে বলে, এত কষ্ট পাওয়ার পরও আদিত্য তার কোনও অমঙ্গল চাইছে না। এই পর্বের শেষদিকে আদিত্যর মনের কথা প্রকাশ পায়।
আরও পড়ুনঃ “মিলিয়ে নেবেন, একদিন আপনার অতিরিক্ত বাচালতার জন্যই ছেলেটা বি’পদে পড়বে!” বাড়ির পর, একরত্তি ছেলেকে নিয়ে শো-অফের জেরে ট্রো’লের মুখে মা মানসী সেনগুপ্ত! অভিনেত্রী কড়া জবাবে চুপ করালেন সমালোচকদের?
বাইরে থেকে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও মনে মনে সে স্বীকার করে, যাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসে, তার ক্ষতি সে কোনওদিনই চাইতে পারে না। অন্যদিকে সম্রাটের মনে বাড়তে থাকা ভয় এবং রাজুর পরিচয় নিয়ে তার অস্থিরতা গল্পকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে আগামী পর্বে একদিকে সম্রাটের অতীতের সত্যি সামনে আসে কি না, অন্যদিকে আদিত্যর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পল্লবীর মন ছুঁতে পারে কি না, এই দুই প্রশ্নের উত্তর জানার অপেক্ষাতেই থাকবেন দর্শকরা।
